ডেঙ্গু রোধে সচেতনতার ডাক, করিমগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালি
দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার বিস্তার রোধে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে শনিবার সকাল ১০টায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা নিধন এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়। র্যালির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের করণীয় ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জনসাধারণের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—ফুলের টব, পুরোনো টায়ার, ডাবের খোসা, বালতি বা যেকোনো পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এছাড়া দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, জ্বর হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক উম্মে মুসলিমা বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এজন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ‘নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’—এই বার্তাকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুলতে হবে। প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “করিমগঞ্জকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা নিধন কার্যক্রম এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রিয়াদ শাহেদ রনি বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। অনেকেই সাধারণ জ্বর মনে করে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন, যা পরবর্তীতে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।”
তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের আহ্বান জানান।













