রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ওআইসির নতুন মহাসচিব মৌরিতানিয়ার ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ওআইসির নতুন মহাসচিব মৌরিতানিয়ার ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। ২৭ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ২৩তম জরুরি অধিবেশনে সদস্য দেশগুলোর সম্মতিতে তাঁকে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়। পরদিন ২৮ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ২০২১ সালের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়া তাহার মেয়াদ চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে দুই কূটনীতিকের মধ্যে ওআইসির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, উন্নয়ন ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার পাশাপাশি তিনি আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি মৌরিতানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে ইয়েমেনের সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ও শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তিনি যুক্ত ছিলেন।

২০১৪ সালে লিবিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধি, আবাসিক সমন্বয়কারী ও মানবিক সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়াতেও একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

নতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ ওআইসির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও ফিলিস্তিন ইস্যুকে ওআইসির অগ্রাধিকারের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করে ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তির জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে ইসলামবিদ্বেষ, ঘৃণামূলক বক্তব্য, অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ওআইসির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। পারস্পরিক সংলাপ ও সম্মানের পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংস্থাটির অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার কথাও বলেছেন নতুন মহাসচিব।

তিনি ওআইসির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি তরুণদের জ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগানোর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

ওআইসি ৫৭ সদস্যদেশের একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা এবং জাতিসংঘের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃসরকারি সংগঠন। মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন স্বার্থ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করাই সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য।

ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ওআইসির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হলো। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সংঘাত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে সংস্থাটির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনে প্রখর রোদ ও তীব্র দাবদাহ, আর রাতে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না। দিনের বেলায় বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ চান্দু ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার মতো বয়স্ক মানুষের পক্ষে তীব্র গরমে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।’

তিনি লোডশেডিং কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ মিয়ার বাড়িতে ছোট আকারের একটি মুরগির খামার রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের মুরগিগুলো নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, লোডশেডিংয়ের কারণে এরই মধ্যে ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খামারে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

চাল, হলুদ ও মরিচ ভাঙানোর ব্যবসা করেন জসীম উদ্দিন। লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁর ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন তো কারেন্টই থাকে না। আমার ব্যবসা লাটে ওঠার দশা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সম্ভব হবে না।’

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ও বিক্রি কমছে, অন্যদিকে দোকান পরিচালনার খরচও বাড়ছে।

তাড়াইল জোনাল অফিসের কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড দাবদাহে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এই অবস্থায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাড়াইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে রাতের লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

বিগত দেড় দশকের সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই সময়ে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের ওপর চেপে বসেছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করলেই অনেককে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গুরুতর অপরাধের ঘটনা দীর্ঘদিন অস্বীকার করে গেছে। তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমন, ব্যারিস্টার আরমান এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীর কথা স্মরণ করেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে ভিনদেশে ফেলে আসার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ভয়াবহ। কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার উদ্দেশ্যে দলীয় ও ব্যক্তিস্বার্থে বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের গুম ও খুন করা হয়েছে।

গুম প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া এবং গুমের ঘটনা চিরতরে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারকাজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এক মাসের ব্যবধানে সভাপতি পরিবর্তন

আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদে এক মাসের ব্যবধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত জুলাইয়ে মনিরুজ্জামান মনিরকে সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার পর তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে ২৩ আগস্ট ওই পদে মোস্তাফিজুর রহমান (মন্টু)কে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির প্রশ্ন তুলে বিষয়টির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও তদন্ত দাবি করেছেন।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মুন্সী হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত ২৩ আগস্টের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদটি শূন্য ঘোষণা করে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য মোস্তাফিজুর রহমানকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট আদেশের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই মনিরুজ্জামান মনিরকে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ফলে এক মাসের ব্যবধানে সভাপতি পরিবর্তনের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সভাপতি পদ থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে গত ২৯ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করেন মনিরুজ্জামান মনির। তাঁর অভিযোগ, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে কোনো বৈধ ও সন্তোষজনক কারণ না জানিয়ে কমিটি ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টির সুষ্ঠু ব্যাখ্যা, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানানোর দাবি করেন সাবেক এই সভাপতি।

তবে মনিরুজ্জামান মনিরের এসব অভিযোগের বিষয়ে নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের কোন বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে এডহক কমিটির নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান (মন্টু)। তিনি ইসলাম পরিবারের সদস্য। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও ইসলাম পরিবারের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৮৬ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবী মরহুম জহুরুল ইসলাম বাজিতপুরের ভাগলপুরে তাঁর পিতা আফতাব উদ্দিনের নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসলাম পরিবারের বিভিন্ন সদস্য অতীতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবারও শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত।

তাঁর বাবা মোখলেসুর রহমান এবং দাদা হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক। বাজিতপুরের হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের নামকরণের সঙ্গেও তাঁর দাদার নাম জড়িত বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শিক্ষা বিস্তার ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি ভূমিকা রাখছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এদিকে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সাম্প্রতিক এসএসসি ফলাফলও সন্তোষজনক।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৩২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ বছর ৮৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, ফলাফলের দিক থেকে এটি কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম ভালো ফলাফল। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশা করছেন তাঁরা।

তবে এক মাসের ব্যবধানে এডহক কমিটির সভাপতি পরিবর্তনের কারণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।