বিয়ের আংটি ফেরত নেওয়ায় তরুণীর আত্মহত্যা, হবু স্বামীর অনৈতিক আবদারের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ইতালি প্রবাসী হবু স্বামীর অনৈতিক আবদার পূরণ না করায় তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হবু স্বামীর পরিবার বিয়ের আংটি ও দেওয়া কিছু টাকা ফেরত নিয়ে যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই তরুণী।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে ওই তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত তরুণী মীম বেগম (২০) শ্রীনগর ইউনিয়নের জীবন মিয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত হবু স্বামী পাভেল মিয়া (২২) একই ইউনিয়নের শিরারবাড়ি এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে এবং ইতালি প্রবাসী।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে মীম বেগমের সঙ্গে পাভেল মিয়ার বিয়ের কথা দুই পরিবারের মধ্যে পাকাপাকি হয়। ওই সময় পাভেলের পরিবারের পক্ষ থেকে মীমকে একটি আংটি পরিয়ে দেওয়া হয়। পাভেল ইতালি থেকে মোবাইল ফোনে মীমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে পাভেল মীমের কাছে অনৈতিক কিছু দাবি করেন। ওই দাবি পূরণ না করায় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বিরোধ দেখা দেয়। পরে পাভেল তাঁর পরিবারের সদস্যদের মীমের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার কথা জানান। এ সময় বিয়ের আংটি ও তাঁর দেওয়া কিছু টাকা ফেরত নেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মীম। এর পরদিন রাতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মীমের নানা জালাল উদ্দিন বলেন, প্রায় সাত মাস আগে তাঁর নাতনির সঙ্গে পাভেল মিয়ার বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়। পাভেল ইতালি থেকে ফিরে এক বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে মীমকে ঘরে তুলে নেওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, “পাভেল এ সময়ে আমার নাতনিকে কিছু টাকা ও একটি মোবাইল ফোন দিয়েছিল। পরে মোবাইলে অনৈতিক দাবি পূরণ না করায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে পাভেলের পরিবার আমাদের কাছে তাঁর দেওয়া টাকা ও মোবাইল ফেরত চায়।”
জালাল উদ্দিনের দাবি, স্থানীয়দের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে পাভেলের দেওয়া ৬৩ হাজার টাকার মধ্যে ২৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়। এরপর মীম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ২৬ আগস্ট রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মানিক মিয়া বলেন, মীম ও পাভেলের বিয়ের কথা তিনি জানতেন। তরুণীর মৃত্যুর পর স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, অনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল এবং পরে বিয়ে ভেঙে যায়।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, তিনি স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পাভেল মিয়া বা তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array