সচ্ছলতার আশায় রাশিয়ায়, বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ভৈরবের জাকিরের
রাশিয়ায় একটি গ্যাস কোম্পানিতে বিস্ফোরণে নিহত কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জাকির হোসেনের (৩৫) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আৎকাপাড়া গ্রামের পরিবেশ। একমাত্র বড় ছেলে ও স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারটি। জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
নিহত জাকির কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আৎকাপাড়া গ্রামের সেলিম প্রধানের বাড়ির মৃত রতন মিয়ার বড় ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক।
স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় দেড় বছর আগে ধারদেনা করে রাশিয়ায় পাড়ি জমান জাকির। সেখানে আমর এলাকায় অবস্থিত সিনাফেক্স কোম্পানিতে চাকরি নেন তিনি। চাকরি করে প্রতি মাসে দেশে টাকা পাঠাতেন। সেই টাকা দিয়ে ধারদেনা পরিশোধের পাশাপাশি কোনো রকমে সংসারের খরচ চালাচ্ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর জাকিরের পদোন্নতিও হয়েছিল। এতে পরিবারে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। স্বজনরা আশা করেছিলেন, এবার হয়তো তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরবে। কিন্তু সেই আশা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক দিন আগে রাশিয়ার আমর এলাকায় সিনাফেক্স কোম্পানিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্যদের সঙ্গে জাকিরও নিহত হন।
গতকাল তাঁর গ্রামের বাড়িতে মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে পরিবার ও এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। জাকিরের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর স্ত্রী, সন্তান, মা-ভাইসহ স্বজনেরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন।
জাকিরের জেঠা আক্কাস মিয়া বলেন, “জাকির আমার ছোট ভাইয়ের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে সে সবার বড়। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ধারদেনা করে রাশিয়ায় গিয়েছিল। সেখানে চাকরি করে যে টাকা পাঠাত, তা দিয়ে দেনা পরিশোধ করে কোনো রকমে সংসার চলছিল। রাশিয়ায় বিস্ফোরণে সবকিছু শেষ হয়ে গেল। এখন আমাদের দাবি, সরকার যেন আমার ভাতিজার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। আমরা যেন নিজের হাতে তার দাফন করতে পারি।”
স্বজনেরা জানান, বিদেশে যাওয়ার পর জাকির নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর পাঠানো অর্থেই পরিবারের আর্থিক সংকট কিছুটা কমছিল। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি আবারও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
এলাকাবাসীও জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে জাকিরের মৃত্যুতে স্বজনেরা বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। আমরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়ে তাঁর লাশ কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।”
পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জাকিরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। শেষবারের মতো স্বজনেরা তাঁকে দেখতে এবং নিজ হাতে দাফন করতে চান।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array