ঢাকা১৯ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. ! Без рубрики
  2. Echt Geld Casino
  3. test2
  4. অপরাধ
  5. অর্থনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আরো
  8. এক্সক্লুসিভ
  9. খেলাধুলা
  10. জাতীয়
  11. তথ্য প্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  14. বাণিজ্য
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় শেখ হাসিনার ভূমিকা

admin
ডিসেম্বর ১৭, ২০২৩ ১১:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাহুল ভট্টাচার্য্য

 

জলবায়ু বিষয়ক কর্মকাণ্ডে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের পক্ষে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা—সমর্থিত বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট মোবিলিটি এই বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্লাইমেট মোবিলিটি চ্যাম্পিয়ন লিডার অ্যাওয়ার্ড—এ ভূষিত করেছে।

 

২০১৫ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ পুরস্কার পেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধারে একজন গবেষক, পরিকল্পনা প্রণয়নকারী এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে ‘রোল মডেল’। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে এখন যে সিপিপি মডেল অনুসরণ ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, এর পথিকৃৎ ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালেই জাতির পিতা সাইক্লোন প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্যোগ—পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের পরিবর্তে টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করেছেন। তাঁর উদ্ভাবনী অভিযোজন ও প্রশমন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমানে জলবায়ু স্থিতিশীল দেশে পরিণত হয়েছে। তাঁর সরকার ২০০৯ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ক্লাইমেট ট্রাস্ট তহবিল গঠন করে। এ পর্যন্ত ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে প্রায় ৮০০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনকে প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদী ডেল্টা প্ল্যান—২১০০ এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। ২০২২ সালে চালু করেছেন জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা যেটিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

২০৫০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের জলবায়ুর দুর্বলতাকে জলবায়ু সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’গ্রহণ করেছেন। এ পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা ৩০ শতাংশে উন্নীত করা, টেকসই কৃষি রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকায়নসহ জলবায়ু সহনশীলতার জন্য একটি রূপান্তরমূলক কৌশলের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

 

সম্প্রতি দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম’ (বিসিডিপি) নামের ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যে তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় হবে সহযোগিতামূলক পদ্ধতিতে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সুষ্ঠু প্রশমন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ওপর প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় সরকার এ পর্যন্ত ৭ লাখেরও বেশি দুর্যোগ সহনশীল বাড়ি নির্মাণ করে সেগুলো বিনামূল্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের হাতে তুলে দিয়েছে। জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসনে কক্সবাজারে নির্মাণ করা হয়েছে ১৩৯টি পাঁচতলা ভবন।

 

সরকার ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং ও পুনঃখনন করেছে এবং প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে যা ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২২৯ কিলোমিটার নদী তীর সুরক্ষা বাঁধ সম্পন্ন করা হয়েছে। দুর্যোগ থেকে সুরক্ষার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৩০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষ ও গবাদিপশুকে আশ্রয় দিতে মাটি উঁচু করে ৫৫০টি মুজিব কিল্লা নির্মাণাধীন রয়েছে।

 

দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা ও দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা জানতে মোবাইলে ‘১০৯০’ নম্বরে টোল ফ্রি সার্ভিস চালু করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি ডিজিটাল তথ্য এবং পরিসেবা কেন্দ্রগুলোকে প্রাথমিক সতর্কতা প্রদানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

এই পদক্ষেপের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ‘রূপকল্প—২০৪১’ বাস্তবায়নে ‘আঞ্চলিক আবহাওয়া ও জলবায়ু সেবা প্রকল্পের আওতায় আবহাওয়া তথ্য সেবা ও আগাম সতর্কবাণী পদ্ধতি জোরদারকরণ (কম্পোনেন্ট—এ)’ চলমান রয়েছে যার ফলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও যুগোপযোগী হয়ে উঠবে। পাঁচটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার, নয়টি ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং ১৪টি নদী বন্দরে নৌ—দুর্ঘটনা প্রশমনের লক্ষ্যে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া স্থাপন করা হয়েছে তিনটি স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন। দুইটি আধুনিক ডপলার রাডার স্থাপনের কাজ চলছে। দেশের ১৩টি উপকূলীয় জেলায় স্যাটেলাইট টেলিফোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে জানে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় স্থানীয়ভাবে গৃহীত অভিযোজনমূলক ব্যবস্থার ফলে মানুষ এখন প্রকৃতির বৈরিতার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শিখেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু দেশে যেমন জাতীয়ভাবে অগ্রাধিকার পেয়েছে, একই সঙ্গে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণেও জোরালো ভূমিকা রেখেছে। জলবায়ু সংকট মোকাবেলার লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে এখন বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিচ্ছে।

 

বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত দুইবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জোট ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে। বাংলাদেশ সভাপতি থাকাকালীন সময়েই এই ফোরাম জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।

 

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার ব্যাপারে ২০০৯ সালের কোপেনহেগেন সম্মেলন থেকেই বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান নিয়েছিল যা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কপ ২৬ সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোটের পক্ষে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু তহবিলের পরিমাণ বাড়ানো ও তা পাওয়ার শর্ত শিথিলের পক্ষে অবস্থান নেয়। ঐ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়।

 

অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় বাংলাদেশের মত স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নের মাধ্যমে সহায়তার দায়িত্বটা জলবায়ু দূষণকারী ধনী দেশগুলোর কাঁধেই বর্তায়। ধনী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রাখছে না বলে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক ফোরামে এ ব্যাপারে বরাবরই সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।

 

২০২১ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমন্ত্রণে দুই দিনব্যাপী ‘লিডার্স সামিট’-এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বনেতাদেরকে জলবায়ুর ক্ষতি প্রশমন ও পুনর্বাসনে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার ফান্ড নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। এ বছর ২৮ নভেম্বর জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা, আইওএম কাউন্সিলের ১১৪তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বাস্তুচ্যুতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। গত দুই দশকে বাংলাদেশে ১৮৫টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। জলবায়ু ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি আছে এ দেশের উপকূলীয় এলাকার মানুষ ও প্রকৃতি। বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা মাত্র ০.৪৭ শতাংশ হলেও ক্লাইমেট ভালনারেবল ইনডেক্স অনুযায়ী বিশ্বের ১৯২টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।

 

জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক বিপর্যয় যা মোকাবেলায় বাংলাদেশের মত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর আশা ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথিবী রক্ষার এক অসম লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা এবং দূরদর্শিতা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।

 

বঙ্গবন্ধু তাঁর সারা জীবন শোষিতের পক্ষে ছিলেন। তাঁর কন্যাও পিতার পদাঙ্কই অনুসরণ করেছেন। বৈশ্বিক এই সংকটে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মুখপাত্র হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

 

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।