মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

দুই পা হারিয়েও থামেননি শাহিন, চাকরির লড়াইয়ে মিলল আশার বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দুই পা হারিয়েও থামেননি শাহিন, চাকরির লড়াইয়ে মিলল আশার বার্তা

সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েও থেমে থাকেননি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের তরুণ শাহিন খান। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে একের পর এক চাকরির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগ না পাওয়ার দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে এসেছে নীতিনির্ধারকদের। এরই ধারাবাহিকতায় শাহিনের বিষয়ে যোগাযোগ করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের কার্যালয়।

আজ প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষাজীবন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারানোর ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন।

প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শাহিনকে জানানো হয়েছে, তার বিষয়টি গুরুত্ব ও সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কোনো বিশেষ সুবিধা বা করুণার পরিবর্তে তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়তার কথা বলা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শাহিনকে যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

শাহিন খান বলেন, তিনি কোনো বিশেষ অনুগ্রহ চান না। তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যেন মেধা ও যোগ্যতার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এটাই তার প্রত্যাশা।

প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যোগাযোগ ও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ায় শাহিন ও তার পরিবার নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চাকরির জন্য চেষ্টা করে আসা শাহিনের প্রত্যাশা, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে এবার একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও শাহিন যেভাবে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আসছেন, তা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার। তার কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারি পর্যায় থেকে উদ্যোগের খবরে কুলিয়ারচরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তবে শাহিনের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বা নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ নিয়োগে আবেদন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সংগ্রামের পর শাহিনের চাকরির প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাস্তবে রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

পাকুন্দিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর পাশে উপজেলা প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর পাশে উপজেলা প্রশাসন

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মিজান মিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ব্যবসা পুনরায় চালু করতে তাকে নগদ অর্থ, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও সহযোগিতার জন্য তার আবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার সুখিয়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মিজান মিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আবদুল মান্নান।

পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিজান মিয়ার হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন ইউএনও রূপম দাস। এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠনের জন্য তিন বান্ডিল ঢেউটিন ও আরও ৯ হাজার টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি তার আবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে ব্যবসা পুনরায় চালু করতে আরও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মিজান মিয়া বলেন, ‘আগুনে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে আমি অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। উপজেলা প্রশাসন আমার পাশে দাঁড়িয়ে নগদ অর্থ, ঢেউটিন ও আরও অনুদানের ব্যবস্থা করেছে। ইউএনও স্যারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। প্রশাসনের এ সহযোগিতায় আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন করে ব্যবসা শুরু করার সাহস পাচ্ছি।’

ইউএনও রূপম দাস বলেন, ‘মিজানের পুড়ে যাওয়া দোকানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিন বান্ডিল ঢেউটিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তার আবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে আরও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তিনি দ্রুত ব্যবসা পুনরায় চালু করতে পারেন।’

প্রসঙ্গত, গত ১১ আগস্ট উপজেলার সুখিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মিজান মিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মিজান মিয়া পাকুন্দিয়া উপজেলার আজলদী গ্রামের বাসিন্দা।

দুবাইয়ে ১ হাজার ট্যাক্সিচালক নেবে কোম্পানি, এ মাসেই সাক্ষাৎকার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
দুবাইয়ে ১ হাজার ট্যাক্সিচালক নেবে কোম্পানি, এ মাসেই সাক্ষাৎকার

বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ট্যাক্সিচালক নিয়োগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক একটি ট্যাক্সি কোম্পানি। এ লক্ষ্যে আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎকার ও বাছাই অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি আল আনাস ওভারসিজ (আরএল-২৭৩৫) এ নিয়োগ কার্যক্রমের স্থানীয় আয়োজন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে। যোগ্য প্রার্থীদের সরাসরি সাক্ষাৎকার ও বাছাই করতে দুবাইয়ের ওই কোম্পানির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে।

বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে কোম্পানি

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দুবাইয়ের ট্যাক্সি কোম্পানিটির একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ থেকে চালক নিয়োগের আগ্রহের কথা জানায়।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলটি জানায়, বর্তমানে বিশ্বের ২৭টি দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী তাদের প্রতিষ্ঠানে ট্যাক্সি ও লিমোজিন চালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজারই বাংলাদেশি।

প্রতিনিধিদলের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি কর্মীরা পরিশ্রমী হওয়ায় তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

আবেদনের যোগ্যতা

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীদের ন্যূনতম এসএসসি পাস হতে হবে। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২৩ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে

চাকরির মেয়াদ দুই বছর। তবে মেয়াদ শেষে তা নবায়নের সুযোগ থাকবে। নির্বাচিত কর্মীরা প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালা অনুযায়ী কমিশনভিত্তিক আয় করার সুযোগ পাবেন।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স, মেডিকেল পরীক্ষা এবং এমিরেটস আইডি-সংক্রান্ত ব্যয় কোম্পানি বহন করবে। পাশাপাশি কর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থাও করবে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে গাড়ি পাওয়ার তিন মাস পর আবাসন ও সংশ্লিষ্ট সুবিধার জন্য নির্ধারিত অর্থ প্রতি মাসে বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে বলে নিয়োগের শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য শর্ত ও সুযোগ-সুবিধা সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রম আইন এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

সাক্ষাৎকারে যেসব কাগজপত্র লাগবে

সরাসরি সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • মূল পাসপোর্ট;
  • পাসপোর্টের রঙিন ফটোকপি;
  • সাদা পটভূমির পাসপোর্ট সাইজের ছবি;
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এর রঙিন ফটোকপি;
  • জীবনবৃত্তান্ত (সিভি);
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের রঙিন ফটোকপি।

আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ সাক্ষাৎকার ও বাছাই অনুষ্ঠিত হবে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগকে সামনে রেখে আগ্রহী প্রার্থীদের নিয়োগের শর্ত, বেতন-ভাতা, কমিশন কাঠামো, আবাসন সুবিধা এবং অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে ও যাচাই করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর: প্রাপ্তি-প্রত্যাশার হিসাব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর: প্রাপ্তি-প্রত্যাশার হিসাব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফর শেষ হওয়ার পর জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সফরের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ায় দুটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ এবং ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণের ঘোষণা যেমন প্রশংসা পেয়েছে, তেমনি কিশোরগঞ্জ সদরসহ জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন উন্নয়ন দাবির বিষয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

প্রধানমন্ত্রীর ১৬ আগস্টের কিশোরগঞ্জ সফরকে ঘিরে আগে থেকেই জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সফরকালে পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দুটি সেতু নির্মাণের দাবি ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরদিনই সেতু দুটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়ার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, কিশোরগঞ্জ সদর ও জেলার অন্যান্য এলাকার দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোও সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল।

সিনিয়র সাংবাদিক মারুফ আহমেদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে পাকুন্দিয়ার দুটি সেতুর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই পাকুন্দিয়ার মানুষের জন্য ‘বিরাট সুখবর’ এসেছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন দুটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। ওই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে সরকারি স্মারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত সেতু দুটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর মুনিয়ারীকান্দা থেকে দত্তের বাজার এবং মির্জাপুর থেকে টাংগাবর পর্যন্ত নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে একই পোস্টে মারুফ আহমেদ কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মানুষের পক্ষ থেকেও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে কিশোরগঞ্জ সদরবাসীরও উন্নয়নসংক্রান্ত একাধিক দাবি জানানোর সুযোগ ছিল। উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগ, ইপিজেড স্থাপন, নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, বাইপাস নির্মাণ, বন্ধ টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস এবং চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর প্রশ্ন—দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা গেলে হয়তো সেগুলোর কিছু বিষয়ে উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব হতো। তাঁর ভাষায়, ‘দুর্ভাগ্য, আমরা চাইতেই পারলাম না।’

অন্যদিকে ইসলামী লেখক আশিক আশরাফ তাঁর ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আরও বিস্তৃত প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের সংস্কার এবং সেখানে নিমগাছ লাগানোর ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও জানতে চেয়েছেন, কিশোরগঞ্জবাসীর জন্য এর বাইরে কী উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তাঁর পোস্টে কিশোরগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে নরসুন্দা নদীর দুরবস্থা, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবার মান, সড়ক যোগাযোগ এবং ট্রেন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আশিক আশরাফের বক্তব্যের মূল প্রশ্ন হলো—দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত বলে মনে করা কিশোরগঞ্জ শহরের মানুষের প্রত্যাশা যেখানে ছিল অনেক, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সফরের দৃশ্যমান প্রাপ্তি যদি শোলাকিয়া মাঠের উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণের ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বৃহত্তর উন্নয়ন প্রত্যাশাগুলোর কী হবে?

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় মূলত দুটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে পাকুন্দিয়া-গফরগাঁও যোগাযোগে দুটি সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সরকারি উদ্যোগকে দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ সদর ও জেলার দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে আরও সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসায় কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করছেন।

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া এবং এর মধ্যে ৬ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছানোর ঘোষণাও সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। মাঠের সৌন্দর্যবর্ধন, মুসল্লিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, খেলাধুলার জন্য স্থান এবং নিমগাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় উঠে আসা মতামতগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মানুষের প্রত্যাশা শুধু একটি বা দুটি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নয়। সড়ক ও রেল যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্পায়ন, নদ-নদী, কর্মসংস্থান ও নগর অবকাঠামো—এসব বিষয়ও স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের আলোচনার অংশ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় আরেকটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্থানীয় দাবিগুলো কতটা সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া অংশে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে নির্দিষ্ট উন্নয়ন দাবি উত্থাপিত হওয়ার পর দ্রুত সরকারি উদ্যোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর বিপরীতে কিশোরগঞ্জ সদর ও জেলার অন্যান্য এলাকার দাবিগুলোও একইভাবে অগ্রাধিকার দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত সবসময় কোনো এলাকার সামগ্রিক জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে না। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরে ঘোষিত কোনো উদ্যোগের পূর্ণ বাস্তবায়নও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সম্ভাব্যতা যাচাই ও অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে। ফলে সফরের তাৎক্ষণিক ঘোষণাকে চূড়ান্ত প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগও নেই।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরকে ঘিরে একদিকে যেমন কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগের কথা এসেছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশাগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাকুন্দিয়া-গফরগাঁওয়ের দুটি সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন এবং বৃক্ষরোপণের ঘোষণা বাস্তবায়নের দিকে কত দ্রুত এগোয়, সেটি এখন দেখার বিষয়।

একই সঙ্গে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—সড়ক ও রেল যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, শিল্পায়ন, নদী পুনরুদ্ধার, নগর অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানসহ বৃহত্তর কিশোরগঞ্জের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হয়েছে; এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে তাই একটি প্রশ্নই—সফরে ঘোষিত উদ্যোগগুলো কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং কিশোরগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাগুলোর কতটা পূরণ হয়?


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41