রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

কাপ্তাই হ্রদের পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, ১৬ স্পিলওয়ে গেট ৩ ফুট খোলা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কাপ্তাই হ্রদের পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, ১৬ স্পিলওয়ে গেট ৩ ফুট খোলা

কাপ্তাই হ্রদের পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বাঁধের ঝুঁকি এড়াতে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৬টি স্পিলওয়ে গেট ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে এ তথ্য জানান কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, হ্রদে পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টায় প্রথম দফায় ১৬টি স্পিলওয়ে গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। তখন প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছিল। তবে পানির চাপ না কমায় ধাপে ধাপে গেট খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়।

শনিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে স্পিলওয়ে গেটগুলো ১ ফুট করে খোলা হয়। এ সময় প্রতি সেকেন্ডে ১৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছিল। পরে রোববার ভোর ৭টায় গেট খোলার পরিমাণ ২ ফুট করা হয়। সর্বশেষ সকাল ১০টায় গেটগুলো ৩ ফুট পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয়।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ছিল ১০৬ দশমিক ০২ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

এদিকে, হ্রদের পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রমও পূর্ণমাত্রায় চালু রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের সবকটি সচল রেখে বর্তমানে ২২০ থেকে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।

হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের মাত্রা বাড়া বা কমার ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে গেট খোলার পরিমাণ পুনরায় সমন্বয় করা হবে।

কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার হুমকি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার দুপুরে শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর থেকে এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবীর, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্সসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে।

বক্তারা অবিলম্বে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সমাবেশ শেষে একই দাবিতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।

জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ; স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ; স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার তাগিদ

গণতন্ত্রকে সুসংহত ও শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসক রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে তিনি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র কেবল জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। গণতন্ত্রের শেকড় মজবুত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ নাগরিকদের উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একই সঙ্গে জেলা পরিষদের সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও গতিশীলতা আনার ওপরও বিশেষ জোর দেন রাষ্ট্রপতি।

সৌজন্য সাক্ষাতে জেলা পরিষদের প্রশাসকেরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। তারা রাষ্ট্রপতির দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সাবেক উপমন্ত্রী জাহিদুল হকের স্মরণে পাকুন্দিয়ায় দোয়া ও আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
সাবেক উপমন্ত্রী জাহিদুল হকের স্মরণে পাকুন্দিয়ায় দোয়া ও আলোচনা

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-১ (পাকুন্দিয়া-হোসেনপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক আইন, বিচার ও নৌপরিবহন উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবিএম জাহিদুল হকের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত পাকুন্দিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কলেজের অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাম্মেল হক, উপাধ্যক্ষ মো. আহসানুল হক, সহকারী অধ্যাপক আইরিন পারভীন, শামীমা বেগম, আজহারুল ইসলাম, এনামুল হক, আতাউর রহমান ভূঁইয়া, গীতা রানী সাহা, ফরিদুজ্জামান, তৌফিকুল ইসলাম এবং প্রভাষক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে মরহুম এবিএম জাহিদুল হকের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কলেজের ইসলামী শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. তৌফিকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট এবিএম জাহিদুল হক পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-১ (পাকুন্দিয়া-হোসেনপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের আইন, বিচার ও নৌপরিবহন উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর অঞ্চলের রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।