বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তাড়াইলে পাটে নয়, স্বস্তি পাটকাঠিতে

রুহুল আমিন প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তাড়াইলে পাটে নয়, স্বস্তি পাটকাঠিতে

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে এ বছর পাটের ভালো ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় পাটের বাজারমূল্য কম হওয়ায় অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কা করছেন। তবে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। ফলে এবার তাড়াইলে পাটকাঠি কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা, অলিগলি, পাকা সড়কের পাশ, মাঠ ও খোলা জায়গায় পাটকাঠি শুকাতে ব্যস্ত কৃষকেরা। পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে পাটকাঠি ফেলে না রেখে যত্ন করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করছেন তারা। পরে স্থানীয় বাজারে কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে এসব পাটকাঠি বিক্রি করছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে তাড়াইল উপজেলায় ৭০৪ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, কয়েক বছর আগেও পাটকাঠিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। পাট থেকে আঁশ সংগ্রহের পর কাঠি অনেক সময় অবহেলায় ফেলে রাখা হতো। এর কিছু অংশ রান্নার জ্বালানি কিংবা ঘরের বেড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হলেও বাণিজ্যিকভাবে এর চাহিদা ছিল তুলনামূলক কম।

তবে সময়ের সঙ্গে পাটকাঠির ব্যবহার ও বাজার চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া ও ছাউনি তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে পাটকাঠি ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাটকাঠি কিনে নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরাও এর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের পাটচাষি চান্দু ভূঁইয়া বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও পাটখড়ির তেমন চাহিদা ছিল না। এখন এর বেশ চাহিদা রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এবং ভালো দামও দিচ্ছেন। ১০০ মোঠা পাটকাঠি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু পাট নয়, এবার পাটখড়িও আমাদের মতো কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে।’

আরেক কৃষক আইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পাটকাঠি রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া ও ছাউনির কাজে ব্যবহার করি। এর পাশাপাশি বাইরের জেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে পাটকাঠি এখন আর ফেলে রাখার মতো কোনো পণ্য নয়।’

পাটকাঠির ব্যবসায়ী মনসুর আলী ও সামসুর রহমান জানান, তারা পাঁচ-ছয় বছর ধরে পাটকাঠির ব্যবসা করছেন। বর্তমানে পাটকাঠির চাহিদা ও দাম—দুটিই আগের তুলনায় বেশি। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে পাটকাঠি কিনে তারা বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তাড়াইলে এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদিত পাটের গুণগত মানও ভালো হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি পাটকাঠির বাজার তৈরি হওয়ায় কৃষকেরা পাটের আঁশের পাশাপাশি কাঠি বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করছেন।

তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় বলেন, ‘উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেই পাটের ভালো ফলন হয়েছে। উৎপাদিত পাটের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি এ উপজেলার কৃষকেরা পাটখড়ি বিক্রি করেও বেশ লাভবান হচ্ছেন।’

কৃষকদের ভাষ্য, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে। তবে এ বছর পাটের কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলেও পাটকাঠির বাড়তি মূল্য তাদের লোকসানের চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করছে।

সগড়ায় ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
সগড়ায় ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জে জমে উঠেছিল ‘সগড়া ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। বুধবার সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে ‘লিজেন্ড অব সগড়া’ ও ‘কেজি টপ ওয়ান’ দল মুখোমুখি হয়।

সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১ নম্বর রশিদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক মুর্শিদ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল খান। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফেরদৌস আহম্মেদ নেভিন।

টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মো. আব্দুল আহাদ রঞ্জু মিয়া। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বিদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত থেকে ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন।

ফাইনাল খেলায় লিজেন্ড অব সগড়া ও কেজি টপ ওয়ান দলের মুখোমুখি লড়াই ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। খেলা শেষে আয়োজকরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে ৩ পরিবার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে ৩ পরিবার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে গত পাঁচ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বাধ্য হয়ে তাদের অন্য বাড়ির রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সম্প্রতি পৌর শহরের চণ্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগে মাহমুদুল হাসান রনি (৩১), তাহের আলী (৫০), শফিক মিয়া (৪০), নুর মিয়া (৪০), আব্দুর রহিম (৫৫) ও মিজান মিয়া (৩০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির মাঝখানের চলাচলের উঠান বা রাস্তাটি টিন ও বাঁশ দিয়ে শক্তভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বংশপরম্পরায় তিনটি পরিবারের সদস্যরা এই পথটি ব্যবহার করে আসছিলেন। হঠাৎ করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ঘরবন্দি হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।

ভুক্তভোগী মিন্নাত আলী বলেন, “আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমরা ছয় ভাই ও আমাদের সন্তানরা বসবাস করছি। আমাদের ভাইদের মধ্যে এখনো কোনো বাটোয়ারা বা বণ্টননামা দলিল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান রনিসহ একটি ভূমিদস্যু চক্র আমাদের পরিবারের দুই ভাই তাহের আলী মিয়া ও আরমান মিয়ার কাছ থেকে লিখিত পাওয়ার নিয়ে আমাদের বাড়ির স্থাপনা ও টয়লেট ভেঙে বসতবাড়ি দখল করে নেয়।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর তারা আমার তিন ভাইয়ের ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। যার কারণে আমাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের বাকি ভাইদের বাড়ির অংশ বিক্রি না করায় ঘরের সামনেই টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আমাদের দুর্ভোগে ফেলেছে। আমরা আমাদের নিজ পৈত্রিক ভিটায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান বলেন, “শফিকুল রহমানসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত পাঁচ দিন ধরে এই বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাদের কিছু বলতে গেলেই তারা ক্ষমতা দেখায় এবং বলে—আমাদের বিচার করার কেউ নেই। যারা জমি কিনেছেন বলে দাবি করছেন, দলিলেও তাদের নাম নেই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ভূমিদস্যু মাহমুদুল হাসান রনির সঙ্গে যোগসাজশ করে শফিকুল ইসলাম, তাহের মিয়া ও নুরু মিয়ারা এই অপকর্ম চালাচ্ছে। আমরা এর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চাই এবং চলাচলের জন্য আমাদের জায়গা উন্মুক্ত চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, “আমরা একজন ওয়ারিশ বাদে বাকি সবার কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমিতেই বেড়া দিয়েছি এবং ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য বিকল্প জায়গা করে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “ইদানীং ভৈরবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চলাচলের রাস্তা একটি মৌলিক অধিকার। মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা যাই থাকুক না কেন, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এটি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

কিশোরগঞ্জে এসআরবি-১৪-এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এসআরবি-১৪-এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স ‘এসআরবি’ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসআরবি-১৪-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বিজ্ঞ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সদর থানার মাদক মামলা নম্বর-৩২(১)১৯-এর আসামি মো. রাব্বি মিয়া (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রাব্বি মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মো. ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। সদর থানার মাদক মামলায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১০(ক) ধারায় আদালত তাকে দুই বছরের সাজা প্রদান করেন। তিনি আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

এসআরবি-১৪-এর আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।