আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘হাসির দেশ’ হিসেবে পরিচিত থাইল্যান্ডেও আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

থাইল্যান্ডে আজ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশটির সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশটিতে ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে থাইল্যান্ড প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও ঘনীভূত করে।

থাইল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল হঠাৎ করেই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। তিনি গত তিন বছরের মধ্যে দেশটির তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৭ সালে সামরিক শাসনের অধীনে প্রণীত সংবিধানে অনির্বাচিত সিনেট সদস্যদের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এবারের নির্বাচনকে মূলত দুটি দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দল দুটি হলো—রক্ষণশীল ও সেনা-সমর্থিত ভূমজাইথাই পার্টি এবং তরুণ সংস্কারপন্থী পিপলস পার্টি। যদিও দুটি দলই বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোট সরকারের অংশ, তবে ধারণা করা হচ্ছে কোনো দলই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে না।

নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় আরও রয়েছে ফেউ থাই পার্টি। তবে দলটির সাবেক নেতা পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনায় পদচ্যুত হওয়ার পর দলটি রাজনৈতিক প্রভাব হারিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে সর্বশেষ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৩ সালে। সে সময় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের চার বছর দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে এবার নতুন নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।

কেন হচ্ছে আগাম নির্বাচন:

মে ২০২৫: প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। সংঘর্ষে এক থাই সেনা নিহত হন।

জুন ২০২৫: উত্তেজনার মধ্যেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা আলোচনার জন্য কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ফোন করেন। ফোনালাপে তিনি হুন সেনকে ‘আংকেল’ সম্বোধন করেন এবং নিজ দেশের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেন। ফোনালাপটি ফাঁস হলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার পর ফেউ থাই পার্টির প্রধান জোটসঙ্গী ভূমজাইথাই পার্টি জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। ফলে সরকার সংকটে পড়ে।

আগস্ট ২০২৫: থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে রায় দেন। এর ফলে তার প্রধানমন্ত্রিত্ব বাতিল হয়।

সেপ্টেম্বর ২০২৫: পরবর্তীতে সংসদের দ্বিতীয় বৃহৎ দল ভূমজাইথাই পার্টির নেতা আনুতিন চার্নভিরাকুল পিপলস পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে শর্ত দেওয়া হয় সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন আয়োজনের।

ডিসেম্বর ২০২৫: শর্ত অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে থাইল্যান্ডে নতুন সাধারণ নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *