ঢাকা১৯ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. ! Без рубрики
  2. Echt Geld Casino
  3. test2
  4. অপরাধ
  5. অর্থনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আরো
  8. এক্সক্লুসিভ
  9. খেলাধুলা
  10. জাতীয়
  11. তথ্য প্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  14. বাণিজ্য
  15. বিনোদন

খাদ্যে সর্বগ্রাসী ভেজালের শেষ কোথায়?

admin
এপ্রিল ২১, ২০২৪ ১০:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শেখ ফয়সল আমীন:

মুরগির মাংস ও মাছে এন্টিবায়োটিক, হলুদ ও লবণে সিসা, মুড়িতে হাইড্রোজ, মিষ্টিতে কাপড়ের রং, শাকসবজি-ফলমূলে ফরমালিনসহ শত শত প্রাণঘাতী পন্থা আমাদের সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থাকে চরম হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এ কারণে ক্যানসার, লিভার সিরোসিসসহ নানা রকম অসংক্রামক রোগে আমরা আক্রান্ত হচ্ছি। কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের ১৬ ভাগ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত, যার মূল কারণ রাসায়নিক পদার্থমিশ্রিত খাদ্যগ্রহণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস প্রতিবেদন (২০২৩) বলছে, দেশে শিশুমৃত্যুর হার বেড়েছে এবং কমেছে মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু। এই পরিস্থিতির পেছনে ভেজাল খাদ্যেরও দায় অনেক। এটা তো গেল স্বাস্থ্যগত দিক। এটার আর্থিক দিক যদি নিরূপণ করা হয়, তবে সেটি হবে ভয়াবহ। যারা দেশের ভেতরে চিকিত্সা নিচ্ছে, তাদের আর্থিক ব্যয়ের তথ্য পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর সর্বশেষ (২০২১ সাল) তথ্যমতে, বিদেশে চিকিত্সা গ্রহণ করতে যাওয়া রোগীর পরিবারের বছরে ব্যয় হচ্ছে ৪০০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

যে কোনো অপরাধ প্রশমনে সরকারের দায়িত্ব থাকে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ এবং সচেতনতা সৃষ্টি করা। আর সমাজ ও নাগরিকের দায়িত্ব হচ্ছে সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ। পাশাপাশি ভেজাল খাদ্য ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সচেতনভাবে ও সামাজিকভাবে বর্জন করা। কারণ জনসম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা ছাড়া শুধু প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ও তত্পরতায় এই বিপুল-বিস্তৃত মরণঘাতী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’ নামে একটি আইন আছে। সেই আইনে বিষাক্ত দ্রব্যের ব্যবহার, তেজস্ক্রিয়, ভারী ধাতু ইত্যাদির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, ভেজাল খাদ্য বা খাদ্যোপকরণ উত্পাদন, আমদানি, বিপণনসহ নিম্নমানের খাদ্য উত্পাদন, খাদ্য সংযোজন দ্রব্য বা প্রক্রিয়াকরণ সহায়ক দ্রব্যের ব্যবহার, শিল্পকারখানায় ব্যবহূত তেল, বর্জ্য, ভেজাল বা দূষণকারী দ্রব্য ইত্যাদি খাদ্য স্থাপনায় রাখা, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ, বৃদ্ধি প্রবর্ধক, কীটনাশক, বালাইনাশক বা ওষুধের অবশিষ্টাংশ, অণুজীব ইত্যাদির ব্যবহার, বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকৃত খাদ্য, জৈব খাদ্য, ব্যাবহারিক খাদ্য, স্বত্বাধিকারী খাদ্য ইত্যাদি খাদ্য মোড়কীকরণ ও লেবেলিং, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উত্পাদন, বিক্রয়, রোগাক্রান্ত বা পচা মত্স্য, মাংস, দুগ্ধ বিক্রয়, হোটেল-রেস্তোরাঁ বা ভোজনস্থলের পরিবেশনসেবা, ছোঁয়াচে ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্বারা খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত, নকল খাদ্য উত্পাদন, বিক্রয়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের নাম, ঠিকানা ও রসিদ বা চালান সংরক্ষণ ও প্রদর্শন, অনিবন্ধিত অবস্থায় খাদ্যদ্রব্য উত্পাদন, বিক্রয় ইত্যাদি বিজ্ঞাপনে অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রস্তুত, মুদ্রণ বা প্রচারসংক্রান্ত বিধিনিষেধের সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে।

পাশাপাশি এ আইনের ব্যত্যয় হলে শাস্তির বিধিবিধানও বিধৃত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই আইনের অধীন জারি করা পরোয়ানা তল্লাশি, গ্রেফতার ও আটকের বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান প্রযোজ্য হয়। এখানে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থাও রয়েছে। ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে এই আইনে। আর  অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে অপরাধীকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে নিরাপদ খাদ্য আদালত। যদিও এই আইনের খসড়ায় প্রথমবার কেউ অপরাধ করলে সাত বছর এবং দ্বিতীয়বার ধরা পড়লে ১৪ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ভেজাল প্রতিরোধে সর্বোচ্চ কঠোর পন্থা অবলম্বনই শ্রেয় ছিল। Forbes ম্যাগাজিন If You Are A Manufacturer Of Adulterated Food Can You Face Fines And Jail? শিরোনামে ৯ জুন ২০১৫ তারিখে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। নিবন্ধের লেখক Bill Marler পেশাগতভাবে একজন আইনজীবী, যিনি খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করে থাকেন। তার সেই নিবন্ধ থেকে জানা যায়, Odwalla Inc. নামে একটি মার্কিন খাদ্য উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভেজাল খাদ্য বাজারজাতকরণের অপরাধে ১৯৯৮ সালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১.৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনতে বাধ্য হয়েছিল। তিনি ২০১৫ সালের আরেকটি উদাহরণের কথাও বর্ণনা করেছেন। যেখানে ConAgra Foods নামক একটি প্রতিষ্ঠান সালমোনেলা (একধরনের নেতিবাচক ব্যাকটেরিয়া) মেশানো পিনাট বাটার সরবরাহের কারণে ১১.২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে বাধ্য হয়।

আমাদের দেশে যখন বড় বড় কোম্পানিগুলো খাদ্যদূষণের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, যখন শোনা যায় নামিদামি ব্র্যান্ডের লবণে আয়োডিন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, মেয়াদোত্তীর্ণ তেল পুনরায় বাজারজাত করা হচ্ছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো শাস্তির কঠোর উদাহরণগুলো অনুসরণীয় বলে মনে হয়। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে আইন ও সরকারি উদ্যোগ এবং তত্পরতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও ভূমিকা খুবই প্রয়োজন। কারণ সমাজ একটি মৌলিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ফলপ্রসূ কার্যকারিতা রয়েছে। খাদ্যদূষণের বিরুদ্ধে তাই সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আপনার আমার পাশে বা সামনে যদি এমন খাদ্যদূষণযজ্ঞ চলতে দেখা যায়, তাহলে সম্মিলিত প্রয়াসে সেই সব অপরাধীকে রুখতে হবে। আইনের হাতে সোপার্দ করতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে জড়িত ব্যক্তিদের। গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে আনতে হবে সেই সব চক্র ও অপতত্পরতা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ জনহিতকর নানা প্রতিষ্ঠানকে খাদ্যদূষণবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে হবে।

তবে মোটা দাগে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (বাংলাদেশ পুলিশ), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মত্স্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, খাদ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করে রুটিন মাফিক তদারকি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ফরমালিনসহ রাসায়নিক দ্রব্যাদি, কীটনাশক, ভেজাল মিশ্রণ আমদানিকারক, বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে হবে। এসব পণ্যের বাজার মনিটরিং করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্য উত্পাদন, প্রস্তুত, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত মানুষদের মধ্যে এমন অপরাধপ্রবণতা কীভাবে এত প্রকট হলো, সে বিষয়ে সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। মনোবিশ্লেষণের মধ্য দিয়েই অসত্ খাদ্য ব্যবসায়ীদের ভালোর পথে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, একটি সুস্থ জাতি ও প্রজন্মের বিকাশে দূষণমুক্ত খাদ্যের নিশ্চয়তা খুবই প্রয়োজন। সরকার ও তার অর্গানসমূহ নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। এখন জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে সচেতন ও কর্তব্যপরায়ণ নাগরিক হিসেবে, খাদ্যদূষণমুক্ত বাজারব্যবস্থা নিশ্চিতের অংশীজন হিসেবে। তবেই নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা সৃষ্টি হবে।

লেখক: কলামিস্ট ও বিশ্লেষক

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।