শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নীরব রাতের শ্রদ্ধা: টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে তারেক রহমানের বিরল সফর

হেলাল মুন্সী, গোপালগঞ্জ। প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নীরব রাতের শ্রদ্ধা: টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে তারেক রহমানের বিরল সফর

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু ঘটনা আলোচিত হলেও কিছু অধ্যায় আড়ালে থেকে যায়। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ২০০৫ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে, যা সে সময় ব্যাপক প্রচারে না এলেও রাজনৈতিক মহলে নীরবে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে একটি ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান। দিনভর রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও সফরের এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ করেই গাড়িবহর ঘুরিয়ে নেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার দিকে, যেখানে অবস্থিত জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ।

রাত গভীর, চারপাশ নীরব। সেই সময় তিনি সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে সমাধির খাদেমকে ডেকে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করেন। জানা যায়, তিনি সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন। এই সিদ্ধান্তে সফরসঙ্গীদের অনেকেই বিস্মিত হন, কারণ বিএনপির স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় অনেক নেতা-কর্মীই আগে থেকে জানতেন না যে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন। ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক ও সীমিত পরিসরের।

স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন জাতীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি; দেশের জন্য তাঁর অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তিনিও একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির সন্তান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় ইতিহাস ও নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন—এমন বার্তাই সে রাতে প্রতিফলিত হয়েছিল বলে উপস্থিতদের অনেকে মনে করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যেখানে বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রবল, সেখানে ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার একজন শীর্ষ নেতার এ ধরনের নীরব ও নিঃশব্দ শ্রদ্ধা প্রদর্শন বিরল ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হয়। যদিও ঘটনাটি তখন ব্যাপক প্রচারে আসেনি, পরবর্তীতে এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে সক্রিয় রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতের এই সহমর্মিতামূলক আচরণ তার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরে- যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় এমন মুহূর্তগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়—ইতিহাস ও জাতীয় নেতৃত্বের প্রশ্নে কখনো কখনো দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যক্তিগত সম্মানবোধের প্রকাশও দেখা যায়।

হোসেনপুরের গোবিন্দপুর ইউনিয়নে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের গোবিন্দপুর ইউনিয়নে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ভিজিএফ (VGF) খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

গত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যক্রম আগামী ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত চলমান থাকবে।

এবারের কর্মসূচিতে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৭ হাজার তালিকাভুক্ত পরিবারকে জনপ্রতি ১০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খলভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, হোসেনপুর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম এরশাদ, ৩ নম্বর গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিদ্দিক হোসেন মেম্বারসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে উপকারভোগীদের মাঝে স্বস্তি ও সন্তোষ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই বলেন, ঈদের আগে এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন।

অষ্টগ্রামে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ আরও দুই নারী

মোঃ আলী রহমান প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রামে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ আরও দুই নারী

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে বজ্রপাতে মহব্বত খা (৩৬) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রীসহ আরও দুই নারী আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৩ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মহব্বত খা ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং জমরুত খার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে বাড়ির আঙিনায় রোদে শুকাতে দেওয়া ধান দ্রুত জড়ো করতে যান মহব্বত খা। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

বজ্রপাতের সময় তার স্ত্রী রুমা বেগম (৩৫) ও মর্জিনা বেগম (৫০) নামের আরও দুই নারী আহত হন। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর নিহতের পরিবারে শোকের মাতম নেমে আসে। স্থানীয়দের মাঝেও গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাওরাঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া ও ঘন ঘন বজ্রপাতের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কৃষকদের আবহাওয়ার সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে পুমদীতে দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
ঈদ উপলক্ষে পুমদীতে দুস্থদের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউনিয়নের দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

শুক্রবার (২৩ মে) সকাল থেকে পুমদী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যক্রম আগামী তিন থেকে চার দিন চলমান থাকবে।

এবারের কর্মসূচিতে পুমদী ইউনিয়নের ৫ হাজার তালিকাভুক্ত পরিবারের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল প্রদান করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খলভাবে এ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা কার্ডধারীরা নির্ধারিত কুপন ও পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের চাল গ্রহণ করছেন। চাল পেয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পুমদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাইয়ুম, হোসেনপুর উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ম্যানেজার মোহাম্মদ মাজারুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোফাচ্চল মিয়া (৩ নম্বর ওয়ার্ড)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে সরকারের এ ধরনের মানবিক সহায়তা কর্মসূচি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তারা সঠিকভাবে উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।