শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৬৩৩, নিখোঁজ ২ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৬৩৩, নিখোঁজ ২ হাজার

নেপালে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে অন্তত ২ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া ৩২০ ভারতীয় নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দুর্গত এলাকা থেকে আহত অবস্থায় ১ হাজার ৫৪৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া ৫৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। সেখানে ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নাওয়ালপরাসি ইস্টে ১৫৪, গোরখায় ৪৬, ধাদিংয়ে ৪০, নুয়াকোটে ৩৭, তানাহুতে ৩০, নাওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ২৭ এবং রাসুয়ায় ১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে বন্যায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যার পর অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া চীনের অংশে প্রায় ৪০০ ভারতীয় আটকে পড়েছেন।

নেপালের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

গত বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া ও আশপাশের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। এরপর থেকে বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৬ জন নিরাপত্তাকর্মী, ৫১৭ জন বিদেশি পর্যটক এবং ১২৭ জন নেপালি পর্যটক রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বহু মানুষ দুর্গত ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভৈরবের আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উচ্চ মহলে লজ্জা পেতে হয়: প্রতিমন্ত্রী

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
ভৈরবের আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উচ্চ মহলে লজ্জা পেতে হয়: প্রতিমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সংঘর্ষ, হত্যাকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেছেন, ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে তাঁকে কখনো কখনো উচ্চ মহলে লজ্জায় পড়তে হয়।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভৈরব বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে বিভিন্ন সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক দিনে গ্রামের একটি বাজারের নাম নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন খুন হয়েছেন। বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীর ভাড়া নিয়ে তুচ্ছ ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভৈরব রেলস্টেশনে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া, মারামারি ও সংঘর্ষ হয়েছে। সর্বশেষ সাবেক কাউন্সিলর আল-আমিনকে হত্যা করা হয়েছে। গত দুই মাসে ভৈরবে এসব ঘটনা ঘটেছে।’

এসব সংঘর্ষের কারণে সড়ক ও রেলপথ তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। এসব ঘটনায় ভৈরবের বদনাম হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ৫০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ২০০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ভৈরব পৌরসভাসহ তিনি নিজেও সহযোগিতা করবেন বলে জানান।

তবে শুধু সিসি ক্যামেরা স্থাপন করলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার মানুষকেও সচেতন হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শরীফুল আলম বলেন, ‘ভৈরবের আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উচ্চ মহলে আমার লজ্জা পেতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভৈরব-কুলিয়ারচর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বারবার ঘটলে এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার সরকার দেশকে ধ্বংস করে গেছে। দেশে এখন গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে দুই বছর সময় দিতে হবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর এলাকার সংসদ সদস্য কোনো কাজ না করেই উন্নয়নের প্রচার করেছেন।

শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাসী নই, কাজে বিশ্বাসী।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুল হক জাভেদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) নজমুস সাকিব, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশিদ, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠান শেষে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে হুইলচেয়ার, সেলাই মেশিন, স্কুলব্যাগ ও স্প্রে মেশিন বিতরণ করেন।

পরে এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এরপর বিকেলে কুলিয়ারচর উপজেলায় কয়েকটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

তাড়াইলে পাটে নয়, স্বস্তি পাটকাঠিতে

রুহুল আমিন প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে পাটে নয়, স্বস্তি পাটকাঠিতে

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে এ বছর পাটের ভালো ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকেরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় পাটের বাজারমূল্য কম হওয়ায় অনেক কৃষক লোকসানের আশঙ্কা করছেন। তবে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে সেই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। ফলে এবার তাড়াইলে পাটকাঠি কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা, অলিগলি, পাকা সড়কের পাশ, মাঠ ও খোলা জায়গায় পাটকাঠি শুকাতে ব্যস্ত কৃষকেরা। পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে পাটকাঠি ফেলে না রেখে যত্ন করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করছেন তারা। পরে স্থানীয় বাজারে কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে এসব পাটকাঠি বিক্রি করছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে তাড়াইল উপজেলায় ৭০৪ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে।

কৃষকেরা জানান, কয়েক বছর আগেও পাটকাঠিকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। পাট থেকে আঁশ সংগ্রহের পর কাঠি অনেক সময় অবহেলায় ফেলে রাখা হতো। এর কিছু অংশ রান্নার জ্বালানি কিংবা ঘরের বেড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হলেও বাণিজ্যিকভাবে এর চাহিদা ছিল তুলনামূলক কম।

তবে সময়ের সঙ্গে পাটকাঠির ব্যবহার ও বাজার চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া ও ছাউনি তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে পাটকাঠি ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাটকাঠি কিনে নেওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরাও এর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের পাটচাষি চান্দু ভূঁইয়া বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও পাটখড়ির তেমন চাহিদা ছিল না। এখন এর বেশ চাহিদা রয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এবং ভালো দামও দিচ্ছেন। ১০০ মোঠা পাটকাঠি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু পাট নয়, এবার পাটখড়িও আমাদের মতো কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে।’

আরেক কৃষক আইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পাটকাঠি রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া ও ছাউনির কাজে ব্যবহার করি। এর পাশাপাশি বাইরের জেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা এসে পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে পাটকাঠি এখন আর ফেলে রাখার মতো কোনো পণ্য নয়।’

পাটকাঠির ব্যবসায়ী মনসুর আলী ও সামসুর রহমান জানান, তারা পাঁচ-ছয় বছর ধরে পাটকাঠির ব্যবসা করছেন। বর্তমানে পাটকাঠির চাহিদা ও দাম—দুটিই আগের তুলনায় বেশি। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে পাটকাঠি কিনে তারা বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তাড়াইলে এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদিত পাটের গুণগত মানও ভালো হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি পাটকাঠির বাজার তৈরি হওয়ায় কৃষকেরা পাটের আঁশের পাশাপাশি কাঠি বিক্রি করেও অতিরিক্ত আয় করছেন।

তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় বলেন, ‘উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেই পাটের ভালো ফলন হয়েছে। উৎপাদিত পাটের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি এ উপজেলার কৃষকেরা পাটখড়ি বিক্রি করেও বেশ লাভবান হচ্ছেন।’

কৃষকদের ভাষ্য, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে। তবে এ বছর পাটের কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলেও পাটকাঠির বাড়তি মূল্য তাদের লোকসানের চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করছে।

তাড়াইলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, সভাপতির ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, সভাপতির ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা

নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে তাড়াইল-করিমগঞ্জ সড়কের রায়জানি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন যুবক মিছিল বের করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। মিছিলের পর তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সিরাজীর দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে কয়েকজন যুবক হঠাৎ মিছিল নিয়ে তাড়াইল-করিমগঞ্জ সড়কে বের হন। এ সময় তাঁদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘তাড়াইল থানার মাটি, আওয়ামী লীগের ঘাঁটি’ এবং ‘ডাক দিয়েছেন ইসমাইল ভাই, ঘরে থাকার সময় নাই’—এ ধরনের স্লোগান দিতে শোনা যায়। কিছুক্ষণ মিছিল করার পর তাঁরা দ্রুত সড়ক থেকে সরে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলে তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে দেখা যায়নি। তবে মিছিলের পর তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ওই কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসমাইল সিরাজীর ফেসবুক পোস্টে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা (সুমন) এবং ‘বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক’ জি এস ওমানের নির্দেশনায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনসহ বিভিন্ন দাবিতে তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রত্যয়।’ পোস্টের শেষে আয়োজক হিসেবে ইসমাইল সিরাজীর নাম এবং ‘সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, তাড়াইল উপজেলা শাখা’ পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ফেসবুক পোস্টে মিছিলের আয়োজনের কথা উল্লেখ থাকলেও ইসমাইল হোসেন সিরাজী নিজে ওই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের এমন কর্মসূচির পর পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের দাবি, প্রকাশ্যে সড়কে ঝটিকা মিছিল হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের কয়েকজনের ভাষ্য, নিষিদ্ধঘোষিত কোনো সংগঠনের মিছিল বা সমাবেশের ঘটনা ঘটলে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত, ঘটনাস্থল ও আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ, আয়োজকদের বিষয়ে অনুসন্ধান এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কিন্তু তাড়াইলে এ ঘটনার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তাঁদের আরও দাবি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরও পুলিশের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা গা-ছাড়া মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে বলে তাঁদের মনে হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও তাঁরা মনে করেন।

এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, ‘আমরা খোঁজ-খবর রাখছি। মিছিলে উপস্থিত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারিনি।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিছিলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মিছিলের ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে জড়িতদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের এমন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের লোকজন।