শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাশ্রয় নাকি ব্যয়ের নতুন ফাঁদ?

সংসদ সদস্যদের গাড়ি সুবিধা বাতিল, আবার উপজেলায় অফিসসহ নানা সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সংসদ সদস্যদের গাড়ি সুবিধা বাতিল, আবার উপজেলায় অফিসসহ নানা সুবিধা

সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে বিল পাস হওয়ায় সরকার ও বিরোধী দলকে সাধুবাদ জানানো হচ্ছে। তবে সচেতন মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয়ের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা যেন নতুন ব্যয়ের চাপে ক্ষুণ্ন না হয়- সেই বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এমপিদের জন্য বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রীয় অর্থে নতুন গাড়ি সরবরাহ করা হলে উল্টো ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, নতুন গাড়ি কেনা, চালক নিয়োগ, জ্বালানি ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর গাড়ি প্রতিস্থাপনের মতো খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতে পারে। এতে শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিলের ফলে যে আর্থিক সাশ্রয় হওয়ার কথা, তা বাস্তবে কমে যেতে পারে।

এ কারণে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে হলে এ বিষয়ে সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। অনেকের মতে, এমপিদের জন্য শুল্কমুক্ত বা রাষ্ট্রীয় গাড়ি সুবিধা—উভয় ক্ষেত্রেই পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন, যাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়ানো যায়।

এদিকে, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় আইন প্রণয়ন ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পৃথকভাবে নির্ধারিত। সংসদ সদস্যরা জাতীয় পর্যায়ে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন, আর স্থানীয় উন্নয়ন পরিচালিত হয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এই ভারসাম্যই কার্যকর গণতান্ত্রিক শাসনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

তবে উপজেলা পর্যায়ে এমপিদের জন্য দাপ্তরিক কাঠামো গড়ে তোলা হলে স্থানীয় প্রশাসনে তাদের প্রভাব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। এতে নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সমস্যা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা, আইন প্রণয়ন করা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে অংশ নেওয়া। সরাসরি স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না- এমন মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ কারণে উপজেলা পর্যায়ে এমপিদের জন্য অফিস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কার্যকর ছিল। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত করা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে- এমন অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান উদ্যোগকে অনেকেই সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কিন্তু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের স্থানীয় কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং কেন্দ্রীয়করণের প্রবণতা বাড়তে পারে।

তবে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এমপিরা স্থানীয় উন্নয়নে নীতিগত ও তদারকিমূলক ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে তা সরাসরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে পরিণত হওয়া উচিত নয়।

সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিল এবং উপজেলা পর্যায়ে অফিস স্থাপনের মতো সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের আগে এর আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় ব্যয় সাশ্রয়, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যকারিতা—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করেই নীতিনির্ধারণ করা উচিত।

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।