মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের নতুন কমিটি গঠন, চেয়ারম্যানের স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের ঘোষণা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের নতুন কমিটি গঠন, চেয়ারম্যানের স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের ঘোষণা

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জেলা ইউনিট কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ সাধারণ সভা (ওজিএম) শেষে সর্বসম্মতিক্রমে নবগঠিত কমিটির পদাধিকারী ও সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃত্ব চূড়ান্ত করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ডা. মো. আতিকুল সারোয়ার। সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লুৎফুর রহমান চৌধুরী হেলাল।

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মাহবুবুল আলম, মো. আব্দুল্লাহ আল মোহাইমিন (লাক মিয়া), মোস্তাক আহমেদ শাহীন, এ এফ এম ইমদাদ উল্লাহ ও আফতাব উদ্দিন মিলন।

সভাটি সঞ্চালনা করেন রেড ক্রিসেন্টের উপসহকারী পরিচালক ও ইউনিট লেভেল কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোতালিব।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান জেলার মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বেশ কিছু তাৎক্ষণিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট কার্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিনামূল্যে বিশেষায়িত চক্ষু ও ডেন্টাল ক্যাম্প আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আর্তমানবতার কল্যাণে রেড ক্রিসেন্টের সার্বিক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে আরও বেগবান করতে নতুন কমিটির কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি স্থানীয় সুধীসমাজ ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।’

সভায় উপস্থিত সাধারণ সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটির দায়িত্বশীল নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ জেলায় দুর্যোগকালীন তৎপরতা, রক্তদান কর্মসূচি এবং বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

শতভাগ সাক্ষরতার লক্ষ্য নিয়ে হোসেনপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
শতভাগ সাক্ষরতার লক্ষ্য নিয়ে হোসেনপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন

‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কর্মীরা অংশ নেন।

পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে ঝরে পড়া শিশু ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার আলো ছড়িয়ে দিতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘সাক্ষরতা হলো সব উন্নয়নের প্রবেশদ্বার। একজন শিক্ষিত মা যেমন একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে পারেন, তেমনি একজন সাক্ষর ব্যক্তি তাঁর পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শতভাগ সাক্ষরতার কোনো বিকল্প নেই। হোসেনপুর উপজেলাকে শতভাগ সাক্ষর উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাদিকুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে জালাল উদ্দীন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে জালাল উদ্দীন

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে কমিটি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল খায়ের ভূঁইয়া। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য।

অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তথ্য অনুযায়ী, তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা, বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে সংসদীয় নজরদারির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে।

 

হোসেনপুরের শাহেদলে ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের শাহেদলে ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ৬ নম্বর শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও আশুতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন। এ সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সেবা কার্যক্রম, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সার্বিক পরিবেশের খোঁজখবর নেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউএনও এসব পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

পরিদর্শনের শুরুতে ইউএনও শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা প্রদানের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, ভিজিডি, ভিজিএফ, টিসিবিসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

নাগরিকদের সরকারি সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন ইউএনও। সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

পরে ইউএনও শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি, গুণগত মান, ব্যয় এবং এসব প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ কতটা উপকৃত হচ্ছেন, সে বিষয়ে খোঁজ নেন।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইউএনও।

এরপর ইউএনও মোছা. রেকসোনা খাতুন আশুতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পড়াশোনা ও বিদ্যালয়সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষার পরিবেশ ও সার্বিক কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন ইউএনও। তিনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, ওয়াশ ব্লক এবং মিড-ডে মিল কার্যক্রমের বিষয়েও খোঁজখবর নেন।

বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে শিক্ষার মান বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও মানসম্মত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন ইউএনও।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ উদ্দিন, ইউপি সদস্য-সদস্যাবৃন্দ, আশুতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক।

পরিদর্শন সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রেকসোনা খাতুন বলেন, “নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আজ শাহেদল ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছি। সরকারি সেবা যাতে জনগণের দোরগোড়ায় সঠিকভাবে পৌঁছে এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যাতে মানসম্মত হয়, সেজন্যই এই পরিদর্শন। আশুতিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সন্তোষজনক। তবে আরও উন্নতির জন্য শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হতে বলা হয়েছে।”

ইউএনওর এ পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি সেবা কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।