রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন সিআইডির

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন সিআইডির

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ডনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডির আবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ভোর ৫টার দিকে বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ মামলায় পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, ডন জামিনে মুক্ত হলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং তিনি পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় ওই সময় অপমৃত্যুর মামলা করেন তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।

পরে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন সালমান শাহের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অপর আসামিরা হলেন—শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), ভগ্নিপতি কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং তাঁদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় ফিরে সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সালমানের মা তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান স্বজনরা। পরে তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এর আগে গত ২০ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

পরে ২৪ মে সালমান শাহের মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দেন আদালত। এর পর বাদীপক্ষ মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা নথিভুক্ত করেন।

পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে তা নথিভুক্ত করা হয়।

মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।

কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার হুমকি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার দুপুরে শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর থেকে এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবীর, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্সসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে।

বক্তারা অবিলম্বে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সমাবেশ শেষে একই দাবিতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।

জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ; স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ; স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার তাগিদ

গণতন্ত্রকে সুসংহত ও শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে তিনি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। গণতন্ত্রের শেকড় মজবুত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ নাগরিকদের উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একই সঙ্গে জেলা পরিষদের সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও গতিশীলতা আনার ওপরও বিশেষ জোর দেন রাষ্ট্রপতি।

সৌজন্য সাক্ষাতে জেলা পরিষদের প্রশাসকেরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। তারা রাষ্ট্রপতির দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সাবেক উপমন্ত্রী জাহিদুল হকের স্মরণে পাকুন্দিয়ায় দোয়া ও আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
সাবেক উপমন্ত্রী জাহিদুল হকের স্মরণে পাকুন্দিয়ায় দোয়া ও আলোচনা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-১ (পাকুন্দিয়া-হোসেনপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক আইন, বিচার ও নৌপরিবহন উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবিএম জাহিদুল হকের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত পাকুন্দিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কলেজের অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাম্মেল হক, উপাধ্যক্ষ মো. আহসানুল হক, সহকারী অধ্যাপক আইরিন পারভীন, শামীমা বেগম, আজহারুল ইসলাম, এনামুল হক, আতাউর রহমান ভূঁইয়া, গীতা রানী সাহা, ফরিদুজ্জামান, তৌফিকুল ইসলাম এবং প্রভাষক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে মরহুম এবিএম জাহিদুল হকের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কলেজের ইসলামী শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তৌফিকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট এবিএম জাহিদুল হক পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-১ (পাকুন্দিয়া-হোসেনপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আইন, বিচার ও নৌপরিবহন উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর অঞ্চলের রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।