ইরান প্রশ্নে যুদ্ধের ঘড়ি চলছে, রাশিয়া বলছে ‘এটা আগুন নিয়ে খেলা’
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুতই যুদ্ধমুখী পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ওয়াশিংটনের এই আলটিমেটামের পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে নজিরবিহীন মাত্রায় সামরিক শক্তি জড়ো করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রশাসন ও পেন্টাগনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমন পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে যে চাইলে চলতি সপ্তাহের শেষেই ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো সম্ভব। যদিও সম্ভাব্য হামলার ধরন ও কৌশল নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কোনোভাবেই তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র–সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্র। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে রাশিয়া। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলা চালানো মানে ‘আগুন নিয়ে খেলা’। তার ভাষায়, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ল্যাভরভ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে থাকা স্থাপনায় হামলা বড় ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব সীমান্ত ছাড়িয়ে বহু দেশে ছড়িয়ে পড়বে। তিনি মনে করেন, সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর বদলে কূটনৈতিক সমাধানই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রধান লক্ষ্য।
এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে সেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরি, একাধিক ডেস্ট্রয়ার ও ক্রুজার, সাবমেরিন এবং ৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থান করছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে মোতায়েন করা হয়েছে প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
ইরান সংকটে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েলও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি মাথায় রেখে দেশটির সামরিক বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও অন্যদিকে যুদ্ধ প্রস্তুতির এই সমান্তরাল চিত্র পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। সময় এখন ১০ দিনের কাউন্টডাউন। সমঝোতা না সংঘাত—এই সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি।







