মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করায় কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ এমপি জালালের

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করায় কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ এমপি জালালের

জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ও কর্মসূচি সফল, সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানানোর পর নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বার্তায় অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, ‘এইমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে টোক ব্রিজ থেকে বিদায় দিলাম। আজ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, চাড়িপাড়া হ্যাচারি পরিদর্শন এবং কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল ও সার্থকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো এবং পুরো কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপি, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপি, কটিয়াদী পৌর বিএনপি ও পাকুন্দিয়া পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়েক দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। একই সঙ্গে দুই উপজেলার সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীরাও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংসদ সদস্য বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং অনুষ্ঠানে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়নের সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।

অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার মূল সমস্যাগুলো এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সব দলীয় কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করব এবং কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের মাধ্যমে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন করা হবে। এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সবশেষে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও ঐক্যের সঙ্গে কাজ করায় কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

টেস্টে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে বিশেষ ক্লাসে বাধ্য করা

গুজাদিয়া আব্দুল হেকিম বিদ্যালয়ে ‘বিশেষ ক্লাসের’ নামে প্রাইভেট বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ
গুজাদিয়া আব্দুল হেকিম বিদ্যালয়ে ‘বিশেষ ক্লাসের’ নামে প্রাইভেট বাণিজ্যের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া আব্দুল হেকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ‘বিশেষ ক্লাসের’ নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো বলেও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর অভিযোগ। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকরা দাবি করছেন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের আবেদনের ভিত্তিতেই বিশেষ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৮টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছে। তাদের মধ্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মাসে ৪০০ টাকা করে নিয়ে শিক্ষক ওমর ফারুক কাঞ্চন, আব্দুল আউয়াল ও হযরত আলী তাদের পড়ান।

শিক্ষার্থীরা জানায়, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিকেলে পড়ানো হয়। প্রতিদিন সকাল ৮টায় ওমর ফারুক কাঞ্চন এবং সকাল ৯টা থেকে আব্দুল আউয়াল ক্লাস নেন। অন্য সময়ে হযরত আলী পড়ান।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বহিরাগত কয়েকজনের আড্ডা ছিল। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়। পরে একজন শিক্ষক এসে শ্রেণিকক্ষের তালা খুলে শিক্ষার্থীদের ভেতরে নিয়ে ক্লাস শুরু করেন।

সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণ কয়েকজন শিক্ষার্থী রিফাত, সাজিম ও জেরিন অভিযোগ করেন, শিক্ষক আব্দুল আউয়ালের কাছে প্রাইভেট না পড়লে টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়েছে বলে তারা দাবি করে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল আউয়ালের বক্তব্যও প্রতিবেদনে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে এবং অভিভাবকদের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে বিশেষ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তবে অভিভাবকদের নামে জমা দেওয়া ওই আবেদনপত্রে বিভিন্ন অসঙ্গতি রয়েছে বলে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে।

শিক্ষক ওমর ফারুক কাঞ্চনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

তবে সরেজমিনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাথীসহ রোল নম্বর ১০-এর মধ্যে থাকা চারজন এবং নবম ও দশম শ্রেণির সাত-আটজন মেধাবী শিক্ষার্থীও ছিল বলে দেখা যায়। ফলে শুধু দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস নেওয়ার দাবির সঙ্গে সরেজমিনের চিত্রের অসঙ্গতি রয়েছে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ ক্লাস চলতে দেখা গেলেও সকাল ১০টার পরও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়েও বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের পাঠদানের অজুহাতে কিছু শিক্ষক মূলত অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। তাঁদের দাবি, বিশেষ ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো কোনো শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

এক শিক্ষককের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ছয় মাস আগে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের একটি গাছ দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকলেও সেটি সংরক্ষণ বা অপসারণে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়েও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ ফকির মুঠোফোনে বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনেই বিশেষ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে নীতিমালার কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি দেখানোর জন্য বিদ্যালয়ে আসার কথা বললেও পরবর্তীতে আর আসেননি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম তুহিন বলেন, ‘বিশেষ ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি। তবে এর বিস্তারিত প্রধান শিক্ষকই বলতে পারবেন। আমি কমিটিতে নতুন এসেছি। গাছ নষ্ট হওয়া, প্রাইভেটের নামে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা এবং বখাটেদের উৎপাতের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

অভিযোগগুলোর বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

এদিকে, অন্য একটি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নির্দেশনা অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরে—ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত—বিশেষ ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো কিংবা অর্থের বিনিময়ে কোচিংয়ে বাধ্য করা নিষিদ্ধ।

অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি নির্দেশনা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নবনিযুক্ত পিপি মিজানুর রহমানকে কুলিয়ারচরের আইনজীবীদের শুভেচ্ছা

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
নবনিযুক্ত পিপি মিজানুর রহমানকে কুলিয়ারচরের আইনজীবীদের শুভেচ্ছা

কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কুলিয়ারচরের আইনজীবী পরিবার।

সম্প্রতি এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে কুলিয়ারচর আইনজীবী পরিবারের সদস্যরা নবনিযুক্ত পিপি মো. মিজানুর রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তাঁরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. তাজুল ইসলাম আলম, আইনজীবী মো. সোহেল মিয়া এবং কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো. মফিজুল ইসলাম মুরাদসহ অন্যান্য আইনজীবী।

এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান তাঁর দীর্ঘ আইন পেশার অভিজ্ঞতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেও তাঁরা প্রত্যাশা করেন।

শুভেচ্ছার জবাবে নবনিযুক্ত পিপি মো. মিজানুর রহমান কুলিয়ারচরের আইনজীবীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশ কি ভারতকে হতাশ করে, এবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলবে?

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ কি ভারতকে হতাশ করে, এবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলবে?

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বড় লাফ দিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে শুধু বাংলাদেশের অবস্থানই শক্ত হয়নি, সরাসরি চাপ বেড়েছে ভারতের ওপরও। ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে শুভমন গিলদের পথ এখন আগের চেয়ে অনেক কঠিন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর পাঁচটি টেস্টে বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬.৬৭। ম্যাচটির আগে যা ছিল ৫৮.৩৩। ফলে পয়েন্ট তালিকায় চার নম্বরে উঠে এসে বাংলাদেশ এখন ফাইনালের দৌড়ে থাকা শীর্ষ দলগুলোর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে।

বাংলাদেশের এই উত্থানের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ভারতের অবস্থানে। নয়টি টেস্ট খেলে ভারতের পয়েন্ট শতাংশ এখন ৪৮.১৫। তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা ভারতকে টপকে বাংলাদেশ চলে এসেছে চার নম্বরে। অর্থাৎ ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে শুভমন গিলদের প্রায় নিখুঁত ফল করতে হবে।

পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবশ্য অস্ট্রেলিয়াই রয়েছে। বাংলাদেশের কাছে প্রথমবার টেস্টে হারলেও নয়টি টেস্টে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৭৭.৭৮। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা—চার টেস্টে ৭৫ শতাংশ। তৃতীয় নিউজিল্যান্ড—ছয় টেস্টে ৭২.২২ শতাংশ।

বাংলাদেশের ঠিক পেছনে ভারত। আর ভারতের পরেই রয়েছে শ্রীলঙ্কা, যাদের পয়েন্ট শতাংশ ৪১.৬৭। ফলে মাঝের সারিতেও লড়াই বেশ জমে উঠেছে।

ভারতের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান গল টেস্টের ফলাফলে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ফল না এলে ভারতের পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ কমে যেতে পারে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি ম্যাচের ফলই এখন ভারতের ফাইনাল-যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তালিকার সাত নম্বরে ইংল্যান্ড। ১৩টি টেস্ট খেলে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ২৪.৩৬। পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে নিচের দিকে। ছয় টেস্টে পাকিস্তানের পয়েন্ট শতাংশ ২২.২২ এবং ১২ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০.৮৩।

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক জয়ই পায়নি, বদলে দিয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সমীকরণও। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশ এখন শক্ত অবস্থানে, আর ভারতকে সেই লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে সামনে বড় প্রত্যাবর্তন দরকার।

 


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41