মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

চা-বাগান শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
চা-বাগান শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

সিলেট বিভাগের চা-বাগান শ্রমিকদের মধ্যে বেসরকারি খাতের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের সহায়তায় ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ১০ জন চা-শ্রমিকের হাতে রেইনকোট তুলে দিয়ে এ কার্যক্রমের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি চা-শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন।

সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ায় সুরক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় মোট ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ ৫ হাজার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপ ৫ হাজার রেইনকোট দেবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সমাজের সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে একটু একটু করে এগিয়ে এলে বড় অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে বেসরকারি খাতকে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, যারা এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসতে চায়, সরকার তাদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা বলেন, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাও বেসরকারি খাতের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহের কথা জানান তারা।

চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, সরকার এবং রেইনকোট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট চা-বাগানের শান্তি উড়িয়া, মাকড়িছড়া চা-বাগানের মুন্নী কুর্মি, ভাড়াউড়া চা-বাগানের জ্যোৎস্না আক্তার, রাজঘাট চা-বাগানের রিনা তাঁতী ও শশিকা ব্যানার্জি, মাজদিহি চা-বাগানের সন্তুকী রায়, কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী চা-বাগানের কবিতা কর্মকার, মাধবপুর চা-বাগানের সুজাতা বিশ্বাস, উত্তর আলীনগর চা-বাগানের রিতা রাণী বাউরী এবং পাত্রখোলা চা-বাগানের আফখাতুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকী রায় চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে চা-পাতা উপহার দেন।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউনিমেড এবং ইউনিহেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক হোসেন, বাপির উপদেষ্টা ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, বাপির কার্যকরী সদস্য ও এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজ্ সিমিন রহমান এবং বাপির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।

এ ছাড়া শেভরন বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক মো. ইমরুল কবির, অপারেশনস পরিচালক আশিক শেহজাদ রহমান, হেড অব কমিউনিটি এনগেজমেন্ট একেএম আরিফ আখতার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপের পিপল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স চিফ গোলাম হাবিব উপস্থিত ছিলেন।

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট বৃহস্পতিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট বৃহস্পতিবার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই প্রার্থীর কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে প্রায় ৩৫ বছর পর আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথ তৈরি হয়েছে।

বিকেল ৪টার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়াও তুলে ধরেন।

ইসি সচিব জানান, আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গ্রহণের শুরুতে নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের—যারা এ নির্বাচনের ভোটার—ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করবেন।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপার মঙ্গলবারই প্রস্তুত করা হবে। ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে—মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট পেপার। মুড়ি অংশে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম, বিভক্তি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর দিয়ে সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপার গ্রহণ করবেন।

আখতার আহমেদ বলেন, ‘একটি নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর করে ব্যালট নেবেন। ডান পাশের অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী সাজানো থাকবে। সেই অনুযায়ী তাঁদের নাম ছাপা হবে। নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা তাঁদের পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার জমা দেবেন।’

ইসি সচিব আরও জানান, বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপার গ্রহণ করে ভোট দিতে পারবেন। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরই ব্যালট গণনা করা হবে। ব্যালট পেপারের রং হবে সাদা, এর ওপর থাকবে কালো রঙের মুদ্রণ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে রয়েছেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। ভোট গ্রহণ শেষে সংসদকক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। গণনা শেষে নির্বাচনী কর্তা সেখানেই ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই প্রার্থী থাকায় এবার সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে একক প্রার্থী থাকায় ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

এবার দুই প্রার্থীর কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি ভোটের পর্যায়ে গড়িয়েছে। ফলে প্রায় তিন দশক পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কৃষিতে ১৮০ দিনের অগ্রগতি সন্তোষজনক, আমদানিনির্ভরতা ভাঙতে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
কৃষিতে ১৮০ দিনের অগ্রগতি সন্তোষজনক, আমদানিনির্ভরতা ভাঙতে উদ্যোগ

সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশ পর্যায়ক্রমে কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

সারের মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার সারের মজুতও বেশি। সারের কৃত্রিম সংকটের কথা বলে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কৃষি খাতের উন্নয়ন ও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রতি মাসে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ কৃষকের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে। এরই মধ্যে পাইলট পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে।

পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হতো। বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যবহারে ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের অবকাঠামোগত সুবিধা গড়ে তোলা হবে।

কৃষিপণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে কোনো কৃষিপণ্য যেন বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়। এ লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পাটবীজ, পেঁয়াজবীজ ও আদার ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা থেকে পর্যায়ক্রমে বের হয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষিতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে ‘ব্রি ১১৮’ জাতের ধানের চাষ শুরু হবে। হাওর অঞ্চলে প্রচলিত সময়ের ১০ থেকে ১৫ দিন আগে এ জাতের ধান রোপণ করা সম্ভব হবে। ফলে আগাম বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেচ খরচ কৃষকদের জন্য বড় একটি চিন্তার বিষয়। সেচে ব্যবহৃত দেশের সব পাম্পকে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের খসড়া আইনে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের খসড়া আইনে মন্ত্রিসভার অনুমোদন

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে প্রস্তাবিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো—বিদ্যমান র‌্যাব বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা। নতুন বাহিনীটি র‌্যাবের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং আইন অনুযায়ী এর কাঠামো, পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার বিধান নির্ধারিত হবে।

খসড়ায় নাগরিকদের অভিযোগ এবং এসআরবির সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন বাহিনীর কার্যক্রমে অভিযোগ নিষ্পত্তি ও জবাবদিহির একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া র‌্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন আইন কার্যকর হলে বিদ্যমান র‌্যাবের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদের ধারাবাহিকতা নতুন বাহিনীর মাধ্যমে বজায় রাখার ব্যবস্থা থাকবে।

খসড়া আইনে নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি ও বিভাগীয় কার্যধারার বিধান প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পরপরই প্রশাসনিক ও বিভাগীয় কার্যক্রমে যাতে কোনো ধরনের শূন্যতা তৈরি না হয়, সে জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। খসড়া আইনে র‌্যাবের বিদ্যমান জনবল ও সম্পদের পাশাপাশি চলমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার বিধানও রাখা হয়েছে।

এর আগে গত ৬ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশের তথ্য জানা যায়। প্রস্তাবিত আইনে এসআরবিকে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গঠনের কথা বলা হয়। খসড়া অনুযায়ী, বাহিনীটির প্রধান হবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক।

খসড়া আইনে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের মতো ক্ষমতার বিধানও রাখা হয়েছে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করার সুযোগও প্রস্তাবিত আইনে রয়েছে।

নতুন বাহিনীর ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিষয়টিকে খসড়া আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ, তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার সুযোগ থাকবে।

এখন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এরপর প্রস্তাবিত আইনটি সংসদে বিল আকারে উত্থাপন ও পাস হওয়ার পর আইন হিসেবে কার্যকর হলে র‌্যাবের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর পরিবর্তে এসআরবির নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।

ফলে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মধ্য দিয়ে র‌্যাব বিলুপ্ত করে নতুন নামে ও কাঠামোয় বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। তবে চূড়ান্তভাবে এসআরবি প্রতিষ্ঠা ও র‌্যাব বিলুপ্তি কার্যকর হতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41