সাড়ে চার মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানলেন পাকুন্দিয়ার শাহীন
জীবনের পথচলা সবে শুরু হয়েছিল ২১ বছরের তরুণ শাহীন মিয়ার। বাবার ব্যবসায় হাত লাগিয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু গত ১৩ মে রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে থেমে যায় তাঁর সেই সম্ভাবনাময় জীবন।
মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি খুঁটিতে ধাক্কা লেগে মাথা, হাত ও কোমরে গুরুতর আঘাত পান শাহীন। দুর্ঘটনার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে প্রায় এক মাস অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এরপর জ্ঞান ফেরার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছিলেন। সব মিলিয়ে সাড়ে চার মাস ধরে চিকিৎসা ও জীবনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পর সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাঁকে পুনরায় ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পাকুন্দিয়া উপজেলার পোড়াবাড়ীয়া গ্রামের সুজন মিয়ার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অটোরিকশার শোরুম ‘মেসার্স মাহিন মটরস’-এ বাবার পাশে আর কোনো দিন দেখা যাবে না আদরের ছেলে শাহীনকে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তরুণ শাহীনের অকালমৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর নিজ গ্রামসহ এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা স্মৃতিচারণ করে পোস্ট করছেন স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনেরা।
পোড়াবাড়ীয়া গ্রামের কলেজছাত্র ইয়ামিন বলেন, “শাহীন খুব ভালো ছেলে ছিল। অল্প বয়সেই বাবার সঙ্গে ব্যবসায় সময় দিত। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘ সাড়ে চার মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই মাস আইসিইউতে ছিল সে। তাঁর পরিবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তাঁর এমন মৃত্যুতে সহপাঠী, বন্ধুবান্ধবসহ সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”
মঙ্গলবার বাদ আসর পোড়াবাড়ীয়া ঈদগাহ মাঠে শাহীনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array