শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জের দায়িত্ব ইয়াসের খান চৌধুরীর, টাঙ্গাইল-নরসিংদীতে শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জের দায়িত্ব ইয়াসের খান চৌধুরীর, টাঙ্গাইল-নরসিংদীতে শরীফুল আলম

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে বণ্টন করেছে সরকার। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের তদারকি জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই দায়িত্ব বণ্টনে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি দুই জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে বণ্টনের কথা জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কিশোরগঞ্জের প্রশাসনিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত হলো।

কিশোরগঞ্জ জেলার জন্য এ দায়িত্ব বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। জেলার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি সেবার মান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোথাও ধীরগতি, অনিয়ম, দুর্নীতি বা সমন্বয়হীনতা দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোকাবিলায় এই তদারকি ব্যবস্থা কাজে আসতে পারে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যরা সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাঁদের থাকবে।

সরকারের টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি নির্মূলের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে এই তদারকি ও সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

কিশোরগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইয়াসের খান চৌধুরীর সামনে জেলার সরকারি কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয়ের একটি বিস্তৃত দায়িত্ব তৈরি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম এবং জনসেবার মান পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণেও সমন্বয়মূলক ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকবে।

কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়নেও মাঠপর্যায়ের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর নিয়মিত তদারকি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

সরকারের নতুন দায়িত্ব বণ্টনে দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জেলা পর্যায়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জেও মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এই দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং সরকারি সেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করাও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর তদারকির আওতায় থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যরা সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব করতে পারবেন না।

অর্থাৎ এই দায়িত্ব মূলত সরকারের সার্বিক কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয়মূলক দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এখতিয়ার বহাল থাকবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ একটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন, আবার কেউ একাধিক জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

এর অংশ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর জেলার দায়িত্ব।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের আরেক সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে একই গেজেটের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের এই সংসদ সদস্যের জন্য এটি নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে অতিরিক্ত জেলা তদারকির দায়িত্ব।

ফলে কিশোরগঞ্জের দুইজন সংসদ সদস্য ও সরকারের দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বের আওতায় জেলার বাইরের চারটি জেলার সরকারি কার্যক্রমও যুক্ত হলো—ইয়াসের খান চৌধুরীর দায়িত্বে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর এবং মো. শরীফুল আলমের দায়িত্বে টাঙ্গাইল ও নরসিংদী।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি নির্মূল বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাসহ এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা নিজ নিজ জেলার কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন জেলার সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও এই দায়িত্ব বণ্টনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কিশোরগঞ্জের দায়িত্ব পাওয়ার পর তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এখন কিশোরগঞ্জে সরকারের এই নতুন তদারকি কাঠামো কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন, প্রশাসনের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় এবং উন্নয়ন ও সরকারি সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর।

হোসেনপুরে কালের সাক্ষী ২৫০ বছরের ঐতিহাসিক গোল মসজিদ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে কালের সাক্ষী ২৫০ বছরের ঐতিহাসিক গোল মসজিদ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামে প্রায় ২৫০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক গোল মসজিদ আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর এই মসজিদটি শুধু স্থানীয় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের স্থানই নয়, বরং এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একসময় দুর্গম ও অজপাড়াগাঁ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলাম প্রচারের অন্যতম কেন্দ্র ছিল মসজিদটি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণকৌশলের কিছু বৈশিষ্ট্য এখনো প্রাচীনত্বের সাক্ষ্য বহন করছে।

প্রাপ্ত শিলালিপি ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যরীতির আদলে নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে হিজরি ১২১৯ সালের দিকে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয় বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সুদূর ইরাক থেকে শেখ শামছুদ্দিন ভারতবর্ষের পূর্বাঞ্চল, অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব বাংলায় ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে হোসেনপুর পরগনার শাহেদল ইউনিয়নের বাগপাড়া এলাকায় এসে বসতি স্থাপন করেন।

তবে সে সময় জমিদারি ব্যবস্থার প্রভাবে এ অঞ্চল হিন্দু অধ্যুষিত ছিল বলে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয় সমাজপতিদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরবর্তী সময়ে শেখ শামছুদ্দিনের দুই ছেলে শেখ আদম ও শেখ আলম বাগপাড়া এলাকায় মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে জানা যায়।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদটির দেয়াল প্রায় ৩ ফুট প্রশস্ত। মসজিদের ছাদের ওপরের অংশ সম্পূর্ণ গোলাকার আকৃতির হওয়ায় স্থানীয়ভাবে এটি ‘গোল মসজিদ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদটির মূল গাঁথুনিতে চুন, ইট ও আখের লালি ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রাচীন নির্মাণকৌশলের এ বৈশিষ্ট্য মসজিদটির স্থাপত্যিক গুরুত্বকে আলাদা করে তুলেছে।

মসজিদের ভেতরে ইমামসহ তিন কাতারে মোট ১৯ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। সময়ের সঙ্গে স্থানীয় মুসল্লির সংখ্যা ও প্রয়োজন বাড়ায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদটির পরিসর সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, মসজিদটির বয়স ২৫০ বছরেরও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে এর রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। সময়ের প্রয়োজন ও মুসল্লিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মসজিদটির কিছু অংশ সম্প্রসারণও করা হয়েছে।

মসজিদের ভেতরে টাইলস বসানো হয়েছে এবং চারপাশে রং করা হয়েছে। ফলে প্রাচীন স্থাপনাটির মূল কাঠামোর সঙ্গে আধুনিক সংস্কারের ছোঁয়াও যুক্ত হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সংরক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়া হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রায় আড়াই শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এই স্থাপনার ইতিহাস ও নির্মাণকাল যথাযথভাবে যাচাই করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মসজিদটির স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকারি প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মসজিদটির বয়স, নির্মাণশৈলী, শিলালিপি ও ঐতিহাসিক পটভূমি যাচাই করা হলে এর প্রকৃত ইতিহাস আরও স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি যথাযথ সংরক্ষণ করা গেলে এটি হোসেনপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মসজিদটির ইতিহাস ও স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ উদ্যোগ নেবে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হোসেনপুরের এই প্রাচীন স্থাপনার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

৩১ অননুমোদিত অ্যাপে তথ্য দিতে মানা ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
৩১ অননুমোদিত অ্যাপে তথ্য দিতে মানা ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের

সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো ৩১টি অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে গ্রাহকদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় বিএফআইইউ এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমে সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব অননুমোদিত অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে থাকা যোগাযোগের তালিকা, ছবি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে।

পরবর্তী সময়ে ঋণের টাকা আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে এসব অ্যাপ ব্যবহারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিএফআইইউ।

বিএফআইইউ জানায়, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রমে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও মানিলন্ডারিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকা কিংবা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম টাকা, নিবন্ধন ফি বা প্রসেসিং ফি দাবি করা হলেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিএফআইইউ।

বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অবৈধ বা অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপের তালিকায় রয়েছে-

সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, এসব অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারিত হলে কিংবা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে সংস্থাটির কাছে অভিযোগ করা যাবে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, অপরিচিত কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে ঋণ পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকা ও ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।

বিএফআইইউর সতর্কবার্তার মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং আর্থিক হয়রানি থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখা।

নিকলী হাওরে নৌকা বাইচ, বৈঠার ছন্দে মুখর হাওরপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
নিকলী হাওরে নৌকা বাইচ, বৈঠার ছন্দে মুখর হাওরপাড়

সংগ্রহীত ছবি

হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি। চারদিকে থইথই পানি। পানির বুক চিরে ছুটে চলছে একের পর এক নৌকা। একসঙ্গে বৈঠা চালাচ্ছেন মাঝিরা। হাওরের পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শকদের করতালি, হর্ষধ্বনি ও উচ্ছ্বাসে মুখর চারপাশ। নৌকা বাইচকে ঘিরে নিকলী হাওরে ফিরে আসে গ্রাম বাংলার চিরচেনা উৎসবের আবহ।

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার আসানপুর-কাঠালকান্দি এলাকাবাসীর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে নিকলী হাওরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। আয়োজনকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। দুপুরের পর হাওরের চারপাশে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়।

নিকলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-বড় নৌকা নিয়ে মানুষ ছুটে আসেন প্রতিযোগিতা দেখতে। কেউ নৌকায় বসে হাওরে ভেসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন, আবার কেউ হাওরের পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকার ছুটে চলার দৃশ্য উপভোগ করেন। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বয়স্কদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় আনন্দমুখর মিলনমেলায়।

প্রতিযোগিতা শুরুর সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঝিরা একযোগে বৈঠা চালাতে শুরু করেন। মুহূর্তেই নৌকাগুলো ছুটে চলে পানির ওপর দিয়ে। একে অপরকে পেছনে ফেলে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে শুরু হয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বৈঠার ছন্দ যত বাড়তে থাকে, দর্শকদের উচ্ছ্বাসও ততই বাড়তে থাকে।

এবারের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়—২০ মাঝির নৌকা ও আনলিমিটেড মাঝির নৌকা। দুই ক্যাটাগরিতেই বিভিন্ন নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে ২০ মাঝির ক্যাটাগরিতে মাতাব মাঝির নৌকা এবং আনলিমিটেড ক্যাটাগরিতে সেলিম মাঝির নৌকা বিজয়ী হয়।

প্রতিযোগী মাঝি আমিরুল ইসলাম বলেন, “নৌকা বাইচ আমাদের কাছে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্যের অংশ। বৈঠা হাতে নৌকা নিয়ে পানিতে নামার পর জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি আলাদা আনন্দ কাজ করে।”

আরেক প্রতিযোগী হিমেল মিয়া বলেন, “বাইচের সময় পরিবেশটা একেবারেই আলাদা হয়ে যায়। একসঙ্গে অনেক মাঝি বৈঠা চালালে নৌকা দ্রুত ছুটে চলে। দর্শকদের চিৎকার ও করতালিতে আমাদের উৎসাহ আরও বেড়ে যায়।”

বিজয়ী দলের সদস্য রুমান বলেন, “জয়ের জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। সবাই সমন্বয় করে বৈঠা চালিয়েছি। বিজয়ী হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, এত মানুষ নৌকা বাইচ দেখতে এসেছে।”

নৌকা বাইচ দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা করিম বলেন, “আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে গ্রাম বাংলার অনেক লোকজ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। নৌকা বাইচের মতো আয়োজন সেই ঐতিহ্যকে নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরে। নতুন প্রজন্মও আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছে।”

দর্শনার্থী রাকিব হোসেন বলেন, “অনেক দিন পর নৌকা বাইচ দেখে খুব ভালো লাগছে। হাওরের পানিতে নৌকার ছুটে চলা, মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে দারুণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”

স্থানীয়দের কাছে নৌকা বাইচ শুধু খেলা বা বিনোদনের আয়োজন নয়; এটি হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। বর্ষায় হাওর পানিতে ভরে উঠলে নৌকা হয়ে ওঠে মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সেই নৌকাকে ঘিরেই একসময় গ্রাম বাংলার বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠত নৌকা বাইচ।

আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা নৌকা বাইচের ঐতিহ্য ধরে রাখাই ছিল আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে।”

প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজক কমিটির সদস্যরা। বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়ার সময়ও ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। দর্শকরাও করতালি দিয়ে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।

হাওরের জলরাশি, মাঝিদের ছন্দময় বৈঠা আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে নিকলী হাওরে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ। ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচের মধ্য দিয়ে হাওরাঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতির প্রাণবন্ত এক রূপই যেন নতুন করে সামনে আসে।