রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

যমুনার দুই পাড়ে নতুন নদীবন্দর, ২০০ কি.মি পথ কমে ১৬ কি.মি.

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
যমুনার দুই পাড়ে নতুন নদীবন্দর, ২০০ কি.মি পথ কমে  ১৬ কি.মি.

বগুড়ার সারিয়াকান্দির এক পাশে যমুনা নদী, ওপারে জামালপুরের মাদারগঞ্জ। নদীপথে দুই এলাকার সরাসরি দূরত্ব আনুমানিক ১৬ কিলোমিটার। কিন্তু সড়কপথে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে হয় সিরাজগঞ্জ ও বঙ্গবন্ধু সেতু ঘুরে। এতে প্রায় ২০০ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে হয়। দীর্ঘদিনের এই ঘুরপথের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যমুনার তীরে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনটে দুটি নতুন অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত ৮ জুলাই পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারিয়াকান্দি নদীবন্দর ও ধুনট নদীবন্দর ঘোষণা করে এবং উভয় বন্দরের সীমানা নির্ধারণ করে। নতুন দুটি নদীবন্দর যুক্ত হওয়ায় দেশে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের সংখ্যা ৫৬টিতে দাঁড়িয়েছে। দুই নদীবন্দরের সংরক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ)।

নদীবন্দর দুটি কার্যকর হলে সারিয়াকান্দি থেকে যমুনা পেরিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জের সঙ্গে সরাসরি নৌযোগাযোগ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সড়কপথের দীর্ঘ ঘুরপথের পরিবর্তে নদীপথে তুলনামূলক কম সময়ে দুই এলাকার মানুষের যাতায়াত সম্ভব হতে পারে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, যমুনার দুই পাড়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের যাতায়াত, আত্মীয়তা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সহজ ও নিয়মিত যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে এই ভৌগোলিক নৈকট্য বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারেনি।

সারিয়াকান্দি থেকে মাদারগঞ্জে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়ে পরিবহন ব্যয়। বিশেষ করে কৃষিপণ্য এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পাঠানোর ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত দূরত্ব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে সারিয়াকান্দির যমুনার তীরঘেঁষা ঘাটগুলোতে সকাল থেকেই মানুষের ব্যস্ততা দেখা যায়। কোথাও ছোট নৌযানে মানুষ পার হচ্ছেন, কোথাও নদীর পাড়ে পড়ে আছে কৃষিপণ্য বোঝাই বস্তা। আবার কোথাও নৌযানে পণ্য ওঠানো-নামানোর প্রস্তুতি চলছে।

নদীর ওপারে জামালপুরের মাদারগঞ্জ। দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও আধুনিক ও নিরাপদ নৌযোগাযোগের অভাবে সেই যোগাযোগ এখনও সীমিত পরিসরে রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নদীবন্দরকে ঘিরে পরিকল্পিত নৌপথ ও অবকাঠামো গড়ে উঠলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. দুলাল মিঞা বলেন, নদীর দুই পাড়ে কৃষিপণ্য, নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের বড় বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে বড় পরিসরে বাণিজ্য গড়ে ওঠেনি। সারিয়াকান্দির উৎপাদিত পণ্য মাদারগঞ্জ ও জামালপুরের বাজারে সহজে পাঠানো গেলে নতুন বাজার তৈরি হবে। একইভাবে ওই অঞ্চলের পণ্যও কম সময়ে বগুড়ায় আনা সম্ভব হবে।

স্থানীয় কৃষক মো. জলিল মিয়া বলেন, বগুড়া ও মাদারগঞ্জ ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হলেও পণ্য নিয়ে যাতায়াতে অনেক পথ ঘুরতে হয়। এতে ভাড়া ও সময়—দুটিই বাড়ে। নিয়মিত নৌযান চলাচল শুরু হলে দুই পাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।

সারিয়াকান্দি ও আশপাশের এলাকায় ধান, আলু, ভুট্টা, পেঁয়াজ, মরিচসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। এসব পণ্যের বড় অংশ বর্তমানে সড়কপথে বিভিন্ন মোকাম ও জেলার বাজারে পাঠানো হয়। নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে নৌপথে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে কৃষকদের পরিবহন ব্যয় কমতে পারে।

বিশেষ করে আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজির মতো পচনশীল পণ্য দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে অন্য এলাকার বাজারে পাঠানো সম্ভব হলে কৃষকের লাভের সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।

স্কুলশিক্ষক বিপ্লব মিয়া বলেন, নদীবন্দর কার্যকর হলে কৃষিপণ্য পরিবহনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কৃষক কাছের ঘাটে পণ্য নিয়ে এসে নৌযানে তুলে দিতে পারবেন। সেখান থেকে যমুনার ওপারের বাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তুলনামূলক কম খরচে পণ্য পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে শুধু নৌযান চলাচল নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গড়ে উঠতে পারে। জেটি, টার্মিনাল, গুদাম, পণ্য ওঠানামা, প্যাকেজিং, কোল্ড স্টোরেজ, নৌযান মেরামত ও পরিবহনসেবার চাহিদা তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে বাড়তে পারে হোটেল-রেস্তোরাঁ, ছোট ব্যবসা ও অন্যান্য সেবাখাত।

স্থানীয় কৃষক আবু তাহের বলেন, শুধু উৎপাদন করলেই হয় না; উৎপাদিত পণ্য কম খরচে দ্রুত বাজারে পৌঁছানোও জরুরি। দূরের বাজারে পণ্য পাঠাতে পরিবহন খরচ বেশি হলে শেষ পর্যন্ত সেই চাপ কৃষকের ওপর পড়ে। নৌপথে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

আরেক কৃষক রুবেল মিয়া বলেন, মৌসুমে একই সময়ে অনেক কৃষক পণ্য বাজারে তোলেন। তখন স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। নদীপথে দ্রুত অন্য এলাকার বাজারে পণ্য পাঠানোর সুযোগ থাকলে কৃষকদের একটি বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্রিক নয়। চিকিৎসা, শিক্ষা, হাটবাজার এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্যও নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. পাবেল হোসেন বলেন, নদীর ওপারেই মাদারগঞ্জ। অথচ জরুরি কোনো কাজে সেখানে যেতে হলে অনেক ঘুরে যেতে হয়। নৌপথটি পরিকল্পিতভাবে চালু হলে সাধারণ মানুষের জন্য বড় সুবিধা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, নিরাপদ ও নিয়মিত নৌযোগাযোগ চালু হলে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচায় দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তি কমবে।

সারিয়াকান্দির পাশাপাশি ধুনট নদীবন্দর উত্তরাঞ্চলের নৌযোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে ধুনট নদীবন্দরের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের মধুরাপাড়া ঘাট এলাকা থেকে শুরু করে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া হাটসংলগ্ন যমুনা নদী হয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌবার মৌজার বৈশাখীর চর পর্যন্ত।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ধুনট নদীবন্দরের আওতায় চন্দনবাইশা ও শাহরাবাড়ি ঘাটসহ বিদ্যমান খাল ও ঘাটগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একইভাবে সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের আওতায় দিঘাপাড়া, কালিতলা, মধুরাপাড়া, জামথল ও সোনাদগা ঘাটসহ বিদ্যমান খাল ও ঘাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দুই নদীবন্দরের ক্ষেত্রেই নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে সাধারণ ভরাকালের সময় সর্বোচ্চ পানি সমতল থেকে ভূভাগের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকা বন্দরের সীমানার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নৌপথ উন্নয়ন, জেটি ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, ধুনটের সঙ্গে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরসহ যমুনার দুই পাড়ের বাজারগুলোর সরাসরি নৌযোগাযোগ জোরদার হলে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। উত্তরাঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য তুলনামূলক কম খরচে নৌপথে বিভিন্ন বাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু সরকারি প্রজ্ঞাপনে নদীবন্দর ঘোষণার মধ্যে উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত জেটি, টার্মিনাল, গুদাম ও নিরাপদ নৌযান চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করা গেলে নদীবন্দর ঘোষণার সুফল সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে দুই নদীবন্দরের সংরক্ষকের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএকে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা এবং নিরাপদ ও নিয়মিত নৌযোগাযোগ নিশ্চিত করা।

যমুনার দুই পাড়ে কয়েক কিলোমিটারের ভৌগোলিক দূরত্বকে যদি কার্যকর নৌযোগাযোগে রূপ দেওয়া যায়, তাহলে সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জসহ বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। এর সঙ্গে কৃষি, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে তৈরি হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব।

পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং জুনিয়র বৃত্তি-২০২৬ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, মাসুদা ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম খান, নির্বাহী প্রকৌশলী, কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনকারীদের পাশাপাশি যারা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি, তাদেরও হতাশ না হয়ে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। নিয়মিত অধ্যবসায় ও চেষ্টা থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জনই নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই শিক্ষার্থীদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে নিজেদের একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ হয়।

কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্র থেকে জনসাধারণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে পারবেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নিলুফা আক্তার রূপা এবং জেলার ১৩টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।

উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামকে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি কেন্দ্রটির মাধ্যমে নাগরিকদের কী ধরনের ভূমিসেবা দেওয়া হবে এবং কীভাবে এসব সেবা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, জেলার নাগরিকদের ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এ ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে জেলা প্রশাসন।

তিনি জানান, নাগরিকরা সরাসরি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া, নামজারি ও জমাখারিজ, খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি এবং মৌজা ম্যাপ বা নকশা প্রাপ্তির আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্রের মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই নাগরিকরা প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে ভূমিসেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব হবে।

কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার হুমকি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার দুপুরে শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর থেকে এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবীর, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্সসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে।

বক্তারা অবিলম্বে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সমাবেশ শেষে একই দাবিতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।