ঢাকা২২ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. ! Без рубрики
  2. Echt Geld Casino
  3. test2
  4. অর্থনীতি
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আরো
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. দেশজুড়ে
  12. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  13. বাণিজ্য
  14. বিনোদন
  15. মতামত
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপি: জিয়ায় উৎপত্তি, খালেদায় বিকাশ, তারেকে বিনাশ

admin
জানুয়ারি ২, ২০২৪ ৮:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মিনার সুলতান

 

একেবারে গোল্ডফিশ না হলেও অনেকটা ভুলোমনা বাঙালি জাতি অসাংবিধানিক ও অবৈধ শক্তির পকেটে জন্ম নেয়া কিংস পার্টি বিএনপির ইতিহাস ভুলে গেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক সংবিধান লংঘনকারী ও অসাংবিধানিক শাসক হিসেবে ঘোষিত জিয়ার কারফিউ গণতন্ত্রের কথা আমরা ভুলে গেলেও ইতিহাসে সঠিকভাবেই লিপিবদ্ধ আছে।

 

সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে তা পাকাপোক্ত করতে কখনো বন্দুকের নলকে ব্যবহার করেছেন,কখনো ৭১ এর পরাজিত শক্তিকে ব্যবহার করেছেন। সর্বশেষ সামরিক শাসকের উর্দি খুলে পুরোদমে রাজনীতিবিদ হওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। আর রাজনীতিবিদ হলে তো দরকার একটি রাজনৈতিক দলের,সেজন্যই সামরিক ছায়াতলে গড়ে তুলেছিলেন বিএনপি নামক দলটি। সাধারণ মানুষের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষার বাইরে গঠিত হওয়া বিএনপিকে জিয়াউর রহমানের পর পরিচালনা করেছেন খালেদা জিয়া, আর বর্তমান মূমূর্ষু বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছে জিয়া-খালেদাপূত্র তারেক রহমান।

 

জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যেভাবে গঠিত হয় বিএনপি

১৯৭৫ সালের ১১ নভেম্বর বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, “আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি একজন সৈনিক। রাজনীতির সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই এবং আমাদের সরকার সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও অরাজনৈতিক।” মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জিয়াউর রহমানের রাজনীতিবিদ সাজার সেই থেকে শুরু। পাকিস্তানের সেনাপতি আইয়ুব খান যেভাবে নিজেকে ধাপে ধাপে ক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন,জেনারেল জিয়াও তার পদাঙ্ক অনুসরন করেই এগুতে থাকেন এবং অবশেষে গন্তব্যে পৌছে যান।

 

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং সেনাপ্রধানের পদ দখল: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে জিয়া তার প্রথম ধাপটি সম্পন্ন করে।এই হত্যাকাণ্ডের আরেক অন্যতম কুশীলব খন্দকার মুশতাক ১৬ আগস্ট প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা দখল করে এবং ২৪ আগস্ট জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে ক্ষমতার দৃশ্যপটে চলে আসে।

 

মুক্তিযোদ্ধা সেনা আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা: সেনাপ্রধান হয়েই সবার আগে জিয়া সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরানোর নামে তাকে চ্যালেঞ্জ জানানো সেনা অফিসারদের হত্যা করতে লাগলেন,হত্যা করলেন মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের,আওয়ামি লীগের জাতীয় চার নেতাও বাদ যায়নি তার রোষানল থেকে,জেলখানায় বন্দী অবস্থায় তাদের নির্মম্ ভাবে হত্যার নির্দেশ দিলেন।এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য করা দালাল আইন বাতিল এবং বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রক্ষাকবচ হিসেবে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করলেন।

 

প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ দখল: ১৯৭৫ সালের ৬ নভেম্বর দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার পান প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।তিনি একই সাথে দেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক উভয়ক্ষেত্রেই বিচারপতি সায়েম ছিলেন ক্ষমতাহীন। মূল ক্ষমতা ছিল জিয়ার হাতে।১৯ নভেম্বর জিয়া তার ক্ষমতার ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতি আবু সাদাম মোহাম্মদ সায়েমের কাছ থেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদটি কেড়ে নেয়।

 

রাষ্ট্রপতির পদ দখল: বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হয়ে বলেছিলেন-“সম্ভব হলে ’৭৭ এর ফেব্রুয়ারির আগেই নির্বাচন।কিন্তু জিয়াউর রহমান নির্বাচন দিতে চাননি।নির্বাচন হলে জিয়া তার অভীষ্ট লক্ষে কোনভাবেই পৌছাতে পারবেনা। তাই ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি সায়েমকে বন্দুকের নলের ভয় দেখিয়ে নিজেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দখল করে বসে।

 

হ্যাঁ / না ভোট আয়োজন ১৯৭৭: একই সাথে দেশের রাষ্ট্রপতি,সেনা প্রধান এবং প্রধান সামরিক আইন শাসক জিয়াউর রহমান। সেনাবাহিনীতে দৃশ্যত তাঁকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কেউ ছিলনা। দেশের ভেতরে রাজনৈতিক বিরোধীরা বিভক্ত, বিচ্ছিন্ন এবং দিশেহারা। তারপরেও জিয়াউর রহমানকে প্রমাণ করতে হবে, তাঁর পেছনে জনসমর্থন আছে; শুধু বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় বসেননি।

 

সামরিক শাসনকে পর্যায়ক্রমে বৈধ করার জন্য জিয়া নানামুখী তৎপরতা শুরু করে। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে  তার রাষ্ট্রপতি নিয়োগকে বৈধতা দেয়ার জন্য প্রথমেই আয়োজন করে হ্যাঁ/না ভোটের।মূলত এই হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমেই বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া শুরু করে।এতে ভোটার উপস্থিতি ২ শতাংশের নিচে হলেও দেখানো হয় ৮৮ শতাংশ। আর প্রদত্ত ভোটের ৯৮ শতাংশই দেখানো হয় জিয়ার পক্ষে। ভোটার উপস্থিতির এ হার মোটেও বিশ্বাসযোগ্য ছিল না। হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে শুধু রাজনৈতিক বৈধতার একটি ছাড়পত্র তৈরি করেছিলেন জিয়াউর রহমান।

 

প্রহসনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৭৮: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোন সরকারি চাকরিজীবি ও সরকারি বেতন গ্রহীতার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হবার সুযোগ ছিলনা।কিন্তু জিয়া সকল আইন ভঙ্গ করে ১৯৭৮ সালের ৩জুন নির্বাচনে অংশগ্রহন করে। আর্মি, পুলিশ এবং সরকারি চাকরজীবীদের ন্যাক্কারজনকভাবে তার পক্ষ অবলম্বন করতে বাধ্য করা হয়। প্রহসনের এই নির্বাচনে প্রকাশ্য ও গোপন কারচুপির মাধ্যমে শতকরা ৭৬ ভাগ ভোট নিজের দেখিয়ে জিয়া রাষ্ট্রপতি বনে যান। ১৫ ডিসেম্বর এক ফরমান জারির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে সব ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে করে নিজের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নেয়।

 

জাগদল গঠন: দিন দিন রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনমুখী রাজনীতি শুরু হলে জিয়াউর রহমান একটি রাজনৈতিক ফ্রন্ট গঠনের পরিকল্পনা করতে থাকেন।, যাতে করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটা বিস্তৃত প্লাটফর্ম বানানো যায়। একটা নির্দিষ্ট দর্শন ও কর্মসূচির চেয়ে তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পাল্টা একটা বড়সড় মঞ্চ তৈরি করা। সে লক্ষে ১৯৭৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ‘ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল’ বা ‘জাগদল’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল তৈরির ঘোষণা দেন। তিনি নিজে থাকলেন নেপথ্যে। জাগদলের আহবায়ক করা হল জিয়ার একান্ত অনুগত ভাইস প্রসিডেন্ট আব্দুস সাত্তারকে।

 

জাগদল থেকে বিএনপি: সে সময় জাগদল রাজনীতিতে তেমন ঢেউ তুলতে পারেনি। রাজনৈতিক মাঠের চেনা মুখগুলো জাগদলে খুব কমই যোগ দিয়েছিল।এছাড়া চতুর জিয়া অল্প সময়ের মধ্যেই বুঝতে পেরেছিল, জোটের মধ্যে শতভাগ অনুগত একটা দল না থাকলে জোটকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তাঁদের একতার একটাই ভিত্তি ছিল, তারা সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এককাট্টা। নানান মত ও পথের জাগদল নিয়ে জিয়াউর রহমান স্বস্তিতে ছিলেন না। তিনি ‘একমনা’ লোকদের নিয়ে আলাদা দল তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন। ১৯৭৮ সালের ২৮ আগষ্ট ‘জাগদল’ বিলুপ্তির ঘোষণা করা হয়। আর ১লা সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমান নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন, যার নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, সংক্ষেপে বিএনপি। একই সাথে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন।

 

খালেদা জিয়ার হাত ধরে যেভাবে বিকশিত হয় বিএনপি

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।