শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

বিরোধী দলের আন্দোলনে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিরোধী দলের আন্দোলনে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

 

বিরোধী দলের আন্দোলনের কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং এতে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, “বিরোধী দল লং মার্চ দিয়েছে, আবার বলছে আন্দোলন করবে। বাংলাদেশটা যদি আন্দোলনের মধ্যে থাকে, তাহলে এলাকার উন্নয়ন হবে না। এ আন্দোলন এলাকার জন্য ক্ষতি, দেশের জন্যও ক্ষতি।”

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকায় এসডিএফের ‘বি স্ট্রং’ প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তাদের সঙ্গে আরেকটি পক্ষ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, যারা এখন বিরোধী দলে রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার শপথ নেওয়ার দিন বিরোধী দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না এবং সরকারকে সহযোগিতাও করেননি। এখনো তারা আন্দোলনের কথা বলছেন।

তিনি বলেন, “হাসিনার বিরুদ্ধে আমরা ১৭ বছর আন্দোলন করেছি। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। হাসিনা যেভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন, দেশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবাই মিলে আন্দোলন করে দেশকে রক্ষা করেছি, দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছি। এখন আমাদের কাজ হলো এই রক্ষাকে সুরক্ষা করা এবং নতুনভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। এতে বিরোধী দলের সহযোগিতা লাগবে।”

বিরোধী দল আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে জিম্মি করতে চাইছে বলেও মন্তব্য করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “হাসিনা যেভাবে ১৭২ দিন হরতাল দিয়ে দেশের মানুষকে জিম্মি করে ক্ষমতায় এসেছিলেন, পরে ১৭ বছর দেশের ১২টা বাজিয়ে দিয়েছেন। এখন বিরোধী দল মনে করছে, আন্দোলন করলে বিএনপি দুর্বল হয়ে যাবে, তারেক রহমান দুর্বল হয়ে যাবেন, মন্ত্রী-এমপিরা দুর্বল হয়ে যাবেন। সেই সুযোগে মা-বোনেরা বাধ্য হয়ে ভোট দিয়ে তাদের ক্ষমতায় আনবেন। সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না। সেজন্য সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থেকে কাজ করতে হবে।”

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী রাখলে জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশকে স্বনির্ভর করেছিলেন এবং খালেদা জিয়া যেভাবে গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনগণের সঙ্গে কাজ করে দেশের উন্নয়ন করেছিলেন, একইভাবে আগামী পাঁচ বছর কাজ করা হলে মানুষের মুখে হাসি ফোটার সম্ভাবনা রয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ ভুঁইয়া, দিঘলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল আমিন, বিএনপি নেতা শাহজাহান মিয়া এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহের ইসলাম জাহাঙ্গীরসহ অনেকে।

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৪৮৯, নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৪৮৯, নিখোঁজ ২ হাজার ৩৮১

নেপালের রসুয়া অঞ্চল থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ২ হাজার ৩৮১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

নেপাল নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দেশের আটটি জেলা থেকে ৪৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে চিতওয়ান জেলায় ১৮৬ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পূর্ব) জেলায় ১১২ জন, গোর্খায় ৪৪ জন, ধাদিংয়ে ৪০ জন, নুয়াকোটে ৩৭ জন, তানাহুনে ২৯ জন, নওয়ালপরাসী (বারদাঘাট সুস্তা পশ্চিম) জেলায় ২৮ জন এবং রসুয়া জেলায় ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটির পুলিশের হিসাবে, এখনো ২ হাজার ৩৮১ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৬৪৪ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের বেশিরভাগই ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিক।

এ ছাড়া বিদেশে বসবাসকারী বা বিদেশ থেকে ভ্রমণে আসা ১২৭ জন নেপালি এবং দেশের অভ্যন্তরের আরও ১ হাজার ৭৩৭ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নেপাল নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পুলিশ ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক থেকে বাধা অপসারণ এবং নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা বেশি থাকায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দিলে ইতিবাচকভাবে দেখবে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দিলে ইতিবাচকভাবে দেখবে পাকিস্তান

 

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে তা ইতিবাচকভাবে দেখবে পাকিস্তান। তবে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিলে বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ কথা জানান।

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গতকাল জাতীয় সংসদে বলেন, বাংলাদেশকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলে সরকার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তবে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য ভালো-মন্দ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, “এটা আমাদের পরিবার। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা নিয়ে অন্যান্যদের উদ্বেগের অবকাশ নেই।”

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবির কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি চুক্তিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয় বা এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করবে।

তাহির আন্দ্রাবি বলেন, “এটি হলো একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। যার লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।”

তিনি আরও বলেন, “একটি ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে এই চুক্তিতে সেসব দেশ যোগ দিতে পারবে, যারা যৌথ দায়িত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে একই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।”

বাংলাদেশের বিষয়ে ইঙ্গিত করে পাকিস্তানের এই মুখপাত্র বলেন, কোনো দেশ যদি চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়, তাহলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করে তা বিবেচনা করা হবে।

তবে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাকিস্তানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, চুক্তিতে নতুন কোনো দেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগে এর সুযোগ-সুবিধা, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে।

তারেক রহমানের সফর চায় ভারত, সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়াদিল্লির তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের সফর চায় ভারত, সম্পর্ক পুনর্গঠনে নয়াদিল্লির তৎপরতা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে নিতে গত কয়েক দিন ধরে তৎপরতা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জয়ী হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানায় দেশটি। তবে এখনো সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে নেওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লির তৎপরতা নিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

বিবিসির প্রতিবেদনে ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একটি বার্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বার্তায় বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট গার্ডের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান বাতিল করে তাদের মহড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ওই সময় পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফর চূড়ান্ত হয়নি।

বিবিসি বলেছে, ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তরের ওই বার্তা তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরে নেওয়ার জন্য ভারতের আগ্রহ ও প্রস্তুতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে। তবে বার্তাটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার করে নেয় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধানের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লির আগ্রহ অত্যন্ত বেশি। এর সঙ্গে সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর এটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর হবে।

বিবিসি আরও বলেছে, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ভারতের দীর্ঘদিনের মিত্র শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ওই গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ নিহত হন এবং শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান।

এরপর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে।

বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারত মনে করছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে। তবে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এই সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে একটি জটিল বিষয় হয়ে রয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে তাকে ভারতের কাছে ফেরত চেয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করছে।

বিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানায়। পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীনেশ ত্রিবেদী পরে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করলে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান এবং স্মরণীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত কোনো প্রতিবেশী দেশের নেতার সফর নিয়ে ভারত প্রকাশ্যে এ ধরনের আগ্রহ বা উদ্দীপনা খুব একটা দেখায় না। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে নয়াদিল্লির তৎপরতাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া ছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারত ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। তবে ঢাকার কঠোর অবস্থানের কারণে নয়াদিল্লি এখন কিছুটা হতাশ হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কিছু চাহিদা ভারত পূরণ করেছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, মেডিকেল ভিসা দেওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় রয়েছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সহজ করতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রায় ১৫ বছরের শাসনামলে দুই দেশের সরকার সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়।

এ ছাড়া সীমান্তবর্তী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও শেখ হাসিনার সরকার ভারতকে সহযোগিতা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে ভারত বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উপেক্ষা করেছে।

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করায় দুই দেশের সম্পর্কে ওই বিষয়গুলো এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। এর মধ্যে গত ৫ আগস্ট দিল্লির অল ইন্ডিয়া প্রেসক্লাবে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতার প্রভাব পড়তে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরেও। ফলে নয়াদিল্লির আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।