তাড়াইলে সার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময়, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা
‘কৃষিই সমৃদ্ধি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করা, ভেজাল ও নকল সার বিক্রি রোধ, সারের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সঠিকভাবে বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে সার বিক্রেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় তাড়াইল উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিসিআইসি, বিএডিসি ও খুচরা সার বিক্রেতারা অংশ নেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা আক্তারের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান। এ ছাড়া তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সারওয়ার হোসেন লিটন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, ১৫ জন সার ডিলার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কৃষকদের স্বার্থে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রি না করা, ভেজাল বা নিম্নমানের সার বাজারজাত না করা এবং কৃষকদের সঠিক নিয়মে সার ব্যবহারে সচেতন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে সার সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, প্রকৃত কৃষক যেন ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত সার পান এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, সারের ন্যায্যমূল্য ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং সুষ্ঠু বাজারজাতকরণে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার কেনার প্রবণতা থেকে কৃষকদের বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, কোনো কৃষকের পাঁচ কেজি সার প্রয়োজন হলেও তিনি যদি ২০ কেজি কিনতে চান, আবার যার পাঁচ বস্তা প্রয়োজন তিনি যদি ২০ বস্তা নিতে চান, তাহলে এ ধরনের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। অতিরিক্ত সার প্রয়োগে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কৃষকদের কৃষিবিষয়ক নিয়ম ও আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও তানজিলা আক্তার বলেন, কেউ অবৈধভাবে সার মজুত বা বেচাকেনা করলে এবং এর প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই বাজার ও সার বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে মনিটরিং জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, অসময়ে দ্রুত বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় আগাম সারের চাহিদা বেড়েছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সময়মতো কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাবেন বলে আশ্বস্ত করা হয়।
তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সারওয়ার হোসেন লিটন বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকদের সার নিয়ে কোনো ধরনের ছলচাতুরি মেনে নেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশের কৃষক ও কৃষি উপকরণের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। কেউ জালিয়াতি বা অবৈধভাবে সার সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।
তিনি প্রয়োজনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে বাজার মনিটরিংয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সার বিক্রয় ও বাজারজাতকরণে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মিশ্র ও জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় সার বিক্রেতাদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি, অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি থেকে বিরত থাকা এবং কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array