কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে অস্তিত্বহীন পুকুরের মাছ চুরি করে বিক্রির অভিযোগে আদালতে মামলা দিয়ে একটি অসহায় পরিবারকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি এ অভিযোগ অস্বীকার করে জমিটির মালিকানা দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের শাহবাগ গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী কৃষক আলামিন (৩৫), আবদুল মতিন (৫৫) ও আবদুল করিমের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ জানা যায়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, একই গ্রামের শেখ এবি সিদ্দিক (৭২) দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ১১ শতাংশ জমি নিজের নামে লিখে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ওই জমিকে পুকুর হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, জমিটি তাঁদের দখলে রয়েছে এবং সেখানে কোনো পুকুরের অস্তিত্ব নেই।

তাঁরা আরও জানান, বসতবাড়ির ভিটা উঁচু করার জন্য পাশের নিজেদের জমি থেকে মাটি কেটে বাড়ির চারপাশ উঁচু করেছেন। এতে জমির কিছু অংশে গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় সেখানে পানি জমলেও রোদ উঠলে তা শুকিয়ে যায়। তাঁদের দাবি, ওই গর্তে পানি জমার বিষয়টিকে পুকুর হিসেবে দেখিয়ে মাছ চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তাঁদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মাছ চুরি করে বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁরা কখনো সেখানে মাছ চাষ করেননি এবং তাঁদের নিজেদেরও কোনো পুকুর নেই বলে দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, জমি দখল করতে না পেরে শেখ এবি সিদ্দিক তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন এবং বাড়িছাড়া করার চেষ্টা করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির নম্বর সি.আর. ৮০৩(১)/২০২৬। তাঁরা এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শেখ এবি সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিটির মালিক তিনি। ভুক্তভোগীরা জোর করে জমিটি দখল করে রেখেছেন বলে দাবি করে তিনি জানান, এ কারণেই তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ মণ্ডল বলেন, তিনি কিছুদিন আগে এ থানায় যোগদান করেছেন। তাই বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *