শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

বিয়ের আংটি ফেরত নেওয়ায় তরুণীর আত্মহত্যা, হবু স্বামীর অনৈতিক আবদারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিয়ের আংটি ফেরত নেওয়ায় তরুণীর আত্মহত্যা, হবু স্বামীর অনৈতিক আবদারের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ইতালি প্রবাসী হবু স্বামীর অনৈতিক আবদার পূরণ না করায় তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হবু স্বামীর পরিবার বিয়ের আংটি ও দেওয়া কিছু টাকা ফেরত নিয়ে যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই তরুণী।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে ওই তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত তরুণী মীম বেগম (২০) শ্রীনগর ইউনিয়নের জীবন মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত হবু স্বামী পাভেল মিয়া (২২) একই ইউনিয়নের শিরারবাড়ি এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে এবং ইতালি প্রবাসী।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে মীম বেগমের সঙ্গে পাভেল মিয়ার বিয়ের কথা দুই পরিবারের মধ্যে পাকাপাকি হয়। ওই সময় পাভেলের পরিবারের পক্ষ থেকে মীমকে একটি আংটি পরিয়ে দেওয়া হয়। পাভেল ইতালি থেকে মোবাইল ফোনে মীমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে পাভেল মীমের কাছে অনৈতিক কিছু দাবি করেন। ওই দাবি পূরণ না করায় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বিরোধ দেখা দেয়। পরে পাভেল তাঁর পরিবারের সদস্যদের মীমের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার কথা জানান। এ সময় বিয়ের আংটি ও তাঁর দেওয়া কিছু টাকা ফেরত নেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মীম। এর পরদিন রাতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মীমের নানা জালাল উদ্দিন বলেন, প্রায় সাত মাস আগে তাঁর নাতনির সঙ্গে পাভেল মিয়ার বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়। পাভেল ইতালি থেকে ফিরে এক বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে মীমকে ঘরে তুলে নেওয়ার কথা ছিল।

তিনি বলেন, “পাভেল এ সময়ে আমার নাতনিকে কিছু টাকা ও একটি মোবাইল ফোন দিয়েছিল। পরে মোবাইলে অনৈতিক দাবি পূরণ না করায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে পাভেলের পরিবার আমাদের কাছে তাঁর দেওয়া টাকা ও মোবাইল ফেরত চায়।”

জালাল উদ্দিনের দাবি, স্থানীয়দের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে পাভেলের দেওয়া ৬৩ হাজার টাকার মধ্যে ২৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়। এরপর মীম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ২৬ আগস্ট রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মানিক মিয়া বলেন, মীম ও পাভেলের বিয়ের কথা তিনি জানতেন। তরুণীর মৃত্যুর পর স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, অনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল এবং পরে বিয়ে ভেঙে যায়।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, তিনি স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পাভেল মিয়া বা তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কসবায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে মাইক্রোবাস, মিলল ৯ বস্তা গাঁজা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
কসবায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে মাইক্রোবাস, মিলল ৯ বস্তা গাঁজা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে গাঁজাবাহী একটি মাইক্রোবাস পুকুরে পড়ে গেছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরে পুকুরে পড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসটি থেকে ৯ বস্তা গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে গাড়িতে থাকা চালক ও এক পাচারকারী সাঁতরে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মাইক্রোবাস ও উদ্ধার করা গাঁজা জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে কসবা থানার একটি দল উপজেলার সৈয়দাবাদ-নয়নপুর সড়কে অভিযান চালায়। এ সময় কালো রঙের একটি মাইক্রোবাস পুলিশের অভিযানের এলাকায় প্রবেশ করলে সন্দেহ হয়। পুলিশ গাড়িটিকে থামার সংকেত দিলে চালক সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ গাড়িটিকে ধাওয়া করে।

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাইক্রোবাসটি কসবা-সৈয়দাবাদ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আন্দিরপাড়-মনকাশাইর সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে পালাতে থাকে। একপর্যায়ে খিদিরপুর গ্রাম পার হওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

পুলিশের ভাষ্য, মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়ে যাওয়ার পর গাড়িতে থাকা গাঁজার প্যাকেটগুলো পানিতে ভেসে ওঠে। এ সময় গাড়িতে থাকা চালক ও এক পাচারকারী সাঁতরে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইক্রোবাসটি জব্দ করে এবং ভেতর থেকে ৯ বস্তা গাঁজা উদ্ধার করে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় একটি মাইক্রোবাস ও ৯ বস্তা গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। ৯ বস্তায় মোট কত পরিমাণ গাঁজা রয়েছে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গুজাদিয়ায় দর্গাহ্ কান্দা গোল্ড কাপের ফাইনাল শনিবার, প্রধান অতিথি ড. ওসমান ফারুক

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
গুজাদিয়ায় দর্গাহ্ কান্দা গোল্ড কাপের ফাইনাল শনিবার, প্রধান অতিথি ড. ওসমান ফারুক

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়ায় অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘দর্গাহ্ কান্দা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার। বিকেল ৪টায় দর্গাহ্ কান্দা মাঠে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মহিউদ্দিন মাখন ফুটবল একাডেমি ও করিমগঞ্জ ফুটবল একাডেমি। বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম. ওসমান ফারুক। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরেও স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

টুর্নামেন্টের ফাইনালে শিরোপার জন্য লড়বে দুই শক্তিশালী দল মহিউদ্দিন মাখন ফুটবল একাডেমি ও করিমগঞ্জ ফুটবল একাডেমি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে কে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ঘরে তুলবে, তা জানতে অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ম্যাচটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীরা মনে করছেন, দুই দলের লড়াইয়ে জমে উঠবে ফাইনাল ম্যাচ। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পর শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, দলীয় সমন্বয় ও কৌশলই জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মেজবাহ উদ্দিন টুটুল।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ফাইনাল ম্যাচটি শুধু দর্শকদের বিনোদনই দেবে না, স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে গুজাদিয়া ও আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। শনিবার বিকেলে দর্গাহ্ কান্দা মাঠে স্থানীয় দর্শকদের উপস্থিতিতে টুর্নামেন্টের জমজমাট সমাপ্তি ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

হোসেনপুরে কালের সাক্ষী ২৫০ বছরের ঐতিহাসিক গোল মসজিদ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে কালের সাক্ষী ২৫০ বছরের ঐতিহাসিক গোল মসজিদ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের বাগপাড়া গ্রামে প্রায় ২৫০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক গোল মসজিদ আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর এই মসজিদটি শুধু স্থানীয় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের স্থানই নয়, বরং এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একসময় দুর্গম ও অজপাড়াগাঁ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলাম প্রচারের অন্যতম কেন্দ্র ছিল মসজিদটি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণকৌশলের কিছু বৈশিষ্ট্য এখনো প্রাচীনত্বের সাক্ষ্য বহন করছে।

প্রাপ্ত শিলালিপি ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, মসজিদটি মোগল আমলের স্থাপত্যরীতির আদলে নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে হিজরি ১২১৯ সালের দিকে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয় বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সুদূর ইরাক থেকে শেখ শামছুদ্দিন ভারতবর্ষের পূর্বাঞ্চল, অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব বাংলায় ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে হোসেনপুর পরগনার শাহেদল ইউনিয়নের বাগপাড়া এলাকায় এসে বসতি স্থাপন করেন।

তবে সে সময় জমিদারি ব্যবস্থার প্রভাবে এ অঞ্চল হিন্দু অধ্যুষিত ছিল বলে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয় সমাজপতিদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরবর্তী সময়ে শেখ শামছুদ্দিনের দুই ছেলে শেখ আদম ও শেখ আলম বাগপাড়া এলাকায় মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে জানা যায়।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদটির দেয়াল প্রায় ৩ ফুট প্রশস্ত। মসজিদের ছাদের ওপরের অংশ সম্পূর্ণ গোলাকার আকৃতির হওয়ায় স্থানীয়ভাবে এটি ‘গোল মসজিদ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদটির মূল গাঁথুনিতে চুন, ইট ও আখের লালি ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রাচীন নির্মাণকৌশলের এ বৈশিষ্ট্য মসজিদটির স্থাপত্যিক গুরুত্বকে আলাদা করে তুলেছে।

মসজিদের ভেতরে ইমামসহ তিন কাতারে মোট ১৯ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। সময়ের সঙ্গে স্থানীয় মুসল্লির সংখ্যা ও প্রয়োজন বাড়ায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদটির পরিসর সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, মসজিদটির বয়স ২৫০ বছরেরও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে এর রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছেন। সময়ের প্রয়োজন ও মুসল্লিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মসজিদটির কিছু অংশ সম্প্রসারণও করা হয়েছে।

মসজিদের ভেতরে টাইলস বসানো হয়েছে এবং চারপাশে রং করা হয়েছে। ফলে প্রাচীন স্থাপনাটির মূল কাঠামোর সঙ্গে আধুনিক সংস্কারের ছোঁয়াও যুক্ত হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সংরক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়া হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রায় আড়াই শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এই স্থাপনার ইতিহাস ও নির্মাণকাল যথাযথভাবে যাচাই করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মসজিদটির স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকারি প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মসজিদটির বয়স, নির্মাণশৈলী, শিলালিপি ও ঐতিহাসিক পটভূমি যাচাই করা হলে এর প্রকৃত ইতিহাস আরও স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি যথাযথ সংরক্ষণ করা গেলে এটি হোসেনপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মসজিদটির ইতিহাস ও স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ উদ্যোগ নেবে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হোসেনপুরের এই প্রাচীন স্থাপনার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।