ঢাকা১৬ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. ! Без рубрики
  2. Echt Geld Casino
  3. test2
  4. অপরাধ
  5. অর্থনীতি
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আরো
  8. এক্সক্লুসিভ
  9. খেলাধুলা
  10. জাতীয়
  11. তথ্য প্রযুক্তি
  12. দেশজুড়ে
  13. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  14. বাণিজ্য
  15. বিনোদন

২০১৫ সালের অবরোধ কি শেষ হয়েছে?

admin
অক্টোবর ৩১, ২০২৩ ১১:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

উদিসা ইসলাম

 

আবারও অস্থিরতার মুখোমুখি হতে চলেছে দেশ। ২০১৫ সালের শুরুতে ডাকা লাগাতার অবরোধ সমাপ্তির কোনও ঘোষণা আসেনি আজও। সেই ব্যর্থ কর্মসূচির রেশ ধরে আবারও নতুন করে তিন দিনের অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি। অবরোধের মধ্যে অবরোধ– আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর।

 

দেশের মানুষ যখন অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব ঠেকাতে ব্যস্ত, সরকার যখন আগামীতে কীভাবে অর্থনীতি সামাল দিতে পারবেন সেই পরিকল্পনায় ব্যস্ত, অভিভাবকরা যখন সন্তানদের বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে হয়রান, সামনে দুই মাসের মধ্যে যখন জাতীয় সরকার নির্বাচন হতে চলেছে, তখন বিএনপি এই কর্মসূচির পক্ষে খুব বেশি জনমত তৈরি করতে সমর্থ হবে কি?

 

একটু পিছন ফিরে দেখি। ২০১৫ সালের জানুয়ারি। সরকার পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে ৬ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ ও হরতালের ডাক দেয় বিএনপি জোট। জোটের ডাকা সেই অবরোধ বছরের অর্ধেক জুন মাস পেরিয়ে ডিসেম্বর পার হয়ে যায়। কেউ একবারের জন্য সেই অবরোধ তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়নি। বাস্তবে সেই হরতাল ও অবরোধের কার্যকারিতা দেখা না গেলেও বিএনপি জোট আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। সে সময় অবরোধের মধ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদের হরতালেরও ডাক দেওয়া হতো।

 

সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বার্তায় কী বলেছিল? বলেছিল, বাংলাদেশে সরকার ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের মধ্যে অস্থিরতা চলছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বিরোধীরা দেশব্যাপী সড়ক, নৌ ও রেলপথে অবরোধ ডাকে। পাশাপাশি হরতালের কর্মসূচি দেয়। এরপর কয়েক মাসে অনেক মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে গণপরিবহনে আগুন দেওয়ায় অনেকে মারা যায়। যদিও এই হরতাল ও অবরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া হয়নি। তবে এই রাজনৈতিক হানাহানি চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে কমে আসে।

 

মাসের পর মাস যখন অবরোধ উঠানোর কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসে তখন সেসময় বারবার সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছেন, অবরোধ কি শেষ হলো? বিএনপি নেতৃত্ব প্রশ্নের উত্তর দিতেন সুকৌশলে। বলতেন– এখন বিএনপির কোনও কর্মসূচি নেই। বিএনপি দল পুনর্গঠনের কাজ করছে। অবরোধ প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা এখনও দেওয়া হয়নি কেন প্রশ্ন করলে জবাব আসতো– বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজে একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছেন, এখন বিএনপির কোনও কর্মসূচি নেই। যদিও সে বছর এপ্রিলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ২০-দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি অবরোধ থাকা না থাকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

এরপর আগস্টে ২০-দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেই বৈঠকে অবরোধ প্রত্যাহারের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে দলটি এখন পর্যন্ত কোনও ঘোষণাও দেয়নি। মূলত মধ্য এপ্রিল থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এই অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি ‘অকার্যকর’ হয়ে পড়ে।

 

সেই কর্মসূচি আবারও জেগে উঠতে চাইছে। এক দিনের হরতালের পর আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা তিন দিন সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

 

গত শনিবারের মহাসমাবেশে নেতাকর্মীদের ভূমিকায় শীর্ষ নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সভায়। সভায় বলা হয়েছে, কর্মীদের এই মনোবল ধরে রাখতে টানা কঠোর কর্মসূচির বিকল্প নেই। রবিবার সন্ধ্যায় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

 

কিন্তু কর্মসূচির জায়গায় আরেকটু চিন্তাভাবনা করে এগোতে হতো বিএনপিকে। একদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা আর হরতালের অজুহাতেই সোমবার অশান্ত হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার।

 

গত শুক্র ও শনিবারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আর রবিবার হরতালের অজুহাতে ইতোমধ্যে আরেক দফা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পণ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য কখনও পণ্য সংকট, আবার কখনও পরিবহন সংকটকে দায়ী করে থাকেন। আবার আমদানিনির্ভর পণ্য না হলেও মূল্যবৃদ্ধির জন্য কখনও ডলার সংকটকেও দায়ী করা হয়। বলা বাহুল্য, দেশে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজমান থাকলে অর্থনীতিতে তার বহুমুখী প্রভাব পড়ে। দেশি এবং বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীদের দেশে বিনিয়োগের আস্থা কমে যায়। অর্থাৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি নির্ভরশীল। বর্তমানে অর্থনীতি কঠিন সময় পার করছে। ব্যবসায়ী নেতারা বলেছিলেন যার যার জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার। ফলে করোনা মহামারিকে বাংলাদেশ ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতিসহ নানান চ্যালেঞ্জ এসেছে অর্থনীতিতে। সেটিকেও রোজ মোকাবিলা করে এগিয়ে চলেছে অর্থনীতি। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচির ফলে অস্থিরতা দেখা দিলে অর্থনীতিতে তা আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

 

শেষ করি অতি জনপ্রিয় সিনেমা টাইটানিকের ভরাডুবির গল্প দিয়ে। যখন ডুবে যাওয়া নিশ্চিত জেনে গেলেন তখন ব্যর্থ নাবিক স্মিথ নিজেকে ঘরবন্দি করে অপেক্ষা করতে থাকলেন।

 

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রেখে মাঠকর্মীদের নামিয়ে দেখছেন ডুবে যাওয়ার আগে কে কী করে। ঠিক যেমন টাইটানিকে কেউ নৌকায় তুলে দিচ্ছিল, কেউ নিরলস বাজিয়ে যাচ্ছিল মিউজিক। যাতে যাত্রীরা মৃত্যুর মুখোমুখি হতে গিয়েও একটু স্বস্তির আবহ পায়।

 

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।