নবম পে-স্কেল: সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে, প্রজ্ঞাপন ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম বেতনকাঠামো (পে-স্কেল) অনুমোদনের জন্য আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এর মধ্যে নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ-সংক্রান্ত কাজ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী বৃহস্পতিবারের (৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা কত শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে, সে বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় এটি ঘোষণা করা হতে পারে।
গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। প্রস্তাবিত বেতনকাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত এই বেতনকাঠামো এখনো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট আকারে প্রকাশ হয়নি। ফলে সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে গ্রেডভিত্তিক বেতনকে চূড়ান্ত বেতনকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত কাঠামোয় ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
| গ্রেড | প্রস্তাবিত মূল বেতন || ১ম | ১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত) || ২য় | ১,৩২,০০০-১,৫৩,০০০ টাকা || ৩য় | ১,১৩,০০০-১,৪৮,৮০০ টাকা || ৪র্থ | ১,০০,০০০-১,৪২,৪০০ টাকা || ৫ম | ৮৬,০০০-১,৩৯,৭০০ টাকা || ৬ষ্ঠ | ৭১,০০০-১,৩৪,০০০ টাকা || ৭ম | ৫৮,০০০-১,২৬,৮০০ টাকা || ৮ম | ৪৭,২০০-১,১৩,৭০০ টাকা || ৯ম | ৪৫,১০০-১,০৮,৮০০ টাকা || ১০ম | ৩২,০০০-৭৭,৩০০ টাকা || ১১তম | ২৫,০০০-৬০,৫০০ টাকা || ১২তম | ২৪,৩০০-৫৮,৭০০ টাকা || ১৩তম | ২৪,০০০-৫৮,০০০ টাকা || ১৪তম | ২৩,৫০০-৫৬,৮০০ টাকা || ১৫তম | ২২,৮০০-৫৫,২০০ টাকা || ১৬তম | ২১,৯০০-৫২,৯০০ টাকা || ১৭তম | ২১,৪০০-৫১,৯০০ টাকা || ১৮তম | ২১,০০০-৫০,৯০০ টাকা || ১৯তম | ২০,৫০০-৪৯,৬০০ টাকা || ২০তম | ২০,০০০-৪৮,৪০০ টাকা |
এদিকে, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত গ্রেড, বেতন ও ভাতা সম্পর্কে কোনো তথ্যকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array