কৃষিতে ১৮০ দিনের অগ্রগতি সন্তোষজনক, আমদানিনির্ভরতা ভাঙতে উদ্যোগ
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশ পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।
সারের মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার সারের মজুতও বেশি। সারের কৃত্রিম সংকটের কথা বলে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষি খাতের উন্নয়ন ও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রতি মাসে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ কৃষকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে। এরই মধ্যে পাইলট পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি জানান, গত ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে।
পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হতো। বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহারে ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের অবকাঠামোগত সুবিধা গড়ে তোলা হবে।
কৃষিপণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে কোনো কৃষিপণ্য যেন বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়। এ লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পাটবীজ, পেঁয়াজবীজ ও আদার ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা থেকে পর্যায়ক্রমে বের হয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষিতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে ‘ব্রি ১১৮’ জাতের ধানের চাষ শুরু হবে। হাওর অঞ্চলে প্রচলিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে এ জাতের ধান রোপণ করা সম্ভব হবে। ফলে আগাম বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেচ খরচ কৃষকদের জন্য বড় একটি চিন্তার বিষয়। সেচে ব্যবহৃত দেশের সব পাম্পকে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array