কটিয়াদীতে জমি দখলের অভিযোগ, ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আতখলা গ্রামে এক নিরীহ পরিবারের ১৬৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সাজ্জাদ হোসেন কিশোরগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি (নং-৩৬৪) ১৭ জনকে আসামি করে দায়ের করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আতখলা গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে মো. রতন ভূঁইয়া ওরফে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ (৬২)।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি মৃত গোলাপ মিয়ার ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট জমির বৈধ মালিক ও ভোগদখলকারী। তার দাবি, ওই সম্পত্তি তার বাবা এবং চাচা মো. কামাল হোসেন ভূঁইয়ার নামে রেকর্ডভুক্ত। জমির নামজারি (খারিজ) সম্পন্ন রয়েছে এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিরীহ ও অসহায় মনে করে নালিশি ১৬৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে। একপর্যায়ে মো. রতন ভূঁইয়া ওরফে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমি দখল করে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সর্বশেষ গত ২৪ জুলাই (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর বাদীর বাড়ির প্রাঙ্গণে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে আরেকটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই বৈঠকে বিবাদীপক্ষ উপস্থিত হয়নি।
বৈঠকে উপস্থিত বিএনপি নেতা মো. বাবলু মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা হাজী মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. আশরাফুল ইসলাম সোহাগসহ কয়েকজন জানান, তারা জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, উপস্থাপিত কাগজপত্র অনুযায়ী জমির মালিকানা মো. সাজ্জাদ হোসেনের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তারা প্রকৃত মালিকের দখল নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মামলার বাদী মো. সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, প্রধান বিবাদী রতন ভূঁইয়া তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ জমি ফেরত পেতে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।









Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array