শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

নীরব রাতের শ্রদ্ধা: টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে তারেক রহমানের বিরল সফর

হেলাল মুন্সী, গোপালগঞ্জ। প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নীরব রাতের শ্রদ্ধা: টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে তারেক রহমানের বিরল সফর

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু ঘটনা আলোচিত হলেও কিছু অধ্যায় আড়ালে থেকে যায়। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ২০০৫ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে, যা সে সময় ব্যাপক প্রচারে না এলেও রাজনৈতিক মহলে নীরবে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে একটি ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান। দিনভর রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও সফরের এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ করেই গাড়িবহর ঘুরিয়ে নেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার দিকে, যেখানে অবস্থিত জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ।

রাত গভীর, চারপাশ নীরব। সেই সময় তিনি সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে সমাধির খাদেমকে ডেকে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করেন। জানা যায়, তিনি সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন। এই সিদ্ধান্তে সফরসঙ্গীদের অনেকেই বিস্মিত হন, কারণ বিএনপির স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় অনেক নেতা-কর্মীই আগে থেকে জানতেন না যে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন। ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক ও সীমিত পরিসরের।

স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন জাতীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি; দেশের জন্য তাঁর অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তিনিও একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির সন্তান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় ইতিহাস ও নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন—এমন বার্তাই সে রাতে প্রতিফলিত হয়েছিল বলে উপস্থিতদের অনেকে মনে করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যেখানে বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রবল, সেখানে ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার একজন শীর্ষ নেতার এ ধরনের নীরব ও নিঃশব্দ শ্রদ্ধা প্রদর্শন বিরল ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হয়। যদিও ঘটনাটি তখন ব্যাপক প্রচারে আসেনি, পরবর্তীতে এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে সক্রিয় রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতের এই সহমর্মিতামূলক আচরণ তার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরে- যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় এমন মুহূর্তগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়—ইতিহাস ও জাতীয় নেতৃত্বের প্রশ্নে কখনো কখনো দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যক্তিগত সম্মানবোধের প্রকাশও দেখা যায়।

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হলেন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন ছয়জনের মধ্যে চারজন মন্ত্রী এবং দুজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

নতুন মন্ত্রীরা হলেন—ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাচিং প্রু জেরী এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার।

বঙ্গভবনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। শপথ অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রবেশ করেন। এর কয়েক মিনিট পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এতদিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ একসঙ্গে দরবার হলে প্রবেশ করেন। এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে তাঁদের সম্মান জানান।

পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অনুমতি নিয়ে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত মা-বোনদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরপর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি। পরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

জাতীয় সংসদে বেলা ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন।

ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

একই রাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে শপথ বা দৃঢ় ঘোষণা করতে হয়। শপথ অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন—

«‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশ্রদ্ধ চিত্তে শপথ বা দৃঢ় চিত্তে ঘোষণা করছি যে, আমি আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিবো। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিবো। আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিবো এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিবো।’»

এই শপথের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন হলো।

ছুটির দিনেও হাওরে জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল

রেজাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনেও হাওরে জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল

ছুটির দিন শুক্রবারেও হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, পর্যটন পরিস্থিতি ও জেলা পরিষদের চলমান কার্যক্রম দেখতে মাঠে ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল)। শুক্রবার (২১ আগস্ট) তিনি নিকলী ও মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে মিঠামইনের কামালপুরে জেলা পরিষদ পরিচালিত হাওর বিলাস পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় হাওর বিলাস রেস্ট হাউজের আঙিনায় থাকা গাছের চারার পরিচর্যা ও সংরক্ষণে কর্মরতদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। পরিবেশের ভারসাম্য, জলবায়ু ও দেশের সবুজায়নে গাছের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি নিজেও গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়া ও পরিচর্যার কাজে অংশ নেন।

প্রশাসকের এ উদ্যোগে উৎসাহিত হন রেস্ট হাওর বিলাস-র কর্মীরা। তাঁদের কয়েকজন বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজ হাতে গাছের পরিচর্যায় অংশ নিলে কর্মীদের মধ্যেও কাজের প্রতি আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ বাড়ে।

হাওর ভ্রমণের সময় নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক। নৌযানে ওঠার সময় তিনি নিজেও লাইফ জ্যাকেট পরিধান করেন এবং সঙ্গে থাকা অন্যদেরও লাইফ জ্যাকেট পরতে বলেন। একই সঙ্গে হাওরে ভ্রমণকারী পর্যটক ও যাত্রীদেরও নৌযানে ওঠার আগে বাধ্যতামূলকভাবে লাইফ জ্যাকেট পরিধানের পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয় নৌকার মাঝি, ট্রলার মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখার নির্দেশনা দেন ভিপি সোহেল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রেখে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নৌযান পরিচালনারও পরামর্শ দেন তিনি।

বর্তমানে হাওরে ঝোড়ো বাতাস ও বড় ঢেউ থাকায় নৌপথে পর্যটকদের চলাচল কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনেন তিনি। নৌযান চলাচল, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে হাওরাঞ্চলে জেলা পরিষদের বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল) কিশোরগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি হিসেবেও পরিচিত।

দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবাদে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পরও মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরেজমিনে দেখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

ছুটির দিনে হাওরাঞ্চল পরিদর্শনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক পরিধির পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয় সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শোনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল।