বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

অবৈধ মোবাইল ফোনে বছরে ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অবৈধ মোবাইল ফোনে বছরে ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

অবৈধভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান ও অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে বছরে সরকারের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ লক্ষ্যে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ, নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ ও ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করার পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রেও এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রমগুলো চালু করা হবে। তবে এ পর্যায়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আন্তর্জাতিক মোবাইল যন্ত্রের পরিচিতি নম্বর (আইএমইআই) ব্যবস্থাটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এ পর্যায়ে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করার ব্যবস্থা থাকবে। এসব হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধের উদ্যোগও নেওয়া হবে। তবে প্রথম ধাপে নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় এ কার্যক্রম কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হ্যান্ডসেটের পরিচয় শনাক্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিটিআরসির কমিশন সভায় সংস্থাটির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগের মহাপরিচালক এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবস্থাটি চালু করা হলেও তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো চালু করা হয়নি। ফলে এনইআইআর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বিটিআরসির এসএম বিভাগ। দুই ধাপে ব্যবস্থাটি চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

রাজস্ব ফাঁকি রোধ, টেলিযোগাযোগ খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তাগিদ দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায় এনবিআর। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।

২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব মোবাইল নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থাটি চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তি এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হ্যান্ডসেট বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।

পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তা জানায়। একই বছরের ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায়ও ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।

সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

সন্তানের হাতে অল্প বয়সে মোটরসাইকেল-অ্যান্ড্রয়েড ফোন তুলে দেবেন না: এমপি জালাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
সন্তানের হাতে অল্প বয়সে মোটরসাইকেল-অ্যান্ড্রয়েড ফোন তুলে দেবেন না: এমপি জালাল

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেছেন, সন্তানদের সব আবদার পূরণ করা অভিভাবকদের উচিত নয়। বয়স ও সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে তাদের আবদার পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের হাতে মোটরসাইকেল ও অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন তুলে দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। অপরিণত বয়সে এসবের ব্যবহার সন্তানদের বিপথে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সোনালী স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিভাবকদের উদ্দেশে সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, ‘সন্তানের অন্যায় আবদার পূরণ করতে গিয়ে তাকে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল কিনে দিচ্ছেন। মোবাইল কিনে দিলেন, নাকি আপনার সন্তানকে ধ্বংস করে দিলেন? এই ধ্বংসের জন্য দায়ী আপনারা, সেই অভিভাবকেরা, যারা সন্তান পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠলেই মোটরসাইকেল কিনে দেন।’

সড়ক দুর্ঘটনায় এক মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সেদিন আফতাবউদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্যে প্রথম হওয়া ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায়। এই মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য কি শুধু সে-ই দায়ী? প্রশ্নটি আপনাদের বিবেকের কাছে রাখলাম। আমি ওই শিক্ষার্থীকে দায়ী করি না। ছোটরা আবদার করবে, কিন্তু তাদের সব আবদার কি আমাদের পূরণ করতে হবে?’

মোটরসাইকেলের গতি এবং শিশু-কিশোরদের তা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাবা পালসার বা অ্যাপাচির মতো মোটরসাইকেল চালান, আর অষ্টম শ্রেণিতে পড়া ছেলেকেও একই ধরনের মোটরসাইকেল কিনে দিতে হয়। এসব মোটরসাইকেলের গতি মুহূর্তেই ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটারে উঠে যায়। এই গতি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নেই।’

অভিভাবকদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, একজন ভাই হিসেবে বলছি, সন্তানদের এমন সর্বনাশ করবেন না। তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল তুলে দেবেন না। তারা গেম খেলতে খেলতে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে, অথচ আপনারা খবরও রাখছেন না। মোটরসাইকেল নিয়ে তারা কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, সেদিকেও নজর রাখছেন না।’

তিনি বলেন, মোটরসাইকেল পাওয়ার পর কিশোরদের বন্ধুমহল বড় হয়। এর ফলে তারা খারাপ সঙ্গেও জড়িয়ে পড়তে পারে। একপর্যায়ে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। মাদকে আসক্ত হয়ে পড়লে তা থেকে বেরিয়ে আসাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পাশাপাশি তাদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সন্তানদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, জীবনের এ পর্যায়ে এসে সন্তানদের মানুষ করে তোলাই অভিভাবকদের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা। সন্তানরা সঠিকভাবে গড়ে উঠলেই অভিভাবকদের জীবন সার্থক হয়।

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, বর্তমানে শিশুরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বৃত্তি পাচ্ছে এবং ক্রেস্ট, বৃত্তির অর্থ ও সনদপত্র অর্জন করছে। তাঁদের সময়ে এ ধরনের সুযোগ ছিল না। বর্তমানে বিভিন্ন সংগঠন শিশুদের মেধা বিকাশে কাজ করছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ।

বিশেষ করে প্রবাসীদের স্ত্রীদের একা সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি মায়েদের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করার আহ্বান জানান। সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা ও যথাযথ দিকনির্দেশনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ভিপি তৌফিকুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আহমেদ ফারুক খোকন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান খান সুমন এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহীন আলম জনি।

অনুষ্ঠানে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২৭০ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।

পাগলেও বিশ্বাস করবে না’, তবে ভালো মানুষের অন্তরে কি বিশ্বাস জাগে না?

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
পাগলেও বিশ্বাস করবে না’, তবে ভালো মানুষের অন্তরে কি বিশ্বাস জাগে না?

রাজনীতিতে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নতুন কিছু নয়। এক পক্ষ অভিযোগ তোলে, অন্য পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু কোনো বক্তব্য যতই দৃঢ় হোক, বাস্তবতার সামনে তার ব্যাখ্যা দেওয়ার দায় এড়ানো যায় না। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে কিশোরগঞ্জে ছাত্রলীগের কমিটিতে এক জামায়াত নেতার ছেলের পদ পাওয়ার ঘটনা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার ফেসবুকে প্রকাশিত ওই কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নাম রয়েছে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি সিরাজ উদ্দিনের ছেলে আলী আকবর তানভীরের। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

সিরাজ উদ্দিনের দাবি, ছেলের ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তানভীর কয়েক মাস ধরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। কমিটি প্রকাশের পর ছেলের সঙ্গে কথা হলে তিনি পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন সিরাজ উদ্দিন। তবে পদত্যাগের কোনো প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। এমনকি ছেলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের নম্বরও তিনি দিতে পারেননি।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানভীরের নামে প্রচারিত বক্তব্যে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠন করার সাংবিধানিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। বাবার বক্তব্যের সঙ্গে ছেলের নামে প্রচারিত এই বক্তব্যের পার্থক্যই বিষয়টিকে আরও আলোচনায় এনেছে।

এখানে কয়েকটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। তানভীরের নাম ছাত্রলীগের জেলা কমিটিতে এল কারণ তিনি অবশ্যই আগে থেকেই সংগঠনটির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কমিটিতে তাঁর পদ পাওয়ার পেছনে তার মত অবশ্যই ছিলো। আর পদত্যাগের যে কথা বলা হচ্ছে, তার বাস্তব কোন ভিত্তি নাই।

কিশোরগঞ্জের এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। ২২ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে দলটির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী একাকার হয়ে গেছে- এমন অভিযোগ বাংলাদেশের কোনো পাগলও বিশ্বাস করবে না।

বক্তব্যটি ছিল অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক প্রত্যাখ্যান। কিন্তু কোনো অভিযোগকে অবিশ্বাস্য বলে উড়িয়ে দিলেই কি সংশ্লিষ্ট সব প্রশ্নের অবসান ঘটে? বিশেষ করে, যে কিশোরগঞ্জে জামায়াত নেতার ছেলের ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ পাওয়ার ঘটনা আলোচনায় এসেছে, সেই জেলাতেই এমন বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের অবকাশ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছে। গত ২০ অক্টোবর রাজশাহীর এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা, পলাতক স্বৈরাচারের অর্থায়ন এবং নির্বাচনের আগে টিকিট বিক্রির চেষ্টায় কয়েকটি দলের সম্পৃক্ততা নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা বলেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত ছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কের প্রমাণ থাকার দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক নিয়ে জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর আগে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের একই সঙ্গে আন্দোলন করার প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেছিলেন।

অর্থাৎ, বিএনপি অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গ টেনে যোগসাজশের অভিযোগ করছে। জামায়াত সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে। কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যের এই পাল্টাপাল্টির মধ্যে কিশোরগঞ্জের ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের মানদণ্ড সবার জন্য এক হওয়া প্রয়োজন। প্রতিপক্ষের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দাবি করা হলে নিজেদের ঘিরে ওঠা প্রশ্নেরও জবাব দিতে হবে। কোনো অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে, আবার কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা অস্পষ্ট থাকলে তা নিয়ে জনমনে সন্দেহও তৈরি হতে পারে। সন্দেহ আর প্রমাণ এক বিষয় নয়- এই পার্থক্য মাথায় রেখেই বিতর্কের বিচার করা জরুরি।

কিশোরগঞ্জের ঘটনায় জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্বের অবস্থান যেমন স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, তেমনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকেও ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত। আলী আকবর তানভীর কীভাবে ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পেলেন, তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কতটুকু এবং পদত্যাগের দাবি বাস্তবে কার্যকর হয়েছে কি না- এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তরই পারে বিতর্কের অবসান ঘটাতে।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শুধু একজনের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা একটি কমিটিতে পদ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য, অবস্থান ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে সামঞ্জস্য কতটা রয়েছে, সেই প্রশ্নও সামনে আনে। ‘পাগলেও বিশ্বাস করবে না’- এমন দৃঢ় বক্তব্য দিয়ে বিতর্ক থামানোর চেষ্টা করা যেতে পারে, কিন্তু জনমনে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে প্রয়োজন তথ্য, প্রমাণ ও স্বচ্ছতা।

কিশোরগঞ্জের মানুষও নিশ্চয়ই জানতে চাইবে, আলোচিত এই ঘটনার প্রকৃত সত্য কী। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন অনুচিত, তেমনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সবকিছুকে অবিশ্বাস্য বলে উড়িয়ে দেওয়াও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ হতে পারে না।

সাজেকে অবরোধ ঘিরে তিন ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি, আহত সেনা-পুলিশের ৭ সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
সাজেকে অবরোধ ঘিরে তিন ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি, আহত সেনা-পুলিশের ৭ সদস্য

রাঙামাটির সাজেক সড়কে অবরোধ চলাকালে পর্যটকবাহী গাড়িবহরে হামলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।

পুলিশ সুপার জানান, সাজেক থেকে ফেরার পথে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো উজোবাজার এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে পর্যটকেরা অবরোধকারীদের মুখোমুখি হন। তাঁদের নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তবে আলোচনার একপর্যায়ে অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর অবরোধকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে কাছাকাছি অবস্থানরত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের জীবন ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন বলে জানান পুলিশ সুপার।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। পরে দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবরোধকারীদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে সেনাবাহিনীর চার থেকে পাঁচজন এবং পুলিশের দুজন সদস্য আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে আহতের সংখ্যা অন্তত ছয় থেকে সাতজন। তবে আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়নি।

পুলিশ সুপার জানান, বর্তমানে ওই এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাজেক ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।