ঢাকা১৬ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. ! Без рубрики
  2. Echt Geld Casino
  3. test2
  4. অপরাধ
  5. অর্থনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আরো
  8. এক্সক্লুসিভ
  9. খেলাধুলা
  10. জাতীয়
  11. তথ্য প্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  14. বাণিজ্য
  15. বিনোদন

পিটার হাস, কিছু কী এগোলো?

admin
অক্টোবর ২৬, ২০২৩ ৬:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিপ্লব কুমার পাল

 

আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের দিন রাজধানীর প্রবেশ মুখ বন্ধ করা হবে কী না, এনিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রশ্ন করা, না করা নিয়ে চলছে বিতর্ক। এরই মধ্যে মার্কিন দূতাবাস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবিৃতি পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে। পিটার হাস বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ‘সড়ক বন্ধ’ করা নিয়ে রাষ্ট্রদূতের কোন আলোচনা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন ঘোলাটে। কোনটা ঠিক সেটা বুঝতে পারছে না মানুষ। সেই সত্য মিথ্যা বুঝতে না পারলেও তিনি যে সরাসরি বিএনপির পক্ষে দূতিয়ালিতে নেমেছেন এটা কিন্তু পরিস্কার। কারণ এর আগে কোন দলের পক্ষ হয়ে কোন রাষ্ট্রদূতের এমন পদক্ষেপ আর দেখা যায়নি।

 

একটি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা কী ফেলনা হওয়ার সুযোগ আছে? তাছাড়া তিনি সেটা বলবেনই বা কেন? কিন্তু পিটার হাসের কিন্ত এই সত্য লুকানোর যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। কারণ একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোন দলের পক্ষে যায় এমন কিছু করাটা কূটনৈতিক শিষ্ঠাচারের বাইরে। কিন্তু কাজটি তিনি করছেন। আবার সেটা প্রকাশ হলে তিনিসহ তার দেশ খানিকটা বিব্রত হয়। তাছাড়া যেখানে এমন শিষ্ঠাচার ভাঙার ঘটনা যেখানে বার বার ঘটছে, সেখানে নতুন করে কিছু বলার দরকার পড়ে না। যেকোনো মানুষ বুঝে ফেলবে কে সত্য লুকাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বারবার তার এই শিষ্ঠাচার ভাঙার বিষয়টি সামনে আসছে? আরেক ধাপ এগিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে, আরও এরকম কতগুলো বিষয় সামনে আসছে না। তার আগে আমরা আলোচনার সুবিধার জন্যে এরকম আরও একটি উদাহরণ দেখে নিতে পারি।

 

এ বছরের মে মাসের শেষে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। তখন জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের  যুক্তরাষ্টের ভিসা দেয়া হবে না। ওই ঘোষণার প্রায় চার মাসের মাথায় ২২ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক বিবৃতিতে জানান, তার দেশ ভিসানীতির প্রয়োগ শুরু করেছে। এর মধ্যেই ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিটার হাস বলেন, আগামীতে গণমাধ্যমও ভিসানীতিতে যুক্ত হবে। সঙ্গে সঙ্গে তোলপাড় হলো ঢাকা থেকে ওয়াশিংটন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের পক্ষে রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে চিঠি দেয়া হয়। সেখানে সম্মানিত  সম্পাদকেরা জানতে চান, ‘গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে এটি কেন কোন যুক্তিতে ব্যবহার করা হবে? এখানে কোন কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে?

 

এই চিঠির জবাবে হাস খানিকটা ঘুরিয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রত্যেক ভোটার, রাজনৈতিক দল, সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী, সুশীল সমাজ এবং মিডিয়ার ভূমিকা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাদের নিজ নিজ ভূমিকা পালনের সুযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে যারা বাধা দেবে আরা স্যাংশনের আওতায় আসবে। ৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘ভিসা নীতির নামে সংবাদমাধ্যমে মার্কিন চাপের প্রতিবাদ’ শীর্ষক এক সমাবেশ অনুষ্ঠিতি হয়। এখানে ধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, পিটার হাস দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীন ভূমিকা ও মর্যাদা নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণমাধ্যমের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল। এনিয়ে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও প্রতিবাদ করেন।

 

সব শেষ কথা বলেছেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, ভিসানীতি আরও স্পষ্ট করার দরকার । বিশেষ করে, গণমাধ্যম সম্পৃক্ততার কথা শোনা যাচ্ছে, কিন্তু ভিসা নীতির কোথাও এরকম কোন আভাস নেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কেন এটা বললেন? এটা নিশ্চয়ই সেই দেশ খতিয়ে দেখবে। এর পরপরই পিটার হাসের এমন বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তাদের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার স্পষ্ট করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের ওপরই শুধু ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এর পর থেকে খানিকটা চুপ মেরে যান পিটার হাস। সবশেষ গত ২২ অক্টোবর আবার বের হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ২৮ অক্টোবর বিএনপির কর্মসূচির কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না জানতে চান এবং পরে অস্বীকার করেন। দেশের সাবেক একাধিক কূটনতিক বলছেন, হাস বারবার ভিয়েনা কনভেনশন পরিপন্থী কূটনৈতিক শিষ্টাচার-বহির্ভূত আচরণ করছেন।

 

হাস সবচয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দেন ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর। সেদিন ছিল বাংলাদেশের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। নিখোঁজ সাবেক ছাত্রদল নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের রাজধানীর শাহীনবাগের বাসায় যান। সুমনের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নানা বিতর্ক রয়েছে। অথচ ওইদিন বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে  না গিয়ে, তিনি গেলেন একটি বিতর্কিত এালাকায়। এপ্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছিলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসে কতজন নিখোঁজ হয়, কতজন নারী ধর্ষিত হয়, কতজন খুন হয়? সে হিসেব এবং ব্যাখ্যা কী হাসের কাছে আছ? আসলে আমাদের প্রচলিত জানার বাইরে, পৃথিবীর সবখানে বহু ঘটনা ঘটে যেটা তদন্ত সাপেক্ষ। কোন কোন ঘটনার তদন্তে দীর্ঘ সময় লাগে।

 

সেদিন বড় বিতর্কের জন্ম দেন, ‘মায়ের কান্না’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা। তাদের দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি দিতে গেলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস তাদের কথা না শুনে এড়িয়ে যান। অথচ ‘মায়ের কান্না’র কাছেও একাধিক নিখোঁজের ঘটনা ছিল।  এই ঘটনায় সমালোচনা করেন ৩৪ বিশিষ্ট নাগরিক। এনিয়ে গণমাধ্যমে তারা বিবৃতি দেন। তারা এ ধরনের আচরণ কূটনৈতিক দায়িত্বের পর্যায়ে ফেলা যায় কিনা, নাকি এর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি জড়িয়ে পড়লেন এবং বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষভুক্ত হলেন কিনা, এনিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

 

এবছর ফেব্রয়ারি মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের পর আরেকটি হুমকি দেন পিটার হাস। তিনি বলেন, ডেটা সুরক্ষা আইন যদি ডেটা স্থানীয়করণের প্রয়োজনীয়তাকে কঠোরভাবে অনুসরণ করার শর্ত দিয়ে অনুমোদন করা হয়, তাহলে বর্তমানে বাংলাদেশে কাজ করছে এমন কিছু আমেরিকান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের বাজার ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে পারে। রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে ‘বাংলাদেশে অনলাইন স্বাধীনতা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 

একইভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে যদি কোম্পানিগুলোকে ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্ট বা বিষয়বস্তুর কারণে অপরাধের দায় নিয়ে ফৌজদারি আইনের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে তারা এখানে তাদের ব্যবসায় বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকবে। এর পরিণতি বাংলাদেশের জন্য খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রায় ২,০০০ এরও বেশি স্টার্টআপকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হতে পারে। প্রতিদিন যে কোটি কোটি বাংলাদেশি ব্যবহারকারী তাদের সেবা নিচ্ছেন, তারা আর এই সেবাগুলো পাবেন না। অনেকটা মামার বাড়ির আবদারের মত। একটি দেশে ব্যবসা করবেন কিন্তু সেই দেশের আইন মানবেন না। আইন লঙ্ঘন করে ফৌজদারি অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না!

 

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। তাদের নিজস্ব পররাষ্ট্র নীতি আছে। অথচ বাংলাদেশের সাথে চীনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব নিয়ে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করছেন পিটার হাস। চীনের নিয়ন্ত্রণহীন প্রভাব ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্ত শাসনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আর ঋণের বিষয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন তিনি ও তার দূতাবাস। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস ও বেইজিং এর পররাষ্ট্র দপ্তর। বাংলদেশকে নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছেন হাস।

 

পিটার হাসের এমন কর্মকাণ্ডে প্রায় সবাই বলছেন, তিনি অভ্যন্তরীণ রাজনীতে হস্তক্ষেপ করছেন। তিনি যা যা করছেন তার সবই একটি দলের পক্ষে যাচ্ছে। অনেকদিন ধরেই তিনি কাজটা করছেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদ যত কমছে তিনি ততই প্রকাশ্য হচ্ছেন বিরোধী পক্ষে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের হেনরি কিসিঞ্জার হয়ে উঠতে পারছেন কী? কিম্বা এতে বিএনপি কতটা লাভবান হতে পারছে?

 

এবছর মে মাসে বাংলাদেশ সকল রাষ্ট্রদূতদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় এই সিদ্ধান্ত। বিশ্বের কোনো দেশেই রাষ্ট্রদূতদের এমন ভিআইপি প্রটোকল দেওয়া হয়না। এরপরই প্রথম অসন্তোষ জানায় মার্কিন দূতাবাস। হাস বিষয়টি নিয়ে দেন-দরবার শুরু করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে মন্ত্রীর কাছ থেকেও বিষয়টি নিয়ে জানতে চান। হাস নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে গাড়ির পতাকা নামিয়ে চলাফেরা করতে থাকেন। এমাসেই তিনি বাংলাদেশ আনসারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছেন। সরকারের দেয়া ফর্মুলায় তিনি এখন টাকা দিয়ে সেবা নেবেন।

 

সরকার আছে তার নিজস্ব গতিতে। সবই চলছে নিয়মমত। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মালামাল চলে গেছে বিভাগীয় শহরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ওয়াশিংটন সফরে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আবারও তিনি সেখানে আগামী নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার কথা বলে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেউ কখনো বলছে না যে বিএনপির তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে করতে হবে। সবাই বলছেন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে। সেই দিকেই সব কিছু এগোচ্ছে। শুধু থেমে আছে বিএনপি। আর তার হাত ধরে আছেন পিটার হাস।

 

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।