২০ শিক্ষক-কর্মচারীর অনাস্থা, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল হক ভুঞার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতির দাবি জানিয়ে অনাস্থা দিয়েছেন বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক-কর্মচারী।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ২৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন গত ৮ জুন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানান। আবেদনে বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং প্রশাসনিক আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
শিক্ষক-কর্মচারীদের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যাংকে জমা না দেওয়া, রসিদ ছাড়া টাকা আদায় এবং ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবকের পক্ষ থেকেও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছিল। ওই অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদনে উল্লেখ করা নথির তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয় উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে প্রধান শিক্ষকের সরকারি বেতন-ভাতার অংশ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি, বেতন-ভাতা স্থগিতের নির্দেশের পরও বিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রমে অনিয়ম বন্ধ হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ রসিদ দেওয়া হয়নি। এসব বিষয়ে আপত্তি জানালে তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল হক ভুঞা।
তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মনীতি মেনেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। বরং প্রতিষ্ঠানের কিছু অর্থ কয়েকজন শিক্ষক আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের এ বক্তব্যের বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের বক্তব্য প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সংকট নিরসনের দাবিতে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে গত ৮ জুলাই ২০২৬ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রমাণপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিবেশ স্বাভাবিক করার দাবি জানানো হয়।
অভিভাবকদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, এ বিষয়ে দায়ের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই ২০২৬ হাইকোর্ট ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে এক মাসের মধ্যে এডহক কমিটি বাতিল এবং দুই মাসের মধ্যে প্রধান শিক্ষককে নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, আদালতের ওই নির্দেশের পরও এখন পর্যন্ত বিষয়টির কার্যকর সুরাহা হয়নি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array