ভারতের অন্যতম প্রাচীন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার প্রিন্সিপাল, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও আরবি ভাষাবিশেষজ্ঞ মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (৮ অক্টোবর) ৯২ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসক ও গবেষক—বিভিন্ন ভূমিকায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই বরেণ্য আলেম।
শুধু নদওয়াতুল উলামা নয়, লখনৌর ইন্টিগ্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন এবং প্রথম চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আরবি সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।
১৯৩৪ সালে ভারতের মৌতে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি। উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৫২ সালে লখনৌর দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন। প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ আলেমদের কাছে শিক্ষা গ্রহণের পর সেখানেই শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে আরবি বিভাগের প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরবি ভাষা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। নদওয়াতুল উলামা থেকে প্রকাশিত আরবি মাসিক ‘আল-বাসুল ইসলামি’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৭৯ সাল থেকে পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ‘আর-রায়িদ’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন।
শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি। ২০১৩ সালে নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট অব অবজেক্টিভ স্টাডিজ তাঁকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেয়। ২০১৯ সালে লখনৌর খাজা মইনুদ্দিন চিশতি ল্যাঙ্গুয়েজ ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি সম্মানসূচক ডক্টর অব লেটার্স (ডি.লিট.) ডিগ্রি লাভ করেন।
ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদের ধর্মীয় আইন নিয়ে কাজ করা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন ছিলেন সাঈদুর রহমান আজমি নদভি। তিনি সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন।
মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি ছিলেন বহুমাত্রিক লেখক। আরবি ও উর্দু ভাষায় তিনি বহু গ্রন্থ ও গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—আরবি শব্দরূপতত্ত্ব বা সরফ বিষয়ে ‘ইলমুত তাসরিফ’, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ নিয়ে গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘উসওয়ায়ে হাসানা কে আইনে মে’, ইসলামী সংস্কৃতি ও নদওয়াতুল উলামার অবদান নিয়ে ‘ইসলামী সাকাফাত আওর নাদওয়াতুল উলামা’, ইসলাম ও পাশ্চাত্য নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ ‘ইসলাম আওর মাগরিব’ এবং জীবনীমূলক গ্রন্থ ‘তাজকেরা মাওলানা হাকিম আজিজুর রহমান আজমী’।
জ্ঞানচর্চা, ইসলামী শিক্ষা, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায় দীর্ঘ কর্মজীবনে মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভির অবদান ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
