তাড়াইলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, সভাপতির ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা
নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে তাড়াইল-করিমগঞ্জ সড়কের রায়জানি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন যুবক মিছিল বের করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। মিছিলের পর তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সিরাজীর দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে কয়েকজন যুবক হঠাৎ মিছিল নিয়ে তাড়াইল-করিমগঞ্জ সড়কে বের হন। এ সময় তাঁদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘তাড়াইল থানার মাটি, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি’ এবং ‘ডাক দিয়েছেন ইসমাইল ভাই, ঘরে থাকার সময় নাই’—এ ধরনের স্লোগান দিতে শোনা যায়। কিছুক্ষণ মিছিল করার পর তাঁরা দ্রুত সড়ক থেকে সরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলে তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে দেখা যায়নি। তবে মিছিলের পর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ওই কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসমাইল সিরাজীর ফেসবুক পোস্টে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা (সুমন) এবং ‘বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক’ জি এস ওমানের নির্দেশনায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনসহ বিভিন্ন দাবিতে তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রত্যয়।’ পোস্টের শেষে আয়োজক হিসেবে ইসমাইল সিরাজীর নাম এবং ‘সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, তাড়াইল উপজেলা শাখা’ পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ফেসবুক পোস্টে মিছিলের আয়োজনের কথা উল্লেখ থাকলেও ইসমাইল হোসেন সিরাজী নিজে ওই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের এমন কর্মসূচির পর পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের দাবি, প্রকাশ্যে সড়কে ঝটিকা মিছিল হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের কয়েকজনের ভাষ্য, নিষিদ্ধঘোষিত কোনো সংগঠনের মিছিল বা সমাবেশের ঘটনা ঘটলে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত, ঘটনাস্থল ও আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ, আয়োজকদের বিষয়ে অনুসন্ধান এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কিন্তু তাড়াইলে এ ঘটনার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তাঁদের আরও দাবি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরও পুলিশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা গা-ছাড়া মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে বলে তাঁদের মনে হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তাঁরা মনে করেন।
এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ‘আমরা খোঁজ-খবর রাখছি। মিছিলে উপস্থিত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারিনি।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিছিলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মিছিলের ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে জড়িতদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের এমন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের লোকজন।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array