ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ, এক সপ্তাহে আক্রান্ত অর্ধশতাধিক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হঠাৎ বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা অর্ধশতাধিক মানুষের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ভৈরবপুর ও কালিপুর এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।সম্প্রতি ভৈরবপুর গ্রামের হাজি আলীম উদ্দিনের বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ মোশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এবং ভৈরব পৌরসভার সমন্বয়ে একটি ভিজিল্যান্স টিম ওই বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে সরেজমিনে পরিদর্শন ও কীটতাত্ত্বিক জরিপ চালায়।জরিপকালে একটি পাত্রে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরে ওই এলাকায় মশক নিধনে কীটনাশক ছিটানো হয়।কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ মোশফিকুর রহমান বলেন, গত তিন দিনে ভৈরবপুর এলাকায় ১০ জন এবং কালিপুর এলাকায় ৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ভৈরবপুর এলাকায় কীটতাত্ত্বিক জরিপ চালানো হয়।মোশফিকুর রহমান বলেন, ‘হাজি আলীম উদ্দিনের বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। বাড়িটিতে গিয়ে একটি পাত্রে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি পাওয়া যায়। পানিতে ময়লা-আবর্জনাও ছিল। পরীক্ষা করে সেখানে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।’তিনি আরও বলেন, এডিস মশার লার্ভা থেকে কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ মশা তৈরি হতে পারে। ডেঙ্গু ও এডিস মশার বিস্তার রোধে শুধু কীটনাশক ছিটালেই হবে না, বাড়াতে হবে জনসচেতনতা। বাড়ির বারান্দা, আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে। কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কিশোর কুমার ধর বলেন, ‘গত চার-পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আবার কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু প্রশাসনের মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তি পর্যায়েও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array