ওআইসির নতুন মহাসচিব মৌরিতানিয়ার ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। ২৭ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ২৩তম জরুরি অধিবেশনে সদস্য দেশগুলোর সম্মতিতে তাঁকে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়। পরদিন ২৮ আগস্ট তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ২০২১ সালের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়া তাহার মেয়াদ চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে দুই কূটনীতিকের মধ্যে ওআইসির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, উন্নয়ন ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার পাশাপাশি তিনি আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি মৌরিতানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে ইয়েমেনের সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ও শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তিনি যুক্ত ছিলেন।
২০১৪ সালে লিবিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধি, আবাসিক সমন্বয়কারী ও মানবিক সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়াতেও একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ ওআইসির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও ফিলিস্তিন ইস্যুকে ওআইসির অগ্রাধিকারের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করে ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তির জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে ইসলামবিদ্বেষ, ঘৃণামূলক বক্তব্য, অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ওআইসির ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। পারস্পরিক সংলাপ ও সম্মানের পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংস্থাটির অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার কথাও বলেছেন নতুন মহাসচিব।
তিনি ওআইসির সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি তরুণদের জ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগানোর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।
ওআইসি ৫৭ সদস্যদেশের একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা এবং জাতিসংঘের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃসরকারি সংগঠন। মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন স্বার্থ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করাই সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য।
ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ওআইসির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হলো। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সংঘাত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্বে সংস্থাটির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array