বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভিটা আছে, ঘর নেই: চার মেয়েকে নিয়ে আশ্রয়হীন সুফিয়া

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভিটা আছে, ঘর নেই: চার মেয়েকে নিয়ে আশ্রয়হীন সুফিয়া

বিশ্বজুড়ে যখন নিরাপদ আবাসন ও বাসস্থানের অধিকার নিয়ে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে কিশোরগঞ্জে নিজের ভিটেমাটিতেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন সুফিয়া আক্তার নামে এক বিধবা। স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে হারানো এই নারী অভিযোগ করেছেন, নিজের নামে জমির রেকর্ড থাকার পরও দেবর ও স্বজনদের বাধা, হুমকি ও দখলের কারণে তাঁকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে চার মেয়ের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকার বাসিন্দা সুফিয়া আক্তারের দাবি, দীর্ঘ আট বছর ধরে জমি নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। একপর্যায়ে তাঁর বসতঘর ভেঙে মালামাল সরিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বর্তমানে নিজের ভিটায় ফিরতে পারছেন না তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সুফিয়ার বসতঘরটি যেখানে ছিল, সেখানে একটি নতুন টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সুফিয়ার অভিযোগ, তাঁর দেবর নিজাম উদ্দিন ওই ঘরটি নির্মাণ করেছেন। বাড়ির প্রবেশপথে টিনের গেট তৈরি করে তাতে তালা দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি নিজের বসতভিটায় প্রবেশ করতে পারছেন না।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের তথ্য অনুযায়ী, চৌদ্দশত মৌজার ১১৭০ নম্বর খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে সুফিয়ার প্রয়াত স্বামী নুরুন্নবী, দেবর নিজাম উদ্দিনসহ অন্য ওয়ারিশদের মোট ১ একর ২৭ শতাংশ জমি ছিল। নুরুন্নবী ও তাঁর ছেলে মবিনের মৃত্যুর পর বিআরএস ২৫-২৪৯৩ নম্বর খতিয়ানে সুফিয়া ও তাঁর চার মেয়ে রেবা সুলতানা, মালা আক্তার, রত্না আক্তার ও স্বপ্নার নামে মোট ৩০ শতাংশ জমি রেকর্ডভুক্ত হয়।

সুফিয়া আক্তার বলেন, “কাগজে আমার নামে ৩০ শতাংশ জমি থাকলেও বাস্তবে মাত্র ২ শতাংশ জায়গায় একটি ঘর করার সুযোগও পাচ্ছি না। আমার ঘর ভেঙে মালামাল নিয়ে গেছে। বাড়িতে ঢুকতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”

তাঁর অভিযোগ, দেবর নিজাম উদ্দিন, চাচাতো দেবর হারিছ মিয়া ও নিজাম উদ্দিনের জামাতা মামুন মিয়া তাঁর বসতঘর ভেঙে তাঁকে উচ্ছেদ করেছেন।

তবে সুফিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিজাম উদ্দিন। তাঁর দাবি, তাঁর ভাই ও ভাতিজা মারা গেছেন এবং ওই জমিতে সুফিয়ার কোনো অধিকার নেই। সুফিয়া বর্তমানে যে জায়গায় অবস্থান করছেন, সেটিও তাঁর বলে দাবি করেন তিনি।

নিজাম উদ্দিনের জামাতা মামুন মিয়া বলেন, “সুফিয়া আইন-আদালতের পেছনে ঘুরে কী করবেন।” সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সুফিয়ার প্রতি এত মায়া থাকলে তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেওয়া হোক।

বিষয়টি একাধিকবার গণমাধ্যমে আসার পর কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ সরেজমিনে সুফিয়ার বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিতে বলেন।

চৌদ্দশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাহার আলী বলেন, স্বামী ও সন্তান হারিয়ে সুফিয়া সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। চার মেয়েকে নিয়ে তিনি মানবিক সংকটে পড়েছেন। জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সুফিয়ার পক্ষেও সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা সেই সিদ্ধান্ত মানেননি বলে তিনি জানান।

জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান জানান, উভয় পক্ষকে জেলা পরিষদে ডেকে তাঁদের কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সুফিয়াকে বর্তমান অবস্থানেই থাকতে বলা হয়েছিল।

তবে সুফিয়ার অভিযোগ, কারও কথা না শুনে তাঁকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী দোলন কুমার আচার্য্য বলেন, সুফিয়ার পক্ষে কয়েকবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র অনুযায়ী সুফিয়া জমির মালিক। কিন্তু তাঁর দেবররা সেখানে তাঁকে ঘর তুলতে দিচ্ছেন না।

বর্তমানে নিজের কোনো নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় প্রবাসী মেয়ের দুই শিশুকন্যা (নাতনি) নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই দিন-রাত কাটছে সুফিয়ার। বিবাহিত মেয়েদের সংসারে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেখানে স্থায়ীভাবে থাকতে চান না তিনি। তাঁর একমাত্র চাওয়া, নিজের ভিটায় ফিরে ছোট্ট একটি ঘর তুলে শান্তিতে বসবাস করা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুফিয়া আক্তার বলেন, “নিজের জায়গায় ছোট একটা ঘর করে শান্তিতে থাকতে চাই। আর কিছু চাই না।”

সুফিয়ার এই দুর্দশা শুধু একজন অসহায় বিধবার ব্যক্তিগত কষ্টের ঘটনা নয়; এটি গ্রামীণ জনপদে জমি নিয়ে বিরোধ, দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং সামাজিক ক্ষমতার অসমতারও একটি প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব বসতি দিবসে যখন সবার জন্য নিরাপদ আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে, তখন নিজের নামে জমির রেকর্ড থাকার দাবি করা একজন নারী কেন নিজের ভিটায় আশ্রয় পাচ্ছেন না, সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে আদালত ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সুফিয়ার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে তাঁর মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

ভৈরব রুটে ট্রেনে হামলার অভিযোগ, গুরুতর আহত কটিয়াদীর তরুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ভৈরব রুটে ট্রেনে হামলার অভিযোগ, গুরুতর আহত কটিয়াদীর তরুণ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর এক তরুণকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ভৈরবগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই তরুণকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত তরুণের নাম মো. মামুন মিয়া (২২), ডাকনাম তরিকুল। তিনি কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম এলাকার হুমায়ুন মিয়ার ছেলে। তরিকুল একটি আইসক্রিম কোম্পানিতে চাকরি করেন। তাঁর কর্মস্থল ভৈরবে।

ভুক্তভোগীর মামা শিব্বির আহমদ (মাসুদ) জানান, মঙ্গলবার সকাল কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তরিকুল এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনে ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হন। আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে জগন্নাথপুর – ভৈরব রেলস্টেশন এলাকায় দুই থেকে তিনজন তরুণ তাঁর ওপর হামলা করে তাঁকে ট্রেন থেকে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় তরিকুল গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

শিব্বির আহমদ (মাসুদ) বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রেলপথে প্রতিদিন কর্মজীবী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভৈরবসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াত করেন। বিশেষ করে কর্মস্থলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রেন অনেকের নিয়মিত বাহন। চলন্ত ট্রেনে হামলা বা যাত্রীকে ফেলে দেওয়ার মতো অভিযোগ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে। এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত, ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে ১৫ দিন ধরে অচল চুয়েট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে ১৫ দিন ধরে অচল চুয়েট

উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অচলাবস্থা ১৫ দিনে গড়িয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।

অচলাবস্থার কারণে অন্তত ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। এসব পরীক্ষার নতুন সময়সূচিও দেওয়া হয়নি। ক্লাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে। অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে সেশনজটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৪ দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চুয়েট ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক থাকলেও মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তাঁরা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯৯ শতাংশই যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন।

মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ আদর্শ সামনে রেখে নতুন ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে যে নবজাগরণের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, চুয়েটের শিক্ষার্থীরা সেই দেশেরই তরুণ প্রজন্ম। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের যৌক্তিক দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। চুয়েটের প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর যৌক্তিক দাবিও তিনি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন বলে তাঁদের বিশ্বাস।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে সামনে এসেছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের অভিভাবক। একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি যেমন আপনার সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তেমনি দেশের হাজারো শিক্ষার্থীকেও আপনার সন্তানের মতো বিবেচনা করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন থেকে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি।

পরবর্তী সময়ে লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল, মুখোশ মিছিল, চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ, অবস্থান ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। ৫ অক্টোবর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে সংহতি জানান।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ বলেন, ‘আজকে আমাদের আন্দোলনের ১৫তম দিন। আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখতে চাই না। আমাদের শিক্ষাজীবনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যে দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি, সেটির গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘১৫ দিন ধরে ক্যাম্পাস অচল। এতে আমাদের পরীক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে, একাডেমিক ক্যালেন্ডারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সমাধান হলে আমরা সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাব। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসুক এবং চুয়েটে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসুক।’

বর্তমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও যুক্ত হয়েছেন। শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সদস্যরা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও আন্দোলনের কারণে ক্যাম্পাসে তাঁর সরাসরি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

মিঠামইনে আগুনে বসতঘর-সারের গুদাম পুড়ে কোটি টাকার ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
মিঠামইনে আগুনে বসতঘর-সারের গুদাম পুড়ে কোটি টাকার ক্ষতি

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে গ্যাসের চুলা থেকে লাগা আগুনে দুই তলা টিনশেডের একটি বসতঘর ও সারের গুদাম পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে দুই তলা টিনশেডের বসতঘর ও সারের গুদামটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনটিতে মোট ১৫টি কক্ষ ছিল।

মিঠামইন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডিংম্যান তানভীর হাসান বলেন, “রান্নার সময় গ্যাসের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আগুনে দুই তলা টিনশেডের বসতঘর ও সারের গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটিতে মোট ১৫টি কক্ষ ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আগুনে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”