বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত

কিশোরগঞ্জ সদরে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সদর উপজেলার হারুয়া কলেজ রোড এলাকায় নিজ বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. শামীম (৪০) মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত ভাতিজা লিংকন মৃত সুলতানের ছেলে বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে লিংকন বাসায় প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শামীমকে উপর্যুপরি আঘাত করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় শামীম ও তার মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, শামীমের পেট ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের চার থেকে পাঁচটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের সবার সামনে লিংকন এসে আমার স্বামীকে পেটে ছুরি মেরেছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।”

নিহতের মা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দোকান ও সম্পত্তি নিয়ে শামীম ও লিংকনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তার দাবি, লিংকন জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছিল। এ বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, নিহতের সঙ্গে অভিযুক্তের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও সম্পত্তিগত বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন সকালে ঘরের ভেতরে পরিবারের সদস্যদের সামনে শামীমকে ছুরিকাঘাত করে লিংকন পালিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা আহত অবস্থায় শামীমকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গুরুদয়াল সরকারি কলেজে নতুন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর লুৎফুন নাহার

শাহীন আলম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
গুরুদয়াল সরকারি কলেজে নতুন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর লুৎফুন নাহার

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজের নতুন উপাধ্যক্ষ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন প্রফেসর লুৎফুন নাহার। এর আগে তিনি একই কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রফেসর লুৎফুন নাহার বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ২৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা। দীর্ঘ শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি গুরুদয়াল সরকারি কলেজের বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি কলেজটির সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কাজে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নতুন দায়িত্বে তিনি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম, শৃঙ্খলা ও সার্বিক পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নবাগত উপাধ্যক্ষ প্রফেসর লুৎফুন নাহার বলেন, কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা, সংস্কৃতি, শৃঙ্খলা ও সার্বিক মানোন্নয়নে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে চান।

তিনি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সবার দোয়া প্রত্যাশা করেন তিনি।

এদিকে, প্রফেসর লুৎফুন নাহারের নতুন দায়িত্ব গ্রহণে গুরুদয়াল সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তাড়াইলে কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের দিনব্যাপী কর্মশালা

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের দিনব্যাপী কর্মশালা

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে তাড়াইলের স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসা ঐক্য পরিষদ। কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসার শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানযীমুল মাদারিসিল কাওমিয়া আল আরাবিয়ার সাধারণ সম্পাদক শায়খুল হাদিস মাওলানা শফিকুর রহমান জালালাবাদী, ইমাম উলামা পরিষদ, তাড়াইলের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন, ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হাফেজ মুফতি মুসা খান, ময়মনসিংহের নান্দাইলের পাঁচবাড়ীয়া নাদিয়াতুল কুরআন মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আমরুল্লাহ, তাড়াইলের সহিলাটি জামে মসজিদের খতিব ও শায়খুল হাদিস মাওলানা ছাদেকুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জের বড়ভাগ এমদাদুল উলুম আলিম মাদরাসার প্রভাষক হাফেজ মাওলানা আতাউর রহমান শাহান।

স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসা ঐক্য পরিষদ, তাড়াইল উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুর রউফের সভাপতিত্বে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা এমদাদুল্লাহ।

দিনব্যাপী কর্মশালায় কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থা, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে পাঠ উপস্থাপন, শিক্ষকদের দায়িত্ব ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের বয়স, সক্ষমতা ও শেখার উপযোগিতা বিবেচনায় নিয়ে পাঠকে সহজ, আকর্ষণীয় ও কার্যকরভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং পাঠদানের ক্ষেত্রে আধুনিক ও কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

আয়োজকরা বলেন, শিক্ষার গুণগত মান অনেকাংশেই শিক্ষকের দক্ষতা ও পাঠদানের পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। তাই শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো গেলে কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তাঁরা আরও বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষকদেরও নিয়মিত শেখা ও নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মশালা আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার ৪৫ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার ৪৫ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৪৫ শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. হাবীবুর রহমান।

একই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রকল্যাণ তহবিলের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর ওই তহবিল থেকে বিভাগের দুজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ড. জি এম শফিউর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য ড. মো. হাবীবুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে উপউপাচার্য ড. জি এম শফিউর রহমান বলেন, নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অগ্রগতির জানান দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপউপাচার্য বলেন, এ স্বীকৃতি শুধু উদযাপনের বিষয় নয়; বরং শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার জন্য এটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পাওয়া এ স্বীকৃতির মর্যাদা ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. মো. হাবীবুর রহমান নিজের ছাত্রজীবনে বৃত্তি পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বৃত্তির অর্থের পরিমাণের চেয়ে এর মাধ্যমে পাওয়া স্বীকৃতিটাই বড় সম্মানের। এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না। শিক্ষার্থীদের মার্জিত আচরণ, শালীনতা, মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহারসহ মানবিক গুণাবলিও অর্জন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আচরণ ও চলাফেরায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসাও প্রকৃত শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরও বলেন, পরিবার ও দেশের প্রতি প্রত্যেকের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

এ সময় উপাচার্য কৃষক, শ্রমিক, কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষক—সব পেশার মানুষকে সমান সম্মান করার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও অসচ্ছল ৪৫ শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রকল্যাণ তহবিলের উদ্বোধন করা হয় এবং ওই তহবিল থেকে বিভাগের দুজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।