মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

‘রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীর পর এখন নতুন করে গুপ্ত শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীর পর এখন নতুন করে গুপ্ত শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে’

কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংগঠনটিকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও অপবাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আগে কখনো ‘রাজাকার’, কখনো ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলা হয়েছে। এখন নতুন করে ‘গুপ্ত’ শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রশিবিরকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন জাহিদুল ইসলাম।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এখনো আমাদেরকে নানা প্রোপাগান্ডা, নানাভাবে অপবাদ দেওয়া হয়। কখনো আমাদেরকে রাজাকার, কখনো যুদ্ধাপরাধী বলা হয়েছে। এখন একটা শব্দ বের হয়েছে ‘গুপ্ত’। তোমাদের এখানে আসার আগেও শুনলাম ‘গুপ্ত’।”

তিনি আরও বলেন, “এত সুন্দর বড় একটি অনুষ্ঠান শিল্পকলায় হচ্ছে, এরপরও কেউ না কেউ ফেসবুকে এসে লিখবে ‘গুপ্ত’। তার সঙ্গে একসঙ্গে বসে আমরা টকশো করছি, এরপরও তিনি আমাদেরকে বলছেন ‘গুপ্ত’।”

একটি ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিজেদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। তিনি বলেন, “আমরা কিছু কিছু জায়গায় বলেছি, আপনাদের সাংগঠনিক যত কাজ, সবগুলো কাজ দেশের মানুষের কাছে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শো করুন। ছাত্রশিবির যে কাজ করেছে, তাও শো করুন।”

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এরপরও তারা মেনে নেবে না। সব দায় আমাদের ওপর দিয়ে দেবে। মনে আছে, একটি সংবাদ সম্মেলনে বলছিল, শিবিরের ওপর দায় দিয়ে দাও।”

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্লাস পাওয়া পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা।

জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ বিল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আবু আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক, সাবেক নায়েবে আমির মুসাদ্দেক ভূইয়া, সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ ছাত্রশিবিরের নেতারা।

অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানানো হয় এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও সাফল্য কামনা করা হয়।

কিশোরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের নতুন কমিটি গঠন, চেয়ারম্যানের স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের ঘোষণা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের নতুন কমিটি গঠন, চেয়ারম্যানের স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের ঘোষণা

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জেলা ইউনিট কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ সাধারণ সভা (ওজিএম) শেষে সর্বসম্মতিক্রমে নবগঠিত কমিটির পদাধিকারী ও সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃত্ব চূড়ান্ত করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ডা. মো. আতিকুল সারোয়ার। সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লুৎফুর রহমান চৌধুরী হেলাল।

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মাহবুবুল আলম, মো. আব্দুল্লাহ আল মোহাইমিন (লাক মিয়া), মোস্তাক আহমেদ শাহীন, এ এফ এম ইমদাদ উল্লাহ ও আফতাব উদ্দিন মিলন।

সভাটি সঞ্চালনা করেন রেড ক্রিসেন্টের উপসহকারী পরিচালক ও ইউনিট লেভেল কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোতালিব।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান জেলার মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বেশ কিছু তাৎক্ষণিক উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট কার্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিনামূল্যে বিশেষায়িত চক্ষু ও ডেন্টাল ক্যাম্প আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আর্তমানবতার কল্যাণে রেড ক্রিসেন্টের সার্বিক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে আরও বেগবান করতে নতুন কমিটির কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি স্থানীয় সুধীসমাজ ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।’

সভায় উপস্থিত সাধারণ সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটির দায়িত্বশীল নেতৃত্বে কিশোরগঞ্জ জেলায় দুর্যোগকালীন তৎপরতা, রক্তদান কর্মসূচি এবং বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

শতভাগ সাক্ষরতার লক্ষ্য নিয়ে হোসেনপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ
শতভাগ সাক্ষরতার লক্ষ্য নিয়ে হোসেনপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালন

‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কর্মীরা অংশ নেন।

পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে ঝরে পড়া শিশু ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার আলো ছড়িয়ে দিতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘সাক্ষরতা হলো সব উন্নয়নের প্রবেশদ্বার। একজন শিক্ষিত মা যেমন একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে পারেন, তেমনি একজন সাক্ষর ব্যক্তি তাঁর পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শতভাগ সাক্ষরতার কোনো বিকল্প নেই। হোসেনপুর উপজেলাকে শতভাগ সাক্ষর উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাদিকুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে জালাল উদ্দীন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে জালাল উদ্দীন

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে কমিটি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল খায়ের ভূঁইয়া। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য।

অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) তথ্য অনুযায়ী, তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা, বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে সংসদীয় নজরদারির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে।