ঢাকা২৩ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. ! Без рубрики
  2. Echt Geld Casino
  3. test2
  4. অর্থনীতি
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আরো
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. খেলাধুলা
  9. জাতীয়
  10. তথ্য প্রযুক্তি
  11. দেশজুড়ে
  12. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  13. বাণিজ্য
  14. বিনোদন
  15. মতামত
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হারানো প্রভাতফেরির দিনগুলো

admin
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলে মনের অজান্তেই স্কুলজীবনে ফিরে যাই। হাজারো রংবেরঙের স্মৃতি মিশে আছে দিনটিতে। ২১ তারিখের আগেই স্কুলে নাচ, গান, কবিতা, আবৃত্তি, বক্তৃতাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগীর নাম নেওয়া হতো। আগের দিন মাথায় ঘুরত ফুল কীভাবে সংগ্রহ করব।
চৌধুরী বাড়ি থেকে পা ফেলেই আরেক বাড়ি। সে বাড়িতে ফুলের বেশ সমাহার; কিন্তু সেখানে হাত দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। বাড়িতে বিচার এলে অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। ফুলে ভরপুর ওই বাড়ির গাছগুলো দেখলে মনে হতো আমাদেরও কেন এমন সুন্দর সুন্দর ফুল গাছ নেই। আর তখনই ভাবতাম, আমরাও এমন গাছ লাগাব। একবার অনেকগুলো গাছ লাগিয়েছিলাম। বেশ কিছু গাঁদা ফুল ছিঁড়ে মাটিতে ফেলেছিলাম, গাছ হবে এই আশায়; কিন্তু হয়নি। বাজারে ফুলের চড়া দাম। এত দাম দিয়ে ফুল কেনার কথা একবার ভাবলেও মন বহুবার না করত। আমাদের যেহেতু তেমন ফুল গাছ ছিল না তাই বাড়ির বড়দের পিছু নিতাম । তাদের অনেকেই আগে থেকে ফুল অর্ডার করে রাখতেন। এভাবে কোনোরকমে ফুলের সমস্যার সমাধান হতো। ফুল তো প্রস্তুত, এখন ড্রেস নিয়ে ভাবনা। স্কুলের যেকোনো অনুষ্ঠানে আমরা স্কুলড্রেসই পরতাম।
ড্রেস হলো, ফুলও হলো, এখন বাকি আছে ব্যাজ। ব্যাজ তো স্কুল থেকে কালো কাপড় দেয়। কিন্তু আমাদের বাড়ির মেয়েরা আমরা এটা পরব না। আমরা পরব সুই–সুতা দিয়ে হাতে সেলাই করা ফুলের আকার দেওয়া ব্যাজ। এটা শুধু লাভলী নানুই বানাতে পারতেন। আর এই ব্যাজের জন্য আমরা নানুর কাছে সিরিয়াল দিতাম। কারটা আগে বানাবে, কারটা পরে বানাবে—এ নিয়ে লাগত প্রতিযোগিতা।
ব্যাজ বানানোর ফাঁকে অনেক পরিকল্পনার ঝড় বইত। কে চুল কীভাবে বাঁধবে, কয়টায় বের হবে, যারা আমাদের সঙ্গে রাতে থাকতে আসেনি, তাদের সকালে কীভাবে একসঙ্গে করব ইত্যাদি। এভাবে নানুর ব্যাজ বানানো শেষ হয়ে আসতেই সবাই ঘুমের প্রস্তুতি নিতাম।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া হতো, যে সকালে আগে ঘুম থেকে উঠবে, সে যেন সবাইকে ডেকে দেয়। কিন্তু ঘুমাতে গিয়েও যেন পরিকল্পনা শেষ হতে চাইত না। নিজের মধ্যে অনেক পরিকল্পনা কাজ করত। সকালে কখন উঠব। দেরিতে ঘুমাতে যাচ্ছি, সকালে যদি ঘুম না ভাঙে তখন কী হবে ইত্যাদি।
এদিকে স্কুলজীবনে যেকোনো অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় নাম দেওয়া আমার আরেকটা শখের জায়গা হয়ে উঠেছিল। সে জন্য ঘুমাতে গিয়ে এটা নিয়ে একটু ভাবা হতো। এভাবে নয়ছয় ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়তাম।
ভোরে মুরগির ডাক শুরু না হতেই আমাদের দলবলের হইচই শুরু হতো। সবাই প্রস্তুত হয়ে এক জায়গায় ভিড় জমাতে শুরু করত। আমাদের দেখে বাড়ির সবার মুখেই হাসি ফুটে উঠত। তাদের চোখ-মুখ দেখে মনে হতো, তাদের কেউ কেউ মনে হয় আমাদের মধ্যে তাদের পুরোনো দিনগুলো খুঁজে পাচ্ছে। বাড়ির সবাই একসঙ্গে হলে স্কুলের উদ্দেশে রওনা দিতাম। স্কুলে যাওয়ার পথে রাস্তায় কলাগাছ দিয়ে বানানো কিছু শহীদ মিনার পেতাম। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে এগুলো দেখতাম। প্রাইমারিতে যখন ছিলাম, তখন আমরা নিজেরাও বাড়ির পেছনের ফাঁকা জায়গাটায় এমন শহীদ মিনার বানাতাম।
স্কুলে যাওয়ার পথে এমন শহীদ মিনার দেখে ভালোই লাগত। তারপর স্কুলে পৌঁছে যে যার ক্লাসের বান্ধবীদের সঙ্গে একসঙ্গে হয়ে যেতাম। আমাদের বাড়িতে আমার ক্লাসের তিনজন মেয়ে ছিল। আমিসহ চারজন মেয়ে ছিলাম। আমরা চারজন আবার চারজনের ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে চলে যেতাম। স্কুলে আমাদের ছয়জনের একটি দল ছিল। এদের সঙ্গে থাকত বেশ কিছু পরিকল্পনা। যা আমরা আগের দিনই করে রাখতাম।
এভাবে সেদিন স্কুলের বিভিন্ন পথ দিয়ে পরিপাটি হয়ে হাতে ফুলসহ বিভিন্ন দলের আনাগোনা দেখা যেত। স্যারদের দেওয়া সময়ের মধ্যে পৌঁছে যেত সবাই। ক্লাসভিত্তিক সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে যেতাম আমরা। তারপর প্রভাতফেরির উদ্দেশ্যে রওনা হতাম। এই প্রভাবফেরিতে হেঁটে বেশ কিছু ছোট ছোট গ্রাম পার করতাম আমরা। গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে একই ড্রেসে ফুল হাতে ছাত্র–ছাত্রীদের লাইন দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত।

আমরা যখন হাঁটতাম, সবাই তখন ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিয়ে এই দৃশ্য দেখার জন্য দাঁড়িয়ে থাকত। আমরা চলার ফাঁকে বন্ধুবান্ধবের বাড়ি খুঁজে পেতাম। পরিচিত কেউ কেউ বাড়িতে যাওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে ইশারায় ডাকত, তবে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে একসময় আমাদের বাড়ির কাছে আসে। লাইন খান বাড়ির এখানে থাকতেই আমি বাড়ির ভেতর দিয়ে আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়তাম। নানুসহ অনেকে আমাদের প্রভাতফেরিটা পছন্দ করত। সে জন্য সবাইকে দূর থেকে ডেকে আবার বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে লাইনে যুক্ত হয়ে যেতাম।
এভাবে হাঁটতে হাঁটতে আমাদের প্রভাতফেরি শেষ হতো। স্কুলে ফিরে সবাই ক্লাসভিত্তিক শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতাম। তারপর শুরু হতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভাষার মাস নিয়ে শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য দিয়ে শুরু হতো, আর শেষ হতো বিভিন্ন গান, নাচ, অভিনয় ইত্যাদি শিক্ষণীয় বিষয় দিয়ে। আহা, সেই দিনগুলো মনে পড়ে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।