ঢাকা২১ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. ! Без рубрики
  2. Echt Geld Casino
  3. test2
  4. অর্থনীতি
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আরো
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. দেশজুড়ে
  12. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  13. বাণিজ্য
  14. বিনোদন
  15. মতামত
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপি আসলে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো

admin
ডিসেম্বর ২৫, ২০২৩ ৫:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজামুল হক বিপুল

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলছে নানারকম আলোচনা-সমালোচনা। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এই ভোট নাকি অংশগ্রহণমূলক নয়। কারণ বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। আর বিএনপি এই নির্বাচনকে বলছে, আমি, তুমি, ডামির নির্বাচন। এ কথা বলার পাশাপাশি আন্দোলনে বরাবর ব্যর্থ বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করতে নানামুখী কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিশেষ করে ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে যেরকম নির্বাচন প্রতিহতের নামে সহিংসতার পথ বেছে নিয়ে নিয়েছিল, ঠিক একইভাবে আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনও তারা প্রতিহত করতে মরিয়া। আর তাদের এই কাজে নানাভাবে আড়ালে-আবডালে থেকে কেউ কেউ বা কোনো প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, এবং কতিপয় বিদেশি রাষ্ট্র তাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে।

 

হরতাল-অবরোধ ডেকে পিকেটিংয়ের জন্য মাঠে কর্মী নামাতে না পারলেও দলটি যে সাধারণ জনমনে ভয়-আতঙ্কের একটা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং করে যাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

 

রাজনীতির মাঠে বিএনপির জনসমর্থন থাকলেও আন্দোলনে তার কোনো প্রভাব নেই। যার ফলে জ্বালা-পোড়াওয়ের মত সহিংসতা ছড়িয়ে তারা বুঝাতে চায় এটা জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে এবং তাতে জনগণের সায় আছে। অথচ নিরীহ জনগণকে পুড়িয়ে কারোরই কোনো সায় থাকার কথা নয় এবং সেটা নেই।

 

আগামী ৭ জানুয়ারি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তাতে বিএনপি অংশ নেয়নি। কিন্তু নির্বাচন যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে এবং হবে এ নিয়ে আপাতত কোনো সন্দেহ নেই। নির্বাচনি মাঠের চিত্র সেই আভাসই দিচ্ছে। এমন চিত্র দেখে আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি এখন একদিকে যেমন হাপিত্যাস করছে, অন্যদিকে তারা নির্বাচন প্রতিহত করতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভোট নিয়ে উৎসব দেখা যাচ্ছে তাতে বিএনপির শেষ চেষ্টাটাও ভণ্ডুল হবে বলে মনে হচ্ছে।

 

বলছিলাম নির্বাচনে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে থাকলে সেই উৎসব আরও বেশি উৎসবমুখর হয়ে উঠতো তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে নেই বলে যে মানুষ ভোটে যাবে না, ভোট দিবে না এটা একেবারেই অমূলক ধারণা। হয়তো বিএনপি সমর্থক ভোটারদের একটা বড় অংশ কেন্দ্রে না যেতে পারে। কিন্তু নির্বাচন যেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাতে ভোটাররা এখন ৭ জানুয়ারির অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

 

দেশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে যেসব তথ্য জানতে পেরেছি তাতে দেখা যাচ্ছে, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, সিলেট থেকে পঞ্চগড়, রূপসা থেকে পাথরঘাটা কিংবা সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন সর্বত্রই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

অনেক আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হওয়া প্রভাবশালী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ধরাশায়ী হতে পারেন এমন জোরালো তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। এর বাইরে অন্তত ১৩০টির বেশি আসনে মাঝারি থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থী। যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত। এর বাইরে বিএনএম, বিএনএফ ও তৃণমূল বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরা ছাড়াও আরও অনেক শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন। সব মিলিয়ে যারা নির্বাচনকে জমিয়ে তুলেছেন।

 

এবারের নির্বাচন যে ২০১৪ বা ২০১৮-এর মত মতো হবে না—এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। এবার কাউকে বিজয়ী করে আনা হবে এমনটা ভাবলে ভুল করবেন। নির্বাচন করে ভোটারদের ভোটেই জিতে আসতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এটা ঠিক যে, যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তাদের বড় অংশই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত। কিন্তু তারা যে ডামি প্রার্থী বা নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য দাঁড়িয়েছেন কিংবা রংঢং করার জন্য দাঁড়িয়েছেন তেমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

 

সুনামগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বর্তমান সংসদ সদস্য জয়া সেন গুপ্ত নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার জন্য কিংবা তামাশা করার জন্য দাঁড়াননি। দাঁড়িয়েছেন ভোটে জেতার জন্য। একইভাবে সুনামগঞ্জ সদর আসনে প্রার্থী হওয়া জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ তার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হওয়া মোহাম্মদ সাদিককে ছেড়ে কথা বলবেন না।

 

সুনামগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদের সদস্য মোয়োজ্জেম হোসেন রতন ও সংরক্ষিত আসনের সদস্য শামীমা রহমান। তাদের প্রতিপক্ষ নৌকার প্রার্থী রঞ্জিত বিশ্বাস। এখানে ত্রিমুখী লড়াই হবে। কারণ কেউ তার সাম্রাজ্য ছাড়তে চান না।

 

সিলেট-৬ আসনে নৌকার প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে আছেন। এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল বিএনপির সভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সারোয়ার হোসেন। তিনজনই শক্তিশালী প্রার্থী। সুতরাং এখানে কেউ সহজে ছাড় পাবেন না।

 

নরসিংদী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের ফেলে দিয়েছেন সাইফুল ইসলাম খান বীরু। তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় রাজনীতিক। এই আসনে শিল্পমন্ত্রীর জন্য জয় নিয়ে আসা খুবই কঠিন। একইভাবে নরসিংদী-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল। এই আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

 

মেহেরপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর আব্দুল মান্নান।

 

এভাবে আরও বহু আসনের কথা তুলে ধরা যাবে। এতে লেখা শুধু দীর্ঘই হবে। সুতরাং যারা বলছেন বা বলার চেষ্টা করছেন নির্বাচন হচ্ছে প্রহসন বা তামাশার কিংবা আমি, তুমি, ডামি- তাদেরকে একটু খোঁজ-খবর নেওয়ার অনুরোধ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে দেখেন আসলেই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ হচ্ছে কি-না? শুধু ইট-পাথরের খাঁচায় বন্দি এসি রুমে বসে থেকে বিবৃতি আর গল্প না বলে আসল চিত্রটা দেখে-শুনে কথা বলেন। তাহলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে। দেশ উপকৃত হবে।

 

আবারও বলছি, বিএনপি নির্বাচনে আসলে নির্বাচন আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো। কিন্তু বিএনপি তো নির্বাচনে আসতে চায় চায় না। তারা ক্ষমতায় যাওয়ার নিশ্চয়তা চায়। সে জন্য তারা নির্বাচনে আসেনি। যদি নির্বাচনে আসতো তাহলে তারা বিরোধী দলে বসতো। এতে তো তারেক রহমানের কোনো লাভ হতো না। কারণ তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত ও স্বেচ্ছায় নির্বাসনে আছেন সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওই পাড়ে। বিএনপি বিরোধী দলের আসনে বসলে তিনি তো বিরোধী দলীয় নেতা হতে পারবেন না। যেহেতু তিনি বিরোধী দলের নেতা হতে পারবেন না, সেহেতু তিনি কোনোভাবে চাননি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিক।

 

যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি, সে কারণে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে— বিএনপির ভাষায় তারা কোনো প্রার্থী নয়। আর এই যুক্তি দিয়েই বিএনপি নির্বাচনকে তামাশার নির্বাচন বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কিন্তু বিএনপি আদৌও এই প্রচারে সফল হবে কি না সেটা জানা যাবে ৭ জানুয়ারি। আমার বিশ্বাস, ওই দিন দেশে ভোটের উৎসব হবে। মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাবে। ভোট দিবে পছন্দের প্রার্থীকে। আর এর মধ্য দিয়েই ভোট প্রতিরোধের সব অপচেষ্টা, অপপ্রচার ভেসে যাবে।

 

লেখক: সাংবাদিক।

 

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।