বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জের দায়িত্ব ইয়াসের খান চৌধুরীর, টাঙ্গাইল-নরসিংদীতে শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জের দায়িত্ব ইয়াসের খান চৌধুরীর, টাঙ্গাইল-নরসিংদীতে শরীফুল আলম

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে বণ্টন করেছে সরকার। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের তদারকি জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই দায়িত্ব বণ্টনে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি দুই জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে বণ্টনের কথা জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কিশোরগঞ্জের প্রশাসনিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত হলো।

কিশোরগঞ্জ জেলার জন্য এ দায়িত্ব বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। জেলার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি সেবার মান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোথাও ধীরগতি, অনিয়ম, দুর্নীতি বা সমন্বয়হীনতা দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোকাবিলায় এই তদারকি ব্যবস্থা কাজে আসতে পারে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যরা সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাঁদের থাকবে।

সরকারের টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি নির্মূলের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে এই তদারকি ও সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

কিশোরগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইয়াসের খান চৌধুরীর সামনে জেলার সরকারি কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয়ের একটি বিস্তৃত দায়িত্ব তৈরি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম এবং জনসেবার মান পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণেও সমন্বয়মূলক ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকবে।

কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়নেও মাঠপর্যায়ের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর নিয়মিত তদারকি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

সরকারের নতুন দায়িত্ব বণ্টনে দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জেলা পর্যায়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জেও মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এই দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং সরকারি সেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করাও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর তদারকির আওতায় থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যরা সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব করতে পারবেন না।

অর্থাৎ এই দায়িত্ব মূলত সরকারের সার্বিক কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয়মূলক দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এখতিয়ার বহাল থাকবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ একটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন, আবার কেউ একাধিক জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

এর অংশ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর জেলার দায়িত্ব।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের আরেক সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে একই গেজেটের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের এই সংসদ সদস্যের জন্য এটি নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে অতিরিক্ত জেলা তদারকির দায়িত্ব।

ফলে কিশোরগঞ্জের দুইজন সংসদ সদস্য ও সরকারের দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বের আওতায় জেলার বাইরের চারটি জেলার সরকারি কার্যক্রমও যুক্ত হলো—ইয়াসের খান চৌধুরীর দায়িত্বে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর এবং মো. শরীফুল আলমের দায়িত্বে টাঙ্গাইল ও নরসিংদী।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি নির্মূল বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাসহ এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা নিজ নিজ জেলার কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন জেলার সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও এই দায়িত্ব বণ্টনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কিশোরগঞ্জের দায়িত্ব পাওয়ার পর তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এখন কিশোরগঞ্জে সরকারের এই নতুন তদারকি কাঠামো কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন, প্রশাসনের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় এবং উন্নয়ন ও সরকারি সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর।

সগড়ায় ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
সগড়ায় ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জে জমে উঠেছিল ‘সগড়া ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। বুধবার সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে ‘লিজেন্ড অব সগড়া’ ও ‘কেজি টপ ওয়ান’ দল মুখোমুখি হয়।

সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১ নম্বর রশিদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক মুর্শিদ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল খান। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফেরদৌস আহম্মেদ নেভিন।

টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মো. আব্দুল আহাদ রঞ্জু মিয়া। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বিদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত থেকে ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন।

ফাইনাল খেলায় লিজেন্ড অব সগড়া ও কেজি টপ ওয়ান দলের মুখোমুখি লড়াই ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। খেলা শেষে আয়োজকরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে ৩ পরিবার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে ৩ পরিবার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে গত পাঁচ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বাধ্য হয়ে তাদের অন্য বাড়ির রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সম্প্রতি পৌর শহরের চণ্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগে মাহমুদুল হাসান রনি (৩১), তাহের আলী (৫০), শফিক মিয়া (৪০), নুর মিয়া (৪০), আব্দুর রহিম (৫৫) ও মিজান মিয়া (৩০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির মাঝখানের চলাচলের উঠান বা রাস্তাটি টিন ও বাঁশ দিয়ে শক্তভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বংশপরম্পরায় তিনটি পরিবারের সদস্যরা এই পথটি ব্যবহার করে আসছিলেন। হঠাৎ করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ঘরবন্দি হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।

ভুক্তভোগী মিন্নাত আলী বলেন, “আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমরা ছয় ভাই ও আমাদের সন্তানরা বসবাস করছি। আমাদের ভাইদের মধ্যে এখনো কোনো বাটোয়ারা বা বণ্টননামা দলিল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান রনিসহ একটি ভূমিদস্যু চক্র আমাদের পরিবারের দুই ভাই তাহের আলী মিয়া ও আরমান মিয়ার কাছ থেকে লিখিত পাওয়ার নিয়ে আমাদের বাড়ির স্থাপনা ও টয়লেট ভেঙে বসতবাড়ি দখল করে নেয়।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর তারা আমার তিন ভাইয়ের ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। যার কারণে আমাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের বাকি ভাইদের বাড়ির অংশ বিক্রি না করায় ঘরের সামনেই টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আমাদের দুর্ভোগে ফেলেছে। আমরা আমাদের নিজ পৈত্রিক ভিটায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান বলেন, “শফিকুল রহমানসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত পাঁচ দিন ধরে এই বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাদের কিছু বলতে গেলেই তারা ক্ষমতা দেখায় এবং বলে—আমাদের বিচার করার কেউ নেই। যারা জমি কিনেছেন বলে দাবি করছেন, দলিলেও তাদের নাম নেই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ভূমিদস্যু মাহমুদুল হাসান রনির সঙ্গে যোগসাজশ করে শফিকুল ইসলাম, তাহের মিয়া ও নুরু মিয়ারা এই অপকর্ম চালাচ্ছে। আমরা এর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চাই এবং চলাচলের জন্য আমাদের জায়গা উন্মুক্ত চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, “আমরা একজন ওয়ারিশ বাদে বাকি সবার কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমিতেই বেড়া দিয়েছি এবং ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য বিকল্প জায়গা করে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “ইদানীং ভৈরবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চলাচলের রাস্তা একটি মৌলিক অধিকার। মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা যাই থাকুক না কেন, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এটি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

কিশোরগঞ্জে এসআরবি-১৪-এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এসআরবি-১৪-এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স ‘এসআরবি’ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসআরবি-১৪-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বিজ্ঞ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সদর থানার মাদক মামলা নম্বর-৩২(১)১৯-এর আসামি মো. রাব্বি মিয়া (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রাব্বি মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মো. ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। সদর থানার মাদক মামলায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১০(ক) ধারায় আদালত তাকে দুই বছরের সাজা প্রদান করেন। তিনি আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

এসআরবি-১৪-এর আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।