কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর হাজী আফিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান কার্যক্রমে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন নারী শিক্ষক এবং সাতজন সহকারী শিক্ষক বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আলীম নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। অন্যদিকে, বাকি নয়জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র দুজন নিয়মিত উপস্থিত থাকেন এবং অন্য সাতজন মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে তিন থেকে চারটি ক্লাস হয়। বৃহস্পতিবার মাত্র একটি ক্লাস নেওয়ার পর ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী ৪৯৭ জন। তবে সরেজমিনে উপস্থিতি যাচাইয়ের সময় প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে দেখা যায়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির এই চিত্র বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আলীমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “স্কুলের জায়গা আমার চাচা দিয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করাতে আমি অনেক কষ্ট করেছি। আমি প্রতিদিন নিয়মিত স্কুলে আসি।”
তবে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের অমিল রয়েছে। সরেজমিনে পাওয়া তথ্যের বিষয়ে প্রতিবেদকের বর্ণনায় বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক বছরে এক থেকে দুই দিন বিদ্যালয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছে, তারা প্রধান শিক্ষককে কখনো বিদ্যালয়ে আসতে দেখেনি।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একজন শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন বলে দাবি করলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অন্য এক শিক্ষার্থী ওই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন না। ফলে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে মতভিন্নতা দেখা গেছে।
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলতাব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।