কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীর দাবিতে ২২ কি.মি. জুড়ে মানববন্ধন
কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নের দাবিতে শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন দলের একাংশের নেতা–কর্মীরা। বাজিতপুরের বটতলা মোড় থেকে নিকলী বাজারের শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই মানববন্ধন চলে।
এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের উপজেলা, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন। মানববন্ধনের অংশগ্রহণকারীরা বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের অনুসারী।
নিকলী, সরারচর, বাজিতপুর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা যয়, দীর্ঘ সড়কের দু’পাশে একাধিক স্থানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কর্মীদের একাংশ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। সরারচর এলাকার বিএনপি কর্মী মো. আলম মিয়া বলেন, “দলের দুর্দিনে ইকবাল ভাই পাশে ছিলেন। তাই আমরা তাঁকেই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চাই।”
বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “তৃণমূলের কর্মীরা এখানে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে চান। তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আনতে আমরা ২২ কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধন করেছি।”
৩ নভেম্বর বিএনপি দেশের ২৩৭টি আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করলেও কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ–১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর) এবং কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি আসন মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ স্থানীয় বিএনপির বড় অংশ।
স্থানীয় নেতাদের মতে, কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, সাবেক সদস্য জিএস মীর জলিল, সাবেক পৌর মেয়র এহসান কুফিয়া, সাবেক সচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়াহাব, নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন (মিঠু), কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাসুক মিয়া, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান (মামুন)
শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “এলাকার জনগণ আমাকে চায়। তাই আমার মনোনয়নের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে কর্মসূচি চলছে।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে—এই আসনটি বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২–দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার জন্য ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি। তাঁর পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে এবং শনিবার বিকেলেও বাজিতপুর বাজার এলাকায় তাঁর সমর্থনে মিছিল হয়।
এ আসনে আলোচনায় আছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুমও। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে—তারা এই আসনে জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য রমজান আলীকে ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।
কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলের দাবি ও জোটের সমীকরণে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে নেতাকর্মীরা।










