বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

২০ শিক্ষক-কর্মচারীর অনাস্থা, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
২০ শিক্ষক-কর্মচারীর অনাস্থা, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল হক ভুঞার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতির দাবি জানিয়ে অনাস্থা দিয়েছেন বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক-কর্মচারী।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ২৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন গত ৮ জুন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানান। আবেদনে বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং প্রশাসনিক আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

শিক্ষক-কর্মচারীদের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যাংকে জমা না দেওয়া, রসিদ ছাড়া টাকা আদায় এবং ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবকের পক্ষ থেকেও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়েছিল। ওই অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদনে উল্লেখ করা নথির তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয় উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে প্রধান শিক্ষকের সরকারি বেতন-ভাতার অংশ স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি, বেতন-ভাতা স্থগিতের নির্দেশের পরও বিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রমে অনিয়ম বন্ধ হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ রসিদ দেওয়া হয়নি। এসব বিষয়ে আপত্তি জানালে তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।

তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল হক ভুঞা।

তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মনীতি মেনেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। বরং প্রতিষ্ঠানের কিছু অর্থ কয়েকজন শিক্ষক আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের এ বক্তব্যের বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের বক্তব্য প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সংকট নিরসনের দাবিতে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে গত ৮ জুলাই ২০২৬ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রমাণপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আবেদনে প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিবেশ স্বাভাবিক করার দাবি জানানো হয়।

অভিভাবকদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, এ বিষয়ে দায়ের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুলাই ২০২৬ হাইকোর্ট ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে এক মাসের মধ্যে এডহক কমিটি বাতিল এবং দুই মাসের মধ্যে প্রধান শিক্ষককে নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, আদালতের ওই নির্দেশের পরও এখন পর্যন্ত বিষয়টির কার্যকর সুরাহা হয়নি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।