হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য, কিশোরগঞ্জে পুলিশ-ডিবির অভিযান
কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের দুটি হাসপাতালে দালাল চক্রের তৎপরতার অভিযোগে যৌথ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হয়রানি এবং বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ২৫০ শয্যা কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রকে ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। চক্রের সদস্যরা চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট চিকিৎসক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। বিশেষ করে হাসপাতালের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় রোগীদের সঙ্গে দালালদের যোগাযোগ এবং তাঁদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের পর জেলা পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় হাসপাতাল এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাচল, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং রোগী হয়রানির অভিযোগগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। দালাল চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত এবং তাঁদের কার্যক্রমের ধরন কী—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযানকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দিনভর হাসপাতাল দুটির আশপাশে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়। এতে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তবে অভিযানে কাউকে আটক বা কোনো নির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি জেলার হাসপাতালগুলোতে দালালদের তৎপরতা বন্ধে পুলিশের অবস্থান তুলে ধরেন এবং রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হয়রানি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা, হয়রানি কিংবা অনৈতিকভাবে অন্য কোনো চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্রের কার্যক্রম বন্ধে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে দালালদের খপ্পরে পড়লে অনেক সময় তাঁরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা চিকিৎসকের বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে রোগীদের অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করা হলে এতে চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হয়রানি বন্ধে পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array