ভৈরবে মানবপাচার মামলায় গণ অধিকার পরিষদের উপজেলা নেতা গ্রেপ্তার
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রতারণা এবং মানবপাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় গণ অধিকার পরিষদের উপজেলা শাখার নেতা সামসুল মামুনকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সামসুল মামুন ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের সিরাজ পাগলা মাজারসংলগ্ন এলাকার মৃত লাল মিয়া ফকিরের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে কিশোরগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর আওতায় একটি মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন। মামলায় সামসুল মামুনসহ তার পরিবারের পাঁচজনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণের জন্য ভৈরব থানাকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গত ১ জুন ভৈরব থানা মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে বাদীর ছোট ভাই মোবারক হোসেনকে আলবেনিয়া হয়ে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি পাসপোর্ট ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের কথা বলে ১০ লাখ টাকা এবং একই বছরের ১০ এপ্রিল ভিসা দেখিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে পরে তাকে বিদেশে পাঠানো হয়নি এবং টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা করা হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়।
বাদী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, সামসুল মামুন ও তার পরিবারের সদস্যরা লিবিয়া, আলবেনিয়া হয়ে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভৈরবের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তার ছোট ভাইকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে মোট ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিদেশে পাঠানো হয়নি। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচার এবং অর্থ ফেরতের দাবি জানান।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের উপস্থিতিতে সামসুল মামুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। একটি চক্র তাকে ও তার পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন বলে দাবি করেন। বিদেশে লোক পাঠানোর অর্থ লেনদেনে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতার প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array