ঢাকা১৬ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. ! Без рубрики
  2. Echt Geld Casino
  3. test2
  4. অপরাধ
  5. অর্থনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আরো
  8. এক্সক্লুসিভ
  9. খেলাধুলা
  10. জাতীয়
  11. তথ্য প্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  14. বাণিজ্য
  15. বিনোদন

সংঘাতবিহীন নিরঙ্কুশ বিজয়েও যখন অখুশি টিআইবি

admin
জানুয়ারি ২১, ২০২৪ ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ড. হাসান মো. আল ইমরান

 

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে ভোট দিয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার। যদিও বিএনপির মত রাজনৈতিক দল অংশ নিলে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো, ভোটারের উপস্থিতিও বাড়তো।

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। এই বিজয় জনগণের বিজয়। বাংলাদেশের ৮০ ভাগ মানুষ দরিদ্র ছিল। বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষ যেন উন্নত জীবনের অধিকারী হতে পারে। আমরা সরকারে এসে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করি।

 

স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও যেখানে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে হারিয়ে ৬২ টি আসন জয় করে নিয়েছে, সেখানে বিএনপির মতো বড় দল নির্বাচনে অংশ নিলে আরও অনেক আসন পেতে পারতো।

 

বরাবরের মতো টিআইবি সমালোচনার ধুয়ো তোলার চেষ্টা করে বলেছে, এবারের নির্বাচন অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি। এ নির্বাচন দেশের গণতন্ত্র ও ভবিষ্যত গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭ই জানুয়ারির ভোটে ২৯৯ টি আসনের মধ্যে টিআইবি ৮টি বিভাগের ৫০টিকে গবেষণা প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে। টিআইবির গবেষণা পদ্ধতি যাই হোক না কেনো তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সত্য নয়।

 

এরই মধ্যে সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির ভাষা আর টিআইবির ভাষা মিলে গেছে। রিজভী আহমেদ প্রতিদিন প্রেস কনফারেন্স করে যে কথাগুলো বলেন, সেগুলোকে একটু পরিশীলিতভাবে টিআইবি বলেছে মনে হয়।

 

গভীরে না গিয়েও বলা যায়, টিআইবি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাজটি সম্পন্ন করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে তারা ৩শটির মধ্যে ৫০টি নির্বাচনী এলাকার নমুনা নিয়েছে, তারা কতগুলি ভোট কেন্দ্রের নমুনা নিয়েছে তার কোনও উল্লেখ সেখানে নেই। তাদের ছিল মাত্র ৩ জন গবেষক এবং ৪ জন গবেষণা সহকারী। এত অল্প সময়ে এত ছোট টিম দিয়ে নির্বাচনের পুরো মেকানিজম জরিপ করতে পারলেন কী করে?

 

অথচ এই টিআইবি বিএনপির কোনো কর্মকাণ্ডকে সমালোচনা বা চ্যালেঞ্জ করার প্রয়োজন বোধ করে না। ২০১৪ সালের মত এবারও নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সরকার পতনের এক দফা দাবি তুলে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জ নিলো না। ২০১৩-১৪ সাল থেকে দেশের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন হয়েছে, বিএনপির নেতৃত্ব সেই বাস্তবতাকে ধারণ করতে পারছে না।

 

পুরোনো পথে যে বেশি দূর অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়, বিএনপির নেতৃত্ব সে বিষয়টি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ২০২৩-২৪ সালে এসে ২০১৩-১৪ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা সফল না হওয়াই স্বাভাবিক। আর তাই চতুর্থবারের মতো রেকর্ড নজির গড়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

 

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হলেও জাতীয় আন্তর্জাতিক নানা সংকটের ফলাফলে দেশে মূল্যস্ফীতিসহ বেশ কিছু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে শক্তিশালী বিরোধী দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারলে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হতো। কিন্তু নির্বাচন বর্জন করে বা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা দুঃখজনক। প্রকৃতপক্ষে বিদেশি শক্তির প্রতি নির্ভরশীলতা বিএনপিকে বারবার একই পথে পরিচালিত করছে।

 

নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা কম হয়নি। হরতাল অবরোধের নামে ট্রেনে আগুন ধরিয়ে মানুষ হত্যা, বাস পোড়ানো, কেন্দ্র পোড়ানো সবই হয়েছে। বিদেশি কিছু মহল নানাভাবে হুমকি ধামকি, স্যাংশনের ভয় দেখিয়ে গেছে। এত কিছুর মধ্যেও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যথেষ্ট সংখ্যক ভোটার ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে গেছেন।

 

সব আসনে না হলেও অনেক আসনে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি নির্বাচনকে জমিয়ে তুলেছিল। সব মিলিয়ে এই নির্বাচন ক্ষমতাসীনদের কৌশলকেই বিজয়ী করেছে। কৌশলের খেলায় গতানুগতিক আচরণ করে বিএনপি মাঠেই থাকতে পারেনি।

 

একথা মনে রাখতে হবে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা না থাকলে বিভিন্ন পরাশক্তি নানাভাবে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে তৎপর থাকবে। এ সময় দেশি বিদেশি বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের অশুভ উদ্দেশ্যকে প্রতিহত করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ও দেশকে সুরক্ষিত রাখার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।

 

সুতরাং আমাদের দেশের আত্মমর্যাদা রক্ষায়, দেশে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী সরকার অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে চাঙা করার ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলার সংকট মোকাবিলা করা হবে এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

 

বিভিন্ন ব্যাংকের তরল সংকট মোকাবেলা করে দুর্নীতিবাজ ও ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করে জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে হবে। সেই পথে বাধা বিপত্তি আসলেও জনগণকে সাথে নিয়ে তা মোকাবিলা করতে শেখ হাসিনা পারবেন, সে প্রত্যাশা করাই যায়।

 

কথায় নয়, টিআইবির কথার জবাব এই সরকার দিবে তাদের কাজের মধ্য দিয়ে। তবে সেটাও টিআইবির নজরে পড়বে সে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

 

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।