বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

টেস্টে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে বিশেষ ক্লাসে বাধ্য করা

গুজাদিয়া আব্দুল হেকিম বিদ্যালয়ে ‘বিশেষ ক্লাসের’ নামে প্রাইভেট বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গুজাদিয়া আব্দুল হেকিম বিদ্যালয়ে ‘বিশেষ ক্লাসের’ নামে প্রাইভেট বাণিজ্যের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া আব্দুল হেকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ‘বিশেষ ক্লাসের’ নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো বলেও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর অভিযোগ। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকরা দাবি করছেন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের আবেদনের ভিত্তিতেই বিশেষ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৮টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছে। তাদের মধ্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মাসে ৪০০ টাকা করে নিয়ে শিক্ষক ওমর ফারুক কাঞ্চন, আব্দুল আউয়াল ও হযরত আলী তাদের পড়ান।

শিক্ষার্থীরা জানায়, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিকেলে পড়ানো হয়। প্রতিদিন সকাল ৮টায় ওমর ফারুক কাঞ্চন এবং সকাল ৯টা থেকে আব্দুল আউয়াল ক্লাস নেন। অন্য সময়ে হযরত আলী পড়ান।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বহিরাগত কয়েকজনের আড্ডা ছিল। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সেখান থেকে চলে যায়। পরে একজন শিক্ষক এসে শ্রেণিকক্ষের তালা খুলে শিক্ষার্থীদের ভেতরে নিয়ে ক্লাস শুরু করেন।

সদ্য এসএসসি উত্তীর্ণ কয়েকজন শিক্ষার্থী রিফাত, সাজিম ও জেরিন অভিযোগ করেন, শিক্ষক আব্দুল আউয়ালের কাছে প্রাইভেট না পড়লে টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়েছে বলে তারা দাবি করে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল আউয়ালের বক্তব্যও প্রতিবেদনে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে এবং অভিভাবকদের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে বিশেষ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তবে অভিভাবকদের নামে জমা দেওয়া ওই আবেদনপত্রে বিভিন্ন অসঙ্গতি রয়েছে বলে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে।

শিক্ষক ওমর ফারুক কাঞ্চনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

তবে সরেজমিনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাথীসহ রোল নম্বর ১০-এর মধ্যে থাকা চারজন এবং নবম ও দশম শ্রেণির সাত-আটজন মেধাবী শিক্ষার্থীও ছিল বলে দেখা যায়। ফলে শুধু দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস নেওয়ার দাবির সঙ্গে সরেজমিনের চিত্রের অসঙ্গতি রয়েছে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশেষ ক্লাস চলতে দেখা গেলেও সকাল ১০টার পরও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়েও বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের পাঠদানের অজুহাতে কিছু শিক্ষক মূলত অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। তাঁদের দাবি, বিশেষ ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং কোনো কোনো শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।

এক শিক্ষককের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ছয় মাস আগে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের একটি গাছ দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকলেও সেটি সংরক্ষণ বা অপসারণে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়েও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ ফকির মুঠোফোনে বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনেই বিশেষ ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে নীতিমালার কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি দেখানোর জন্য বিদ্যালয়ে আসার কথা বললেও পরবর্তীতে আর আসেননি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম তুহিন বলেন, ‘বিশেষ ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি। তবে এর বিস্তারিত প্রধান শিক্ষকই বলতে পারবেন। আমি কমিটিতে নতুন এসেছি। গাছ নষ্ট হওয়া, প্রাইভেটের নামে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা এবং বখাটেদের উৎপাতের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

অভিযোগগুলোর বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

এদিকে, অন্য একটি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নির্দেশনা অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরে—ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত—বিশেষ ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো কিংবা অর্থের বিনিময়ে কোচিংয়ে বাধ্য করা নিষিদ্ধ।

অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি নির্দেশনা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নবনিযুক্ত পিপি মিজানুর রহমানকে কুলিয়ারচরের আইনজীবীদের শুভেচ্ছা

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
নবনিযুক্ত পিপি মিজানুর রহমানকে কুলিয়ারচরের আইনজীবীদের শুভেচ্ছা

কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কুলিয়ারচরের আইনজীবী পরিবার।

সম্প্রতি এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে কুলিয়ারচর আইনজীবী পরিবারের সদস্যরা নবনিযুক্ত পিপি মো. মিজানুর রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তাঁরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. তাজুল ইসলাম আলম, আইনজীবী মো. সোহেল মিয়া এবং কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী মো. মফিজুল ইসলাম মুরাদসহ অন্যান্য আইনজীবী।

এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান তাঁর দীর্ঘ আইন পেশার অভিজ্ঞতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জের বিচারপ্রার্থী মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেও তাঁরা প্রত্যাশা করেন।

শুভেচ্ছার জবাবে নবনিযুক্ত পিপি মো. মিজানুর রহমান কুলিয়ারচরের আইনজীবীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশ কি ভারতকে হতাশ করে, এবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলবে?

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ কি ভারতকে হতাশ করে, এবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলবে?

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বড় লাফ দিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে শুধু বাংলাদেশের অবস্থানই শক্ত হয়নি, সরাসরি চাপ বেড়েছে ভারতের ওপরও। ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার দৌড়ে শুভমন গিলদের পথ এখন আগের চেয়ে অনেক কঠিন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর পাঁচটি টেস্টে বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬.৬৭। ম্যাচটির আগে যা ছিল ৫৮.৩৩। ফলে পয়েন্ট তালিকায় চার নম্বরে উঠে এসে বাংলাদেশ এখন ফাইনালের দৌড়ে থাকা শীর্ষ দলগুলোর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে।

বাংলাদেশের এই উত্থানের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ভারতের অবস্থানে। নয়টি টেস্ট খেলে ভারতের পয়েন্ট শতাংশ এখন ৪৮.১৫। তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা ভারতকে টপকে বাংলাদেশ চলে এসেছে চার নম্বরে। অর্থাৎ ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে শুভমন গিলদের প্রায় নিখুঁত ফল করতে হবে।

পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবশ্য অস্ট্রেলিয়াই রয়েছে। বাংলাদেশের কাছে প্রথমবার টেস্টে হারলেও নয়টি টেস্টে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ৭৭.৭৮। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা—চার টেস্টে ৭৫ শতাংশ। তৃতীয় নিউজিল্যান্ড—ছয় টেস্টে ৭২.২২ শতাংশ।

বাংলাদেশের ঠিক পেছনে ভারত। আর ভারতের পরেই রয়েছে শ্রীলঙ্কা, যাদের পয়েন্ট শতাংশ ৪১.৬৭। ফলে মাঝের সারিতেও লড়াই বেশ জমে উঠেছে।

ভারতের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান গল টেস্টের ফলাফলে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ফল না এলে ভারতের পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ কমে যেতে পারে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি ম্যাচের ফলই এখন ভারতের ফাইনাল-যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তালিকার সাত নম্বরে ইংল্যান্ড। ১৩টি টেস্ট খেলে তাদের পয়েন্ট শতাংশ ২৪.৩৬। পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে নিচের দিকে। ছয় টেস্টে পাকিস্তানের পয়েন্ট শতাংশ ২২.২২ এবং ১২ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২০.৮৩।

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক জয়ই পায়নি, বদলে দিয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সমীকরণও। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশ এখন শক্ত অবস্থানে, আর ভারতকে সেই লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে সামনে বড় প্রত্যাবর্তন দরকার।

 

ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ, এক সপ্তাহে আক্রান্ত অর্ধশতাধিক

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ, এক সপ্তাহে আক্রান্ত অর্ধশতাধিক

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হঠাৎ বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা অর্ধশতাধিক মানুষের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ভৈরবপুর ও কালিপুর এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।সম্প্রতি ভৈরবপুর গ্রামের হাজি আলীম উদ্দিনের বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ মোশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এবং ভৈরব পৌরসভার সমন্বয়ে একটি ভিজিল্যান্স টিম ওই বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে সরেজমিনে পরিদর্শন ও কীটতাত্ত্বিক জরিপ চালায়।জরিপকালে একটি পাত্রে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে ওই এলাকায় মশক নিধনে কীটনাশক ছিটানো হয়।কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ মোশফিকুর রহমান বলেন, গত তিন দিনে ভৈরবপুর এলাকায় ১০ জন এবং কালিপুর এলাকায় ৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ভৈরবপুর এলাকায় কীটতাত্ত্বিক জরিপ চালানো হয়।মোশফিকুর রহমান বলেন, ‘হাজি আলীম উদ্দিনের বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। বাড়িটিতে গিয়ে একটি পাত্রে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি পাওয়া যায়। পানিতে ময়লা-আবর্জনাও ছিল। পরীক্ষা করে সেখানে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।’তিনি আরও বলেন, এডিস মশার লার্ভা থেকে কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ মশা তৈরি হতে পারে। ডেঙ্গু ও এডিস মশার বিস্তার রোধে শুধু কীটনাশক ছিটালেই হবে না, বাড়াতে হবে জনসচেতনতা। বাড়ির বারান্দা, আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কিশোর কুমার ধর বলেন, ‘গত চার-পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আবার কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু প্রশাসনের মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তি পর্যায়েও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41