রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

‘গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে’

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ অন্যতম ভয়ংকর অপরাধ। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে থাকে।

বাংলাদেশের বিগত সরকারের বিরুদ্ধে গুম ও অপহরণের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম-অপহরণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখতে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু কোনো ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু জড়িয়ে থাকে। স্বজনদের দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিসির রোম সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেলে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নানা কর্মসূচি আয়োজন করেছে।

জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের দমনে এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবার তাঁদের স্বজনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারে না এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তাঁদের স্মরণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটির পটভূমি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম বন্ধের পাশাপাশি এই অপরাধের দায়মুক্তি বিলোপ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গুম হওয়া সব ব্যক্তির সুরক্ষায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি আন্তর্জাতিক সনদের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

পরবর্তীতে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ কার্যকর হয়। এই সনদের আওতায় ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা প্রতি বছর দিনটি পালন করে আসছে।

দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা, রাষ্ট্রগুলোর ওপর জবাবদিহির চাপ সৃষ্টি করা এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশেও দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুমের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম করে ‘আয়নাঘরে’ আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের বিভিন্ন তথ্য গুম কমিশন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী এমনকি সাংবাদিকদের গুম করার অভিযোগও সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাঁদের স্বজনদের তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর বিষয়টি আলোচনায় নতুন মাত্রা পায়। গুমের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক আবেদন দাখিল করা হয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বিচার চেয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দাখিল করেছেন।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী মত দমনের নামে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীসহ বহু মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এসব ঘটনার তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিকার প্রদান এবং মানবাধিকার ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে কিংবা পাঁচ বছর পরও ব্যক্তির সন্ধান না মিললে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিত গোপন বন্দিশালা থেকে দীর্ঘদিন পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মুক্ত হয়ে ফিরে আসার পর গুমের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক নয়টি মূল সনদের আটটিতে আগেই অনুস্বাক্ষর করেছিল। তবে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের অনুরোধ সত্ত্বেও বিগত সরকার গুমবিরোধী সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করে।

গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদটি ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ৩২টি দেশ এটি অনুস্বাক্ষর করার পর ২০১০ সাল থেকে এর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হয়। সামগ্রিকভাবে এই সনদের লক্ষ্য হলো গুম বন্ধের পাশাপাশি এই অপরাধের দায়মুক্তি রোধ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা।

তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনে প্রখর রোদ ও তীব্র দাবদাহ, আর রাতে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না। দিনের বেলায় বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ চান্দু ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার মতো বয়স্ক মানুষের পক্ষে তীব্র গরমে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।’

তিনি লোডশেডিং কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ মিয়ার বাড়িতে ছোট আকারের একটি মুরগির খামার রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের মুরগিগুলো নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, লোডশেডিংয়ের কারণে এরই মধ্যে ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খামারে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

চাল, হলুদ ও মরিচ ভাঙানোর ব্যবসা করেন জসীম উদ্দিন। লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁর ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন তো কারেন্টই থাকে না। আমার ব্যবসা লাটে ওঠার দশা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সম্ভব হবে না।’

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ও বিক্রি কমছে, অন্যদিকে দোকান পরিচালনার খরচও বাড়ছে।

তাড়াইল জোনাল অফিসের কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড দাবদাহে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এই অবস্থায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাড়াইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে রাতের লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

বিগত দেড় দশকের সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই সময়ে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করলেই অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গুরুতর অপরাধের ঘটনা দীর্ঘদিন অস্বীকার করে গেছে। তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমন, ব্যারিস্টার আরমান এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীর কথা স্মরণ করেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে ভিনদেশে ফেলে আসার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ভয়াবহ। কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার উদ্দেশ্যে দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থে বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের গুম ও খুন করা হয়েছে।

গুম প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া এবং গুমের ঘটনা চিরতরে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারকাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এক মাসের ব্যবধানে সভাপতি পরিবর্তন

আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদে এক মাসের ব্যবধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত জুলাইয়ে মনিরুজ্জামান মনিরকে সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার পর তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে ২৩ আগস্ট ওই পদে মোস্তাফিজুর রহমান (মন্টু)কে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির প্রশ্ন তুলে বিষয়টির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও তদন্ত দাবি করেছেন।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মুন্সী হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত ২৩ আগস্টের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদটি শূন্য ঘোষণা করে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য মোস্তাফিজুর রহমানকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট আদেশের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই মনিরুজ্জামান মনিরকে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ফলে এক মাসের ব্যবধানে সভাপতি পরিবর্তনের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সভাপতি পদ থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে গত ২৯ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করেন মনিরুজ্জামান মনির। তাঁর অভিযোগ, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে কোনো বৈধ ও সন্তোষজনক কারণ না জানিয়ে কমিটি ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টির সুষ্ঠু ব্যাখ্যা, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানানোর দাবি করেন সাবেক এই সভাপতি।

তবে মনিরুজ্জামান মনিরের এসব অভিযোগের বিষয়ে নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের কোন বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে এডহক কমিটির নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান (মন্টু)। তিনি ইসলাম পরিবারের সদস্য। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও ইসলাম পরিবারের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৮৬ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবী মরহুম জহুরুল ইসলাম বাজিতপুরের ভাগলপুরে তাঁর পিতা আফতাব উদ্দিনের নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসলাম পরিবারের বিভিন্ন সদস্য অতীতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবারও শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত।

তাঁর বাবা মোখলেসুর রহমান এবং দাদা হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক। বাজিতপুরের হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের নামকরণের সঙ্গেও তাঁর দাদার নাম জড়িত বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শিক্ষা বিস্তার ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি ভূমিকা রাখছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এদিকে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সাম্প্রতিক এসএসসি ফলাফলও সন্তোষজনক।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৩২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ বছর ৮৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, ফলাফলের দিক থেকে এটি কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম ভালো ফলাফল। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশা করছেন তাঁরা।

তবে এক মাসের ব্যবধানে এডহক কমিটির সভাপতি পরিবর্তনের কারণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।