জ্বালানির দাম বাড়তেই কেজিতে ১–২ টাকা বাড়ল চালের দর
মাস দুয়েক কিছুটা স্থির ছিল চালের বাজার। জ্বালানি তেলের দর বাড়ার পর চালের দামেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পরিবহন ভাড়া বাড়ার ছুতায় গত দুদিনে চালের দাম এক থেকে দুই টাকা বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বেশি বিপদে পড়ছেন স্বল্প আয়ের ভোক্তারা। তাদের খরচের ফর্দ আরও লম্বা হচ্ছে।
খুচরা ও পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ট্রাক ভাড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি ধানের দামও বাড়তি। এ কারণে চালের দর বাড়াতে হচ্ছে। তবে ভোক্তারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা সব সময় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর সুযোগ খোঁজেন। এখন পরিবহন ভাড়া বাড়ার দোহাই দিয়ে চালের দাম বাড়াচ্ছেন। সরকারের সঠিক নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছেন। চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তখন ব্যবসায়ীরা শঙ্কা প্রকাশ করেন। অবশেষে বাড়তি দামের সেই খড়্গ নেমে এলো ভোক্তার ঘাড়ে। বাজারে গতকাল মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজি মোটা চাল (চায়না ইরিও স্বর্ণা) চাল ৫০ থেকে ৫৪, মাঝারি চাল (বিআর-২৮ ও পায়জাম) ৫৮ থেকে ৬৪, সরু চাল (মিনিকেট) ৬৮ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া নাজিরশাইল চালের কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দুদিন আগের তুলনায় মাঝারি ও সরু চালের কেজিতে এক থেকে দুই টাকা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ দরে বিক্রি হওয়া পোলাও চালের দর কিছুটা কম দেখা গেছে। মানভেদে খোলা প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। এতদিন এ ধরনের চালের কেজি ছিল ২০০ থেকে ২১০ টাকা।
দুদিন ধরে দাম বাড়লেও গত বছরের এ সময়ের তুলনায় চালের দাম কিছুটা কম রয়েছে। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে চালের দাম গড়ে ৫ শতাংশ কম।
কারওয়ান বাজারের বাহার ট্রেডার্সের বিক্রয়কর্মী ফারুক হোসেন বলেন, দুদিনে দাম বেড়েছে দুই টাকা। তবে পোলাও চালের দর দুই সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকার বেশি কমেছে। একই বাজারের ইসমাইল অ্যান্ড সন্সের বিক্রয়কর্মী মহিউদ্দিন জানান, তিনি গতকাল মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট থেকে ৩০ বস্তা চাল এনেছেন। গত সপ্তাহের তুলনায় বস্তায় ৫০ টাকা বেশি দিয়ে আনতে হয়েছে। অর্থাৎ কেজিতে পাইকারি পর্যায়ে এক টাকা দর বেড়েছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল অটো রাইস মিলের এক বিক্রয়কর্মী জানান, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাগঞ্জ, বগুড়াসহ কয়েকটি জেলা থেকে চাল এনে তারা ঢাকায় পাইকারি দরে বিক্রি করেন। প্রতি ট্রাকে ১৫ টন চাল আনা যায়। ডিজেলের দাম বাড়ার পর থেকে দিনাজপুর থেকে চাল আনতে প্রায় তিন হাজার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনতে দুই হাজার টাকা করে ট্রাক ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচও বেড়েছে। সে জন্য কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে এক টাকার মতো বাড়াতে হচ্ছে।
আগারগাঁও কাঁচাবাজার থেকে ১০ কেজি বিআর-২৮ চাল কিনেছেন গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। তিনি জানান, দোকানদার ৬৫ টাকা করে দাম চেয়েছে। দরকষাকষি করে তিনি ৬৪ টাকা দরে কিনেছেন। ক্ষুব্ধ এই ক্রেতা বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা এক এক করে সব জিনিসপত্রের দাম বাড়াইতেছে। আমাদের মতো গরিবের সংসারে খরচ বাড়ছে, কিন্তু রোজগার তো বাড়ে না।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা বলেন, সারাদেশের বাজারে প্রতিদিনই তাদের কর্মকর্তারা তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। নতুন করে চালের দাম বাড়ার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে অভিযান জোরদার করা হবে।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array