স্মার্ট ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান
সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা গেলে ঢাকা শহরকে এখনও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন বিভিন্ন পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, সময় শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু সরকারকে আন্তরিকতার সঙ্গে শক্তভাবে কাজ করতে হবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর বনানীর ঢাকা শেরাটন হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্মার্ট সিটি কনক্লেভে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি বলেন, গুলশান-বারিধারা আমাদের অভিজাত এলাকা, এখানের লেক যদি আমরা ঠিক করতে না পারি, সারাদেশ কীভাবে ঠিক করব?
তিনি আরও বলেন, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমরা প্রথমবারের মতো প্রায় ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। এ পরিকল্পনার আওতায় প্রথমে মেট্রোপলিটন শহরগুলো নিয়ে কাজ করছি। এরপর আমাদের বড় শহরগুলো থেকে শুরু করে একদম উপজেলা পর্যায়েও যেন প্রকৃত অর্থে একটি মাস্টার প্ল্যান করা যায়, তা নিয়ে কাজ করব। আমরা জোনিং করব–কোথায় কী হওয়া উচিত। তার জন্যই নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরকে আমরা শক্তিশালী করছি।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে আসলে কত মানুষ বাস করে তার সঠিক তথ্য নেই। পর্যাপ্ত তথ্য থাকলে পরিকল্পনাটা সঠিকভাবে করা যায়। সর্বশেষ জনশুমারি অনেক দিন হয়ে গেছে। আরেকটা সঠিক শুমারি করা উচিত, যেটার ভিত্তিতে আমরা যেন পরিকল্পনাটা করতে পারি।
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমরা বাসযোগ্য ঢাকা শহর তৈরি করতে চাই। কিন্তু স্মার্ট সিটি তৈরির জন্য সবকিছু কি রাজউকের অধীনে আছে? শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্য নাগরিক সুবিধা রাজউক দেয় না। রাজউক শুধু আরেকজনের করা ভবনের নকশার অনুমোদন দেয়। ড্যাপ একটি ভালো পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দেখা গেল, ড্যাপ অবজ্ঞা করে আগেই সেখানে ১০ তলা ভবন দাঁড়িয়ে গেছে। রাজউকের ১২০০ জনবল আছে। ১০০ জনের মতো ইন্সপেক্টর। এই জনবল দিয়ে এত বড় ঢাকা শহরের সব ভবন মনিটরিং করা সম্ভব না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেগুলো ব্যর্থ হয়েছে। যেটা করার দরকার ছিল, সেটা করা হয়নি। কিছু প্রভাবশালীর চাপে করা হয়েছে। কিছু করা হয়েছে, রাজনৈতিক চাপে। যে কারণে ৫৫ বছরেও বাসযোগ্য হতে পারেনি ঢাকা। এখনও যদি বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে তাহলে সফল হওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ঢাকায় ২১ লাখ অবকাঠামো আছে। কিন্তু কোন ভবনটি নিরাপদ তার সঠিক তথ্য নেই। আগের মতো গত ছয় মাস ধরে একইভাবে ভবন উঠছে। সব ভবনের একটি পর্যালোচনা করা দরকার। একটি পদ্ধতির মাধ্যমে এটা করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। তা না হলে বড় ভূমিকম্প হলে দুর্যোগ হতে পারে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। এতে আরও বক্তব্য দেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপের এমডি নাসিম বিশ্বাস, ডিবিএইচ ফাইনান্সের এমডি নাসিমুল বাতেন, এবিসি রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের এমডি শ্রাবন্তী দত্ত প্রমুখ।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array