এক মাসের ব্যবধানে সভাপতি পরিবর্তন
আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদে এক মাসের ব্যবধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত জুলাইয়ে মনিরুজ্জামান মনিরকে সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়ার পর তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে ২৩ আগস্ট ওই পদে মোস্তাফিজুর রহমান (মন্টু)কে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির প্রশ্ন তুলে বিষয়টির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও তদন্ত দাবি করেছেন।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মুন্সী হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত ২৩ আগস্টের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদটি শূন্য ঘোষণা করে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য মোস্তাফিজুর রহমানকে সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট আদেশের ভিত্তিতে গত ২৩ জুলাই মনিরুজ্জামান মনিরকে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ফলে এক মাসের ব্যবধানে সভাপতি পরিবর্তনের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সভাপতি পদ থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে গত ২৯ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করেন মনিরুজ্জামান মনির। তাঁর অভিযোগ, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে কোনো বৈধ ও সন্তোষজনক কারণ না জানিয়ে কমিটি ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টির সুষ্ঠু ব্যাখ্যা, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানানোর দাবি করেন সাবেক এই সভাপতি।
তবে মনিরুজ্জামান মনিরের এসব অভিযোগের বিষয়ে নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের কোন বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে এডহক কমিটির নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান (মন্টু)। তিনি ইসলাম পরিবারের সদস্য। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও ইসলাম পরিবারের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৮৬ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবী মরহুম জহুরুল ইসলাম বাজিতপুরের ভাগলপুরে তাঁর পিতা আফতাব উদ্দিনের নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসলাম পরিবারের বিভিন্ন সদস্য অতীতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবারও শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত।
তাঁর বাবা মোখলেসুর রহমান এবং দাদা হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক। বাজিতপুরের হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের নামকরণের সঙ্গেও তাঁর দাদার নাম জড়িত বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ব্যবসার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শিক্ষা বিস্তার ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি ভূমিকা রাখছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সাম্প্রতিক এসএসসি ফলাফলও সন্তোষজনক।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৩২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ বছর ৮৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, ফলাফলের দিক থেকে এটি কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম ভালো ফলাফল। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশা করছেন তাঁরা।
তবে এক মাসের ব্যবধানে এডহক কমিটির সভাপতি পরিবর্তনের কারণ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array